যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের অবস্থানের সময়সীমা নির্দিষ্ট করার ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ভিসা নীতি কার্যকর হওয়ার এক দিন আগে স্থগিত করেছেন ফেডারেল আদালত। একই সময়ে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য প্রস্তাবিত ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধেও ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে মামলা হয়েছে।
২০২৫ সালের আগস্টে প্রস্তাবিত ভিসা নীতি অনুযায়ী, এফ ভিসাধারী বিদেশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ চার বছর অবস্থান করতে পারবেন। বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২৪০ দিন, তবে আরও ২৪০ দিন থাকার আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছিল। মার্কিন শ্রমিক ইউনিয়ন ও উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সংগঠনগুলোর জোটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বোস্টনের ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক এফ ডেনিস সেলর চতুর্থ নীতিটি কার্যকর হওয়ার এক দিন আগে স্থগিত করেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নিয়োগ দেওয়া বিচারক সেলর বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমে কোটি কোটি শিক্ষাবিদ গবেষণা ও অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে অবদান রেখেছেন। নতুন নীতির কারণে উচ্চশিক্ষা ও মার্কিন অর্থনীতিতে ক্ষতি বিপর্যয়কর হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত নীতির আওতায় প্রায় ১৬ লাখ এফ ভিসাধারী বিদেশি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির প্রায় ৫ লাখ জে ভিসাধারী অংশগ্রহণকারী পড়তেন। জাতীয় নিরাপত্তা ও ভিসা জালিয়াতি ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার পক্ষে প্রশাসনের দেওয়া যুক্তিও বিচারক সেলর দুর্বল বলে মন্তব্য করেন। এদিকে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধেও আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয়সহ ২২টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি নীতিটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ছয়টি শহর ও কাউন্টিও পৃথক মামলায় নীতিটিকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো গ্রিন কার্ড আবেদনকারীকে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করা হলে তাঁর স্থায়ী বসবাসের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। নতুন নীতিতে সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে বিদ্যমান স্পষ্ট নির্দেশনা সরিয়ে দিয়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের ক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি মেডিকেইড, খাবার কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তাও বিবেচনায় আসতে পারে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, নীতিটির লক্ষ্য অভিবাসী পরিবারগুলোকে এমন কর্মসূচি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া, যেগুলো বহু দশক ধরে মানুষকে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।
মামলাকারীদের দাবি, গ্রিন কার্ডের যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের। প্রশাসন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে নতুন নীতি কার্যকর করে আইনি ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। তাঁদের মতে, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তার মতো বৈধ সরকারি সুবিধা গ্রহণের কারণে কারও স্থায়ী বসবাসের আবেদন বাতিল করা বেআইনি।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্য করুন