যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ভিসার নতুন সাক্ষাৎকার আপয়েন্টমেন্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। ২৭ মে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক অভ্যন্তরীণ কেবলের মাধ্যমে বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে এই নির্দেশনা দিয়েছেন।
নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী এখনও সাক্ষাৎকারের তারিখ নির্ধারণ করেননি তাদের আপয়েন্টমেন্ট নেওয়া আপাতত সম্ভব নয়। তবে যারা ইতোমধ্যে সাক্ষাৎকার নির্ধারণ করেছেন, তাদের প্রক্রিয়া পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী চলবে। এ পদক্ষেপের পেছনে মূল কারণ হিসেবে বলা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্রিনিংয়ের সম্প্রসারণ। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভাষায়, শিক্ষার্থীদের সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম এখন থেকে আরও গভীরভাবে যাচাই করা হবে। এতে দূতাবাসগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ায় নতুন সাক্ষাৎকার স্থগিত করা হয়েছে।
এই উদ্যোগের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার দেশগুলো থেকে যেসব শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন বা আবেদন প্রক্রিয়ায় আছেন তারা সমস্যায় পড়তে পারেন।
এর আগে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ঘোষণা দেয়, ভিসা আবেদনকারীদের মধ্যে ইহুদি-বিরোধী কার্যকলাপ এবং ইহুদিদের প্রতি শারীরিক হুমকি সংক্রান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আচরণ খতিয়ে দেখা হবে। এর ধারাবাহিকতায় এবার আরও বড় পরিসরে সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলো।
এদিকে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনও এই নীতিগত পরিবর্তনের পটভূমিতে আছে। সম্প্রতি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি হার্ভার্ডকে জানায়, তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। যদিও আদালত তাৎক্ষণিকভাবে সেই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে। ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের জন্য কিছু ছাত্রের ভিসা বাতিল বা গ্রেফতারের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যেমন কোলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহসেন মাহদাওয়ি এবং মাহমুদ খালিল এই ধরনের পরিস্থিতির শিকার হন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের নামে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় মতাদর্শকে টার্গেট করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা নীতির উন্মুক্ততা ও বহুজাতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শিগগিরই নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে। তবে ততদিন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর কয়েক লক্ষ বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, যারা দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। নতুন এই নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।
মন্তব্য করুন