২৬ অগাস্ট ২০২৫, ১:৪৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা পোড়ালে এক বছরের কারাদণ্ড : ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা পোড়ালে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। গতকাল সোমবার এমন একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাতারি সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদেশ স্বাক্ষরের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘পতাকা পোড়ালে আপনার এক বছরের জন্য জেল হবে। কোনো আগাম মুক্তি মিলবে না। এবং এটা কার্যকর হতে শুরু করলে দেখা যাবে খুব অল্প সময়ের মধ্যে পতাকা পোড়ানো বন্ধ হয়ে যাবে।’

 

 

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করছে একপক্ষ। উল্লেখ্য, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী, পতাকা পোড়ানোকে বহুদিন ধরেই আদালত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৮৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, পতাকা পোড়ানো বাকস্বাধীনতার অংশ। তবে ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত নতুন আদেশে বলা হয়েছে, এই কাজটি ‘তাৎক্ষণিকভাবে বেআইনি কার্যকলাপ উসকে দিতে পারে।’ সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দিতে চাইছেন, আর এতে নাগরিকদের মৌলিক স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হচ্ছে।

 

 

বাকস্বাধীনতার পক্ষে কাজ করা সংস্থা ফায়ার বা এফআইআরই (ফাউন্ডেশন ফর ইনডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো বিশ্বাস করেন যে তিনি এক কলমের খোঁচায় প্রথম সংশোধনী পরিবর্তন করতে পারেন, কিন্তু তিনি তা পারেন না। প্রেসিডেন্টসহ অনেক মার্কিনও যদি সেটিকে খুব অপমানজনক বা উসকানিমূলক মনে করেন তবুও সুরক্ষিত মতপ্রকাশের কার্যকলাপের জন্য সরকার কারও বিচার করতে পারে না।’

 

 

গতকাল স্বাক্ষরিত ওই আদেশে কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করা হয়েছে যে, বিদেশি নাগরিকেরা মার্কিনদের ভয় দেখানো ও হুমকি দেওয়ার জন্য পতাকা পোড়াচ্ছে। এই আদেশে বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা বাতিল, নির্বাসন এবং আরও কঠোর ব্যবস্থার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। আদেশে পতাকা পোড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের কঠোরভাবে বিচার করতে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।

 

আদেশে বলা হয়েছে, পতাকা পোড়ানো আসলে ‘উসকানি’ বা ‘লড়াইয়ের ভাষা’র মতো কাজ। ট্রাম্পের দাবি, এ ধরনের কাজ ‘দাঙ্গা উসকে দেয়।’ তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি। এবং তাঁর এই দাবি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

 

প্রথম সংশোধনী নিয়ে কাজ করেন কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক জি. এস. হ্যান্স। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না পতাকা পড়ানো কোনো বড় সমস্যা। আর এ নিয়ে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ বরং যেখানে কোনো সমস্যা নেই, সেখানে জোর করে সমাধান চাপিয়ে দেওয়া।’

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘ডনরো ডকট্রিন’ প্রয়োগে ২৬ প্রভাবশালীর মার্কিন ভিসা বাতিল

কমলগঞ্জে উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্বোধন করলেন এমপি মুজিবুর রহমান

বড়লেখায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট নিয়ে বিভ্রান্তি, অতঃপর যা জানা গেল

পোপের মন্তব্য: কয়েকজন স্বৈরশাসকের যুদ্ধেই বিপদে মানবসভ্যতা

পারমিট ছাড়া হজ পালন, সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল জরিমানা

বিবিসির বড় ছাঁটাই: ২ হাজার কর্মী চাকরি হারাতে পারেন

ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিতের প্রস্তাব ফের নাকচ মার্কিন সিনেটে

যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাচ্ছে ‘রাক্ষস’, মিশিগানে নির্ধারিত শিডিউল ঘোষণা

টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর অন্তর্ভুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মৌলভীবাজারবাসীর দুই কমিটি ভেঙে ঐক্যের বার্তা, মিশিগানে গঠিত নতুন নেতৃত্ব

১০

যুদ্ধ পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ধাক্কার সতর্কবার্তা: আইএমএফ

১১

উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, সোস্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড়

১২

ভারতের আধিপত্যে প্রশ্নের মুখে বিশ্ব ক্রিকেট, মোস্তাফিজ ইস্যুতে সমালোচনা

১৩

কমলগঞ্জে দিনভর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ১৪৩৩ উদযাপিত হয়

১৪

বড়লেখায় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা

১৫

নিউইয়র্কে বৈশাখী উৎসব: “ABCH পটলাক পান্তা ইলিশ”-এ প্রবাসীদের মিলনমেলা

১৬

কানাডার এমপি হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম

১৭

হরমুজ প্রণালি অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেবে না ন্যাটো

১৮

যিশু খ্রিস্টের সঙ্গে নিজের তুলনা টানলেন ট্রাম্প

১৯

কমলগঞ্জে উন্নয়নের জোয়ার: ৩ টি সড়ক ও ১টি খাল খনন কাজের উদ্বোধন

২০