যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দেশ ছাড়ার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড সংখ্যক আমেরিকান যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি মার্কিন নাগরিক যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। ২০০৪ সালে দু দেশের মধ্যে এ নিয়ে তুলনাযোগ্য রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বোচ্চ।
ব্রিটিশ হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে ৬ হাজার ৬১৮ জন মার্কিন নাগরিক যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব চেয়ে আবেদন করেছেন। যাদের মধ্যে, ১ হাজার ৯০০ জনই আবেদন করেছেন চলতি বছর জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে। এই তিন মাসে জমা পড়া আবেদনের সিংহভাগই এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেকের পরে। ২০২৫ সালের শুরুতে আবেদনসংখ্যায় যে উল্লম্ফন দেখা গেছে, তা যেকোনো একক ত্রৈমাসিকের মধ্যে রেকর্ড সর্বোচ্চ।
এই পরিসংখ্যান এমন এক সময় এল, যখন ব্রিটেন সরকার অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সীমান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদনের জন্য ৫ বছরের বদলে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে ব্রিটিশ সরকারের নতুন এই নীতি ঘোষণার কারণে আরও বেড়ে যেতে পারে আবেদনের সংখ্যা।
গত ১২ মে অভিবাসন সংক্রান্ত নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করে ব্রিটেন সরকার। নতুন নীতি অনুযায়ী, অধিকাংশ অভিবাসীকে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হলে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। তবে, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি দেশের অর্থনীতি ও সমাজে ‘বাস্তব ও স্থায়ী অবদান’ রেখেছেন, তাহলে তিনি ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আবেদন করতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ, যারা নিয়মিত আয়কর দেন, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) চিকিৎসক, নার্স বা হাসপাতালের কর্মী, বা ব্যতিক্রমী স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত আছেন তাঁদের জন্য এই সুযোগ থাকবে।
মন্তব্য করুন