রকস্টার জেমস মানেই তারুণ্যের উন্মাদনা। জেমস মানেই জনতার ঢল। জেমস মানেই জমজমাট গানের আসর। মিশিগানে সেই রকম এক আসরে তারুণ্যে মেতেছিলো জেমস উন্মাদনায়।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট সিটির বাংলা টাউনের জেইন ফিল্ডে হাজার হাজার দর্শক মাতিয়ে গেলেন বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিকের বরপুত্র ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস। যাকে নগরবাউল ও রকস্টার জেমস হিসেবে জানে পুরো পৃথিবী।
নর্থ আমেরিকান বাংলাদেশি ফেস্টিভ্যাল-এর ২২তম আসরে শেষ দিনটি জেমস উন্মাদনায় মেতেছিলো পুরো মিশিগান। রবিবার (৩০ জুলাই) ছুটির দিনের রোদেলা বিকেলে মিশিগানের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার দর্শক এসে বাংলাটাউনের জেইন ফিল্ডে জড়ো হতে থাকেন। অন্যান্য শিল্পীদের সূরের মূর্ছনায় ভেসে যাওয়া হাজার হাজার দর্শক অপেক্ষায় ছিলেন কখন দেখা মিলবে প্রিয় রকস্টারের।
সন্ধ্যা ৯টা। জেইন ফিল্ড তখন কানায় কানায় পূর্ণ । একে একে মঞ্চে উঠে আসেন নগরবাউলের মিউজিশিয়ানরা। বেস গীটার, লীড গীটার, কী-বোর্ড, ড্রাম, অক্টোপ্যাডসহ যাবর্তীয় মিউজিক ইন্সট্রুমেন্ট টিউনিং পর্ব শেষ করে নেন তারা। ঘড়ির কাটা ১০টায় পৌছাতেই মঞ্চে উঠে আসেন হাজার হাজার দর্শকের বহুল কাঙ্খিত ব্যান্ড মিউজিকের গুরু খ্যাত জেমস। দর্শকরা চিৎকার করে প্রিয় গুরুকে ভালোবাসা জানাতে থাকেন। মঞ্চে উঠে রকস্টার জেমস নিজেও একবার সাউন্ড সিষ্টেমের সাথে টিউনিং করে প্রথমে গেয়ে উঠেন নিজের জনপ্রিয় গান…
কবিতা তুমি স্বপ্নচারিনী হয়ে খবর নিও না, কবিতা এই নিশাচর আমায় ভেব না সুখের মোহনা, দেখবে আমাদের ভালোবাসা ছোঁয়ে গেছে কত যেন পদ্ম পাতার জল…
এরপর একে একে নগর বাউল জেমস’র পরিবেশনা-দিওয়ানা দিওয়ানা তোমার প্রেমে দিওয়ানা, দুষ্টু ছেলের দল ছন্নছাড়ার দল। ততক্ষণে তারুণ্যের উন্মাদনায় ভেসে গেছে পুরো জেইন ফিল্ড। দর্শকদের চাপে ভেঙে যায় মঞ্চের সামনের নিরাপত্তা বেষ্টনী।
তখন জেমস টান দিলেন তাঁর জনপ্রিয় গান –
“দশমাস দশদিন করে গর্ভে ধারণ
কষ্টের তীব্রতায় করেছে আমায় লালন
হঠাৎ কোথায় না বলে হারিয়ে গেল
জন্মান্তরের বাঁধন কোথা হারালো
সবাই বলে ওই আকাশে লুকিয়ে আছে
খোঁজে দেখো পাবে দূর নক্ষত্র মাঝে
রাতের তারা আমায় কি তুই বলতে পারিস
কোথায় আছে কেমন আছে মা….”
মাকে নিয়ে বড় আবেগময় এই গানে গলা মিলিয়েছেন হাজার হাজার দর্শক । মা হারানো কষ্টের অনুভূতিতে জল গড়ায় অনেকের চোখ।

এরপর-গুরু ঘর বানাইলা কি দিয়া, মীরাবাঈ, তারায় তারায় রটিয়ে দেব, বন্ধু আসছে বহুদিন পরে গানগুলোতে দর্শকরা নেচে গেয়ে যেন আত্মহারা!
“সারাদিন ছুটাছুটি কিশোর কিশোরী, দাড়িয়াবান্দা বৌচি ডাঙ্গুলী, কানামাচি বোঁ বোঁ যারে পা তারে ছোঁ, সুলতানা বিবিয়ানা সাহেব বাবুর বৈঠক খানা…” গানগুলো শুনে অনেকে নষ্টালজিয়ায় হারিয়ে সে’ই কিশোর বেলায় ফিরে যান!!
জেমস’র সুপার ডুপার হিট হিন্দি গান! “ভিগি ভিগি সি হে রাত ভিগি, ইয়াদে ভিগি ভিগি বাত ভিগি ভিগি, আখমে কেয়সে নামি হে…” মধ্য দিয়ে শেষ হয় নর্থ আমেরিকান বাংলাদেশি ফেস্টিভ্যাল ২০২৩।
স্টেজ ছাড়ার সময় বেশ আবেগময় কন্ঠে জেমস বলেন “বেঁচে থাকলে আবার দেখা হবে”!
উল্লেখ্য, নর্থ আমেরিকান বাংলাদেশি ফেস্টিভ্যাল ২০২৩-এর ২২তম আসর শুরু হয় গত ২৮ জুলাই শুক্রবার। তিনদিনব্যাপী এই আয়োজনের ১ম দিন সন্ধ্যায় বেলুন উড়িয়ে শুরু হয় মেলার আনুষ্ঠানিকতা ।
শারমিনা সিরাজ সোনিয়ার নান্দনিক উপস্থাপনায় ২য় দিন শনিবার গানে গানে দর্শক মাতিয়ে রাখেন প্রেমা রহমান ও রিয়া রহমান। বাংলাদেশি খাবার, পোষাক আর নানা পণ্যের সমাহার নিয়ে মেলায় ৮০টির বেশি স্টল বসেছিলো। মেলা প্রতিদিন দুপুর ১২ টায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ১১টায় ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সবচেয়ে আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। বেঙ্গল অটো সেলসের সত্ত্বাধিকারী গিয়াস তালুকদারের সৌজন্যে র্যাফেল ড্রয়ের প্রথম পুরস্কার গাড়িটি উপহার দেয়া হয়।
বাঙালীদের প্রাণের এই উৎসবে স্বপরিবারের উপস্থিত হয়ে মেলাকে আনন্দময় ও স্বার্থক করে তোলায় সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মেলার প্রধান আয়োজক ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব মিশিগানের সাবেক সভাপতি আকীকুল হক শামীম, মেলার অন্যতম আয়োজক ও বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব মিশিগানের সাধারণ সম্পাদক খালেদ হোসাইন, মেলার অন্যতম আয়োজক সৈয়দ রায়হান ও মেলার গ্রান্ড স্পোন্সর এসএনএস হোম লোন এর পরিচালক নাসির সবুজ ।
মন্তব্য করুন