মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যকার আলোচনা অষ্টম ঘণ্টায় গড়িয়েছে। সম্ভবত এটি এ যাবৎকালের দীর্ঘতম আলোচনা। পাকিস্তানি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা উভয় পক্ষকে আরও নমনীয় হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। আলোচনা কক্ষে উপস্থিত থাকা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।
সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, এই আলোচনায় নিরাপত্তা, কূটনীতি ও অর্থনীতির মতো একাধিক বিষয় স্থান পাচ্ছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বন্দিবিনিময়ের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই প্রতিটি ক্ষেত্রে আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিতে কাজ করছে পাকিস্তান।
সূত্রগুলো বলছে, এই তৃতীয় ধাপের আলোচনা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তবে ইরানি সূত্রগুলোর দাবি, মার্কিন পক্ষের নমনীয়তার অভাব রয়েছে। ইরান বলছে, তারা কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি থাকলেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো বেশ কঠোর।
পাকিস্তানি সূত্রগুলো অবশ্য এই আলোচনা থেকে ইতিবাচক কিছু বেরিয়ে আসার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। তবে সেই ফলাফল কী হবে—যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ চলাচল অব্যাহত রাখা নাকি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত—তা এখনো স্পষ্ট নয়। কয়েক ঘণ্টা আগে এক কূটনীতিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সফল কূটনীতি সাধারণত রুদ্ধদ্বার বৈঠকেই হয়ে থাকে। যদি কূটনীতি সংবাদপত্রের শিরোনাম দেখে পরিচালিত হয়, তবে তা সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে।
আট ঘণ্টা পার হওয়ার পর তথ্যগুলো খুব ধীরে ধীরে বাইরে আসছে। তবে মূল বিষয়গুলো নিয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। এ ছাড়া পাকিস্তানি রাজনীতিকদের ওপর তথ্য প্রকাশের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আয়োজক দেশের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না। আলোচনা এখনো চলমান এবং সেরেনা হোটেল থেকে একটি সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: আল–জাজিরা
মন্তব্য করুন