বিশ্বে প্রতি ১০০টি মৃত্যুর মধ্যে একটির বেশি আত্মহননের কারণে হয় বলে (২ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বিশেষভাবে যুবকদের মধ্যে বাড়তে থাকা মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট রোধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
ডব্লিউএইচও বলেছে, যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী আত্মহনন হার কিছুটা কমেছে, তবে এ সমস্যা মোকাবেলায় অগ্রগতি খুব ধীরগতির।
সংস্থাটির সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে আনুমানিক সাত লাখ ২৭ হাজার জন আত্মহনন করেছে। ডব্লিউএইচওর অ-সংক্রামক রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের অন্তর্বর্তী প্রধান দেবোরা কেস্টেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০০টির মধ্যে একটির বেশি মৃত্যুর জন্য দায়ী আত্মহত্যা এবং প্রতি মৃত্যুর জন্য প্রায় ২০টি আত্মহত্যার চেষ্টা হয়। এ আত্মহননগুলো অসংখ্য জীবনের ওপর প্রভাব ফেলেছে। বন্ধু, শুভাকাঙ্খী ও প্রিয়জনরা অবর্ণনীয় কষ্টের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।’
সংস্থাটির ওয়ার্ল্ড মেন্টাল হেলথ টুডে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ভৌগোলিক ও সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুবকদের মধ্যে আত্মহনন এখনও মৃত্যুর প্রধান কারণের মধ্যে রয়েছে। ২০২১ সালে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী কন্যা ও নারীদের জন্য এটি মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ ছিল, একই বয়সের পুরুষদের জন্য ছিল তৃতীয় প্রধান কারণ।
২০০০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বয়স-সমন্বিত আত্মহনন হারে ৩৫ শতাংশ হ্রাস সত্ত্বেও, বিশ্ব এখনও লক্ষ্য অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে। ২০১৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে আত্মহনন হার এক-তৃতীয়াংশ কমানোর লক্ষ্য থাকলেও, বর্তমান অগ্রগতি মাত্র ১২ শতাংশ হ্রাসের ইঙ্গিত দিচ্ছেচ বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।
প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আত্মহনন বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষ বাস করা নিম্ন-আয়ের দেশগুলোতে ঘটে। যদিও ধনী দেশে আত্মহনন হার বেশি, তবে জনসংখ্যার অনুপাতে তুলনা করা কঠিন, কারণ সেখানে নিম্ন-আয়ের দেশগুলোর তুলনায় ভালো তথ্য পাওয়া যায় বলে জানায় সংস্থাটি। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, আত্মহনন হার ধীরে হলেও কমছে, অথচ উদ্বেগ ও বিষণ্নতা মত মানসিক রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘২০১১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে মানসিক রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বিশ্ব জনসংখ্যার চেয়েও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।’ সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। সংস্থাটি যুবকদের মধ্যে মানসিক চাপ বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। ডব্লিউএইচওর মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মার্ক ভ্যান ওমমেরেন বলেন, ‘এই বৃদ্ধির পিছনে দুটি প্রধান কারণ হতে পারে, সোশ্যাল মিডিয়া ও কোভিড মহামারীর প্রভাব।’ এই প্রেক্ষাপটে সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য বিনিয়োগের ‘স্থিতিশীলতা’ নিয়ে সতর্ক করেছে। সরকারী খরচের মধ্যম মান মাত্র মোট স্বাস্থ্য বাজেটের দুই শতাংশ, যা ২০১৭ সাল থেকে অপরিবর্তিত। বিশ্বজুড়ে মাত্র ৯ শতাংশ বিষণ্নতায় আক্রান্ত মানুষ চিকিৎসা পান।
ডব্লিউএইচওর প্রধান তেডরোস আধানোম গেব্রিয়েসুস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার রূপান্তর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি।’
মন্তব্য করুন