মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিষয়ক সংস্থা (ইউএসসিআইএস) পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার আবেদন, বিশেষ করে বিবাহভিত্তিক আবেদনের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় কঠোর করতে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। নতুন এই পদক্ষেপের লক্ষ্যই হচ্ছে, বিবাহভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে যেসব ভুয়া আবেদন জমা পড়ে, সেগুলো ছেঁকে বাদ দেওয়া এবং কেবল প্রকৃত সম্পর্কধারীদেরই গ্রিন কার্ডের অনুমোদন নিশ্চিত করা।
হালনাগাদ এই নির্দেশিকা শুক্রবার ইউএসসিআইএসের পলিসি ম্যানুয়ালে ‘ফ্যামিলি বেইজড ইমিগ্রেন্টস’ অংশের আওতায় প্রকাশিত হয়েছে; সঙ্গে সঙ্গে সেটি কার্যকর হয়েছে এবং যেসব আবেদন বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি সেগুলো এবং নতুন সব আবেদনের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে। “প্রতারক, সুযোগসন্ধানী কিংবা অন্য কোনোভাবে অযোগ্য পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার আবেদনে আইনানুগভাবে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার পথ নিয়ে আস্থা দুর্বল হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারিবারিক ঐক্য ক্ষুণ্ণ করে। “ক্ষতিকর হতে পারে এমন বিদেশিদের শনাক্ত করে, যেন তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সহজে বের করে দেওয়া যায়, আমরা আমেরিকানদের নিরাপদ রাখতে অঙ্গীকারাবদ্ধ,” নিজেদের ভাষ্যে এমনটাই বলেছে ইউএসসিআইএস।
কী পরিবর্তন এল
হালনাগাদ নির্দেশিকায় কঠোর যাচাই-বাছাই ও নথিপত্র নিয়ে যেসব বলা হয়েছে, তার মধ্যে আছে-
ইউএসসিআইএস তাদের ব্যাখ্যায় বলেছে, পরিবারভিত্তিক আবেদন গৃহীত হওয়ার মানে এই নয় যে সুবিধাভোগী বিতাড়ন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুরক্ষা পাবেন। “বৈধ বিবাহ ও পারিবারিক সম্পর্ক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সেগুলো আসল, যাচাইযোগ্য এবং প্রযোজ্য সব আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা খতিয়ে দেখতে ইউএসসিআইএসের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এই নির্দেশিকা,” বলেছে সংস্থাটি। ইউএসসিআইএস তাদের নীতি এমনভাবে কঠোর করেছে যে এখন যদি কোনো মার্কিন নাগরিক বিদেশি জীবনসঙ্গীকে (যেমন বাংলাদেশের কেউ) স্পন্সর করেন, তবে এখন তাদের সম্পর্কের দৃঢ় প্রমাণ দিতে হবে। এর মধ্যে থাকতে হবে যৌথ আর্থিক নথিপত্র, ছবি, এবং সম্ভব হলে বন্ধু বা পরিবারের চিঠিপত্র। পাশাপাশি তাদেরকে বিস্তারিত সাক্ষাৎকারেও অংশ নিতে হবে, যাতে তারা একে অপরকে সত্যিই চেনেন, তা প্রমাণ করা যায়। এসবের কোথাও ইউএসসিআইএস যদি সামান্য সন্দেহজনক কিছুও পায়, যেমন একই ব্যক্তি একাধিক জনের ক্ষেত্রে স্পন্সর হতে চেয়েছেন কিংবা তার অতীত অভিবাসন প্রক্রিয়ার কোনো তথ্যের সঙ্গে আবেদনের তথ্য মিলছে না, তাহলে তা বিস্তৃত তদন্ত এমনকী যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়ন প্রক্রিয়া শুরুর কারণও হতে পারে।
মন্তব্য করুন