বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ADUST)-এর উদ্যোগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (SDI) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সল গেটওয়ে কর্পোরেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর ADUST ক্যাম্পাসে ৩০ জুন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন SDI-এর পরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষাবিদ ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন এবং সল গেটওয়ে কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. জে কিউন মুন। অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ কাঠামোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের স্কিল ট্রেইনিং গ্রহণ করতে পারবেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে ইন্টার্নশিপ এবং চাকরির সুযোগও নিশ্চিত করা হবে। উভয় প্রতিষ্ঠানের যৌথভাবে পরিচালিত কোর্সে প্রযুক্তি, ভাষা শিক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, এবং বিভিন্ন খাতে আধুনিক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন বলেন, “আমাদের দেশের যুব সমাজকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে গড়ে তুলতেই এই চুক্তি। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিয়ে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করুক এবং দেশের গর্ব হয়ে উঠুক।” সল গেটওয়ে কর্পোরেশনের সিইও ড. জে কিউন মুন বলেন, “বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা তাদের দক্ষ করে তুলতে চাই, যাতে তারা শুধু দক্ষিণ কোরিয়াই নয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন খাতে কাজ করার সুযোগ পায়।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এবং সল গেটওয়ে কর্পোরেশনের প্রতিনিধি দল। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে যৌথভাবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, গবেষণা কার্যক্রম চালু ও শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক কর্মশক্তিতে রূপান্তরিত হবে, যা দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মন্তব্য করুন