আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। কিন্তু সম্প্রতি এই বিভাগকে কেন্দ্র করে এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যা শুধু এই বাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, বরং গোটা নিয়োগ ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা, নৈতিকতা এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
সম্প্রতি এনওয়াইপিডি ঘোষণা করেছে, গত দুই বছরে যারা পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাদের মধ্য থেকে অন্তত ৩১ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগেই “চূড়ান্তভাবে অযোগ্য” ঘোষণা থাকার পরও, অজানা কারণে তারা নিয়োগ পেয়ে গিয়েছিলেন। ফলে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ ছিল। পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এই ভুল শুধুমাত্র একটি নিয়মগত ত্রুটি নয়, বরং এটি ইচ্ছাকৃত ক্ষমতার অপব্যবহার। জানা যায়, তখনকার প্রার্থী মূল্যায়ন শাখার প্রধান এক কর্মকর্তা নিজের সিদ্ধান্তে এই ৩১ জনকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। যদিও তাদের পূর্ব ইতিহাসে অপরাধ, মিথ্যা তথ্য প্রদান, আগের চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়া, একাধিকবার গ্রেপ্তার, এমনকি ট্রাফিক আইন ভাঙার কারণে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলের মতো ঘটনাও ছিল। সব কিছু জেনেও নিয়মের তোয়াক্কা না করে তাদের চাকরিতে নেওয়া হয়।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ বিভাগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বদলি করেছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে। প্রশ্ন উঠেছে—একজন কর্মকর্তা কি একাই এত বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? তাহলে বাকি কর্মকর্তারা কোথায় ছিলেন? নিয়োগ যাচাই প্রক্রিয়া কীভাবে এত সহজে উপেক্ষিত হলো?
এই বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠন। সংগঠনের সভাপতি বলেছেন, যাদের বরখাস্ত করা হয়েছে, তারা নিজেরা জানতেন না যে তারা অযোগ্য। তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, দায়িত্ব পালন করানো হয়েছে—এখন হঠাৎ করে তাদের দোষী সাব্যস্ত করে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া ন্যায়বিচার নয়।
তাঁরা আরও বলেছেন, অন্য যেকোনো চাকরির মতো, এদেরও উচিত ছিল আপিলের সুযোগ পাওয়া। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ বিভাগ নিজের ভুল ঢাকতেই গোপনে, হঠাৎ করে এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে সাধারণ পুলিশ সদস্যরাই দোষের ভাগী হলেন, অথচ দায়ী কর্মকর্তারা থেকে গেলেন আড়ালে।
এই ঘটনাটিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে এর পেছনের প্রেক্ষাপট। ঠিক এই সময়েই পুলিশের চারজন সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিভাগটির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় অভিযোগ রয়েছে—স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি এবং অর্থের বিনিময়ে পদোন্নতি দেওয়ার মতো ঘৃণ্য ঘটনা ঘটেছে। একজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোতে অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও ঘনিষ্ঠদের বসানো হয়েছে। আরেকজন সাবেক প্রধান বলেছেন, নারী নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়ম ভেঙে নিজের বন্ধুদের পদোন্নতি দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন