১৬ অগাস্ট ২০২৫, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

আলাস্কা বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন: শান্তি আলোচনায় নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

আলাস্কার যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে প্রথমবার মুখোমুখি বৈঠকে বসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৈঠক শেষে উভয় নেতা সংবাদ সম্মেলনে হাজির হলেও শান্তি আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। তবে আলোচনার দাবি-দাওয়ার খসড়া ইতোমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে।

 

 

রাশিয়ার পক্ষ থেকে পাঁচটি মূল দাবি সামনে এসেছে। দখলকৃত ভূখণ্ড ইউক্রেনকে ছাড়তে হবে। ন্যাটো সদস্যপদ প্রত্যাহার করতে হবে। সামরিক শক্তি ভেঙে ফেলতে হবে। একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে যুদ্ধের মূল কারণ স্বীকার করতে হবে। এবং কিয়েভে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনতে হবে। অর্থাৎ, শান্তি বিনিময়ে পুতিন কার্যত ইউক্রেনকে আধা-স্বাধীন অবস্থায় নামিয়ে আনতে চাইছেন।

 

 

অন্যদিকে ইউক্রেন জানিয়ে দিয়েছে—যেকোনো আলোচনার আগে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। পাশাপাশি তারা দাবি তুলেছে নিরাপত্তার গ্যারান্টি, যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ, শিশু ও যুদ্ধবন্দীদের ফেরত এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা। মূলত নিজেদের টিকে থাকার জন্য আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির নিশ্চয়তা চাইছে জেলেনস্কির সরকার।

 

 

বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেছেন, “অনেক বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। তবে বড় কিছু ইস্যু এখনও মীমাংসা হয়নি। তাই চুক্তি হয়নি, যতক্ষণ না সব মিলে যায়।” তিনি জানান, শিগগিরই ন্যাটোর সঙ্গে এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করবেন। ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন—পুনর্নির্বাচিত হলে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করবেন। সেই অঙ্গীকার পূরণের পথেই এটি তাঁর প্রথম কূটনৈতিক পদক্ষেপ।

 

 

সিনেটর রজার মার্শাল স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ইউরোপকে নেতৃত্ব নিতে হবে। তাঁর মতে, “এটা বাইডেনের যুদ্ধ, ইউরোপের যুদ্ধ। আমেরিকা সাহায্য করবে, কিন্তু দায়িত্ব নিতে হবে ইউরোপকেই।” তিনি পুতিনকে “রক্তপিপাসু যুদ্ধাপরাধী” উল্লেখ করে জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। তবে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

 

 

মার্শালের মন্তব্যেই ইঙ্গিত মিলেছে—ট্রাম্প হয়তো রাশিয়ার সহযোগী দেশগুলোর বিরুদ্ধেও চাপ বাড়াবেন। ব্রাজিল, ভারত, চীন—সবাইকে সেকেন্ডারি স্যাংশনের আওতায় আনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এতে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও কূটনীতির সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

 

 

এই বৈঠক প্রমাণ করেছে, যুদ্ধবিরতির পথ শুধু কিয়েভ ও মস্কোর হাতে নেই। বরং মার্কিন কূটনীতি ও ইউরোপীয় নেতৃত্বের উপরই এর সমাধান নির্ভর করছে। রাশিয়ার দাবি যেখানে ইউক্রেনকে কার্যত পরাজিত রাষ্ট্রে পরিণত করার ইঙ্গিত দেয়, সেখানে ইউক্রেনের দাবি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও মানবিক দায়বদ্ধতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে। দুই চরম অবস্থানের মাঝপথে ট্রাম্প সমঝোতার কাঠামো তৈরি করতে চান। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো বাস্তব চুক্তি হয়নি।

 

 

আগামী দিনগুলোতে দেখা যাবে—পুতিন কতটা নতি স্বীকার করেন, ইউক্রেন কতটা ছাড় দিতে রাজি হয়, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেমন করে আন্তর্জাতিক চাপকে ভারসাম্যে আনে। এই বৈঠক যুদ্ধ থামানোর প্রথম ধাপ হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি এক নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েনের সূচনা মাত্র।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পোপের মন্তব্য: কয়েকজন স্বৈরশাসকের যুদ্ধেই বিপদে মানবসভ্যতা

পারমিট ছাড়া হজ পালন, সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল জরিমানা

বিবিসির বড় ছাঁটাই: ২ হাজার কর্মী চাকরি হারাতে পারেন

ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিতের প্রস্তাব ফের নাকচ মার্কিন সিনেটে

যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাচ্ছে ‘রাক্ষস’, মিশিগানে নির্ধারিত শিডিউল ঘোষণা

টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর অন্তর্ভুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মৌলভীবাজারবাসীর দুই কমিটি ভেঙে ঐক্যের বার্তা, মিশিগানে গঠিত নতুন নেতৃত্ব

যুদ্ধ পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ধাক্কার সতর্কবার্তা: আইএমএফ

উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, সোস্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড়

ভারতের আধিপত্যে প্রশ্নের মুখে বিশ্ব ক্রিকেট, মোস্তাফিজ ইস্যুতে সমালোচনা

১০

কমলগঞ্জে দিনভর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ১৪৩৩ উদযাপিত হয়

১১

বড়লেখায় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা

১২

নিউইয়র্কে বৈশাখী উৎসব: “ABCH পটলাক পান্তা ইলিশ”-এ প্রবাসীদের মিলনমেলা

১৩

কানাডার এমপি হলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম

১৪

হরমুজ প্রণালি অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেবে না ন্যাটো

১৫

যিশু খ্রিস্টের সঙ্গে নিজের তুলনা টানলেন ট্রাম্প

১৬

কমলগঞ্জে উন্নয়নের জোয়ার: ৩ টি সড়ক ও ১টি খাল খনন কাজের উদ্বোধন

১৭

গেম খেলার দক্ষতাই চাকরি! বিমান নিয়ন্ত্রণে নতুন ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের

১৮

সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন রাহেনা বেগম

১৯

জাহাজ চলাচলে নতুন বিধি, হরমুজ ঘিরে ট্রাম্পের ঘোষণা

২০