বাংলা সংবাদ ডেস্ক
৫ নভেম্বর ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

আটক অভিবাসীদের অবস্থান প্রকাশে বাধা, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে চার সংস্থার মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) হেফাজতে থাকা ১৬ হাজারের বেশি অভিবাসীর অবস্থান গোপন রাখার নীতির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে চারটি অভিবাসী আইনি সহায়তা সংস্থা। গত ২৮ অক্টোবর ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

 

বাদী সংস্থাগুলোর অভিযোগ, আইসের নতুন নীতির কারণে আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের অবস্থান জানতে পারছেন না। এতে আটক অভিবাসীদের আইনি সহায়তা পাওয়া এবং বহিষ্কারের বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই করার সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মামলাটি করেছে গ্রেটার বোস্টন লিগ্যাল সার্ভিসেস, রিয়ান ইমিগ্র্যান্ট সেন্টার, ফ্লোরেন্স ইমিগ্র্যান্ট অ্যান্ড রিফিউজি রাইটস প্রজেক্ট এবং আমিকা সেন্টার ফর ইমিগ্র্যান্ট রাইটস। তারা নতুন নীতির কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদন জানিয়েছে।

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে আইস তাদের অনলাইন ডিটেইনি লোকেটর ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশপ্রাপ্ত বন্দিদের অবস্থানের তথ্য সরিয়ে ফেলে। একই সঙ্গে কর্মীদের এসব তথ্য প্রকাশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলে আইসের হেফাজতে থাকা প্রায় ৬৯ হাজার বন্দির মধ্যে ১৬ হাজারের বেশি ব্যক্তির অবস্থান অনলাইন তালিকা থেকে বাদ পড়ে।

 

২০১০ সাল থেকে পরিবার ও আইনজীবীরা আইসের অনলাইন ব্যবস্থায় আটক ব্যক্তিদের অবস্থান এবং এক কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে স্থানান্তরের তথ্য জানতে পারতেন। নতুন নীতির কারণে সেই সুযোগ সীমিত হয়েছে। মামলায় আরও বলা হয়েছে, আইসের তথ্যসেবা নম্বরে ফোন করেও আইনজীবীরা অনেক সময় প্রয়োজনীয় তথ্য পাচ্ছেন না। দীর্ঘ অপেক্ষা, ফোন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং উত্তর না পাওয়ার মতো সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা।

 

বাদী সংস্থাগুলোর দাবি, এসব কারণে আইনি নথি জমা দিতে দেরি হচ্ছে, কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যাচ্ছে এবং আইনজীবীরা নতুন মামলা গ্রহণ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অভিবাসীদের বহিষ্কারের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৪ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ রয়েছে। তবে এমন আদেশ থাকলেও মামলা পুনরায় খোলা, তৃতীয় কোনো দেশে বহিষ্কারের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাওয়া কিংবা আটক ও বহিষ্কার প্রক্রিয়ায় অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার সুযোগ রয়েছে।

 

বাদী সংস্থাগুলোর অভিযোগ, যথাযথ ব্যাখ্যা ছাড়া নতুন নীতি কার্যকর করে প্রশাসন প্রশাসনিক পদ্ধতি আইন এবং সংবিধানের প্রথম সংশোধনী লঙ্ঘন করেছে। তারা নীতিটিকে বেআইনি ঘোষণা এবং মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এর কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছে। তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, আটক অভিবাসীদের পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক সুযোগ রয়েছে। বিভাগের দাবি, চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া হলো বহিষ্কার কার্যকর করা। আইস কাউকে গোপনে সরিয়ে ফেলছে না এবং আটক ব্যক্তিরা ফোনে যোগাযোগ করতে পারছেন বলেও দাবি করেছে বিভাগটি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে বড় ধস, যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষতি ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার

১

আটক অভিবাসীদের অবস্থান প্রকাশে বাধা, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে চার সংস্থার মামলা

২

কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাম্প কি শুল্ক ও অভিবাসন নীতি ধরে রাখতে পারবেন?

৩

বিজয় ভাষণে জেডি ভ্যান্সকে কেন ‘হাবিবি’ বললেন আবদুল আল-সাঈদ

৪

মিশিগানে বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতির নতুন কমিটির অভিষেক ১৫ নভেম্বর

৫

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে নতুন ইতিহাস গড়লেন ১০ প্রার্থী

৬

গ্রিনকার্ড ও ওয়ার্ক পারমিটের আবেদনে কঠোর হচ্ছে ইউএসসিআইএস

৭

স্পিকার পদে কৃষ্ণাঙ্গ নেতৃত্ব, নতুন ইতিহাসের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র

৮

‘ট্রাম্পই এখনো প্রেসিডেন্ট’, সোশ্যাল মিডিয়ায় হোয়াইট হাউস

৯

মার্কিন কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ পেয়ে ডেমোক্র্যাটদের সামনে যেসব সুযোগ

১০

কমলগঞ্জে প্রবাসীর বাড়িতে চুরির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য, ক্ষতি ৩ লাখ টাকা

১১

সহজে পালনীয় নবীজির ২০টি সুন্নত

১২

নিত্যজীবনের ১০টি অবহেলিত সুন্নত

১৩

মার্কিনকর্মীদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

১৪

বাড়বে শীত: আগাম প্রস্তুতিই নিরাপত্তার প্রধান শর্ত

১৫

রোড ক্র্যাশ নিরসন: শুধু আইন নয়, সকলকেই দায়িত্ব নিতে হবে

১৬

মিডটার্ম ইলেকশনে ব্যালটে নেই ট্রাম্প, তবু পরীক্ষাটা তাঁরই

১৭

আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন: আইরিন খান

১৮

মিশিগানের মূলধারার চার রাজনীতিকের মুখোমুখি বাংলা সংবাদ পত্রিকা

১৯

কিশোরীকে জিম্মি ও ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্তের গ্রেপ্তার চেয়ে মানববন্ধন

২০