বাংলা সংবাদ ডেস্ক
৩১ মে ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

অভিবাসন ইস্যুতে অবস্থান বদল, গ্রিনকার্ডধারীদের জন্য সুখবর ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিনকার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (ডিএইচএস)। মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সব আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

 

গত ২২ মে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, অস্থায়ী ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে থেকে গ্রিনকার্ডের আবেদন করতে পারবেন না। তাদের নিজ দেশে ফিরে দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। কিন্তু গত শনিবার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিএইচএসের এক মুখপাত্র বলেন, ২২ মে’র বিজ্ঞপ্তির উদ্দেশ্য ছিল শুধু কর্মকর্তাদের বিবেচনামূলক ক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দেওয়া। এটা কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়।

 

মুখপাত্র আরও জানান, যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অথবা যেসব দেশের নাগরিকরা ব্যাপকভাবে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রয়োগ হতে পারে। তবে সবার জন্য একই নিয়ম নয়। গ্রিনকার্ড হলো যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অনুমতিপত্র। এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না, তবে নাগরিকত্বের পথে প্রথম বড় ধাপ এটি।

 

২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন নিয়ে বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। গত দেড় বছরে লাখ লাখ নথিবিহীন অভিবাসী ও মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসাধারীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।  প্রথমে ২২ মে’র বিজ্ঞপ্তিকে অনেকে ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু এখন এটিকে ‘ইউ-টার্ন’ বলে অভিহিত করছে নিউইয়র্ক টাইমস।

 

ডেমোক্র্যাট দলের আইনপ্রণেতা ও অভিবাসন আইনজীবীরা প্রথম বিজ্ঞপ্তির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, খরচ বাড়বে এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। বর্তমানে ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন। তারা জানতে চাইছেন, কেন আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেই আবেদন করতে চান এবং দেশে ফিরে আবেদন করতে তাদের কোনো সমস্যা আছে কি না।

 

প্রযুক্তি খাতের নেতারা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এই নীতি আমেরিকান টেক কোম্পানিগুলোর জন্য বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। কারণ এসব কোম্পানি বিদেশি দক্ষ পেশাদারদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, যারা পরে গ্রিনকার্ড ও নাগরিকত্বের আশায় থাকেন। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মকর্তারা। তাই এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, তবে সতর্ক থাকা জরুরি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ওয়ারেনে নতুন ক্রিকেট মাঠের অনুমোদন, বাংলাদেশি ক্রিকেট কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস

ট্রাম্পের ৩৯ দেশের আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ খারিজ

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে বাংলাদেশী আমেরিকান ফোরাম মিশিগানের বিবৃতি

ঘুম থেকে উঠেই চা-কফির অভ্যাস, শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ?

সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখা, অভ্যাস নাকি স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি? কী বলছে আধুনিক বিজ্ঞান?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অধ্যায়, সাবস্ক্রিপশন চালু করছে মেটা

২০২৬ বিশ্বকাপের কম বয়সী ৭ ফুটবলার 

দেশে সংঘাত, মাঠে প্রস্তুতি—বিশ্বকাপকে ঘিরে ইরানি ফুটবলারদের ব্যস্ততা

মিশিগানে বাংলাদেশি কমিউনিটির সাথে ইউএস সিনেট প্রার্থীর মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসে এ পর্যন্ত কোন দেশ কতবার চ্যাম্পিয়ন

১০

ভিনদেশ কোনোদিন হয়না আপন

১১

মিশিগানে কাজিনহুড ডে অ্যান্ড নাইট মিনি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ও ঈদ আনন্দ উদযাপন

১২

লাল পলাশের দেশ

১৩

কৃষক যে হন স্বপ্ন সাধক

১৪

শঙ্কিত মন সেই মেয়েটির 

১৫

গেইম

১৬

আত্মার ঠিকানা

১৭

ফ্যাশন, চলচ্চিত্র আর সংস্কৃতিতে আজও জীবন্ত মেরিলিন মনরো

১৮

যুক্তরাষ্ট্রে ‘বাংলাদেশ ল’য়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ মিশিগান’ এর আত্মপ্রকাশ

১৯

শিশুদের নিরাপত্তা আজ রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

২০