মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকালের সেরা প্রেসিডেন্টদের একটি র্যাঙ্কিং চার্ট শেয়ার করেছেন। যেখানে নিজেকে শীর্ষে রেখেছেন তিনি। ফলে পেছনে পড়ে গেছেন জর্জ ওয়াশিংটন ও আব্রাহাম লিংকনের মতো রাষ্ট্রনায়করা। বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের এই পোস্টটি সিএনএনের একটি খবরের প্রতিক্রিয়ায় আসে। সিএনএনের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থক তাদের সবচেয়ে পছন্দের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পকে বেছে নিয়েছেন—যা লিংকন বা রোনাল্ড রিগ্যানের চেয়েও বেশি।
তবে ট্রাম্পের এই নিজস্ব র্যাঙ্কিং নিয়ে বিশ্লেষক ও ঐতিহাসিকদের মধ্যে নানা কৌতুহল এবং ট্রোলের সৃষ্টি হয়েছে। তালিকায় তিনি তার নিকট অতীতের রিপাবলিকান উত্তরসূরিদের সম্পূর্ণ বাদ দিয়েছেন। ইতিহাসবিদ ক্রিস্টোফার ডব্লিউ. জোন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে রোনাল্ড রিগ্যান বা জর্জ ডব্লিউ. বুশ কত নম্বরে থাকবেন, সে বিষয়ে ট্রাম্পের স্পষ্টতই কোনো মন্তব্য নেই।’
অন্যদিকে, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বিষয়ক গবেষক মাইক রথশিল্ড লিখেছেন, ‘সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্টদের নিয়ে ট্রাম্পের এই চার্টটি আসলে ১৯৪৮ সালের ‘লাইফ ম্যাগাজিন’-এর একটি তালিকা। তিনি শুধু নিজের নামটা সবার ওপরে বসিয়ে দিয়েছেন আর যেসব ডেমোক্র্যাটদের অপছন্দ করেন, তাদের নাম টেনে নিচে নামিয়ে দিয়েছেন। একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক মনের মানুষের কাজ বটে!’ প্রেসিডেন্ট নিজেকে যতই উঁচুতে স্থান দিন না কেন, ইতিহাসবিদ এবং বিশেষজ্ঞরা তার সাথে একেবারেই একমত নন। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মাইকেল বেইলি সম্প্রতি ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে বলেছেন, ট্রাম্প “নিঃসন্দেহে মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে প্রেসিডেন্ট।”
বেইলি আরও বলেন, ‘আমেরিকার দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্য ও সুনামের প্রতি তিনি যে পরিমাণ দুর্নীতি ও ক্ষতি সাধন করেছেন, তা আমরা আগে কখনোই দেখিনি।’ ২০২৪ সালে ইতিহাসবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের এক জরিপেও ট্রাম্পকে তালিকার সবার নিচে রাখা হয়েছিল, যেখানে জো বাইডেন ছিলেন ১৪তম স্থানে। আমেরিকান সাধারণ জনগণও বর্তমানে ট্রাম্পকে খুব একটা ভালো চোখে দেখছেন না। গত সপ্তাহে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ আমেরিকানের সমর্থনের ওপর ভর করে এই রিপাবলিকান নেতার জনপ্রিয়তার রেটিং একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য বহু আগে থেকেই ইতিহাসের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন—যদিও তা অত্যন্ত দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ‘ওয়াক অব ফেভ’ চালু করেন, যেখানে তার পূর্বসূরিদের প্রতিকৃতি এবং তাদের অর্জনের বর্ণনা তুলে ধরা হয়। তবে ইতিহাসবিদদের মতে, এই স্মারকফলকগুলোতে থাকা তথ্যগুলো ছিল চরম পক্ষপাতদুষ্ট এবং প্রায়শই ভুল। হোয়াইট হাউসের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প নিজেই এসব স্মারকফলকের লেখার কিছু অংশ তৈরি করেছেন।
একজন ইতিহাসবিদ এই লেখার মান নিয়ে বলেন, ‘এখানে গবেষণার যে স্তর দেখা গেছে তা ঠিক অন্য মানুষের ছবির ওপর গোঁফ এঁকে দেওয়ার মতো।’ ইতিহাসভিত্তিক বিভিন্ন উপাদান প্রচারের পাশাপাশি, ট্রাম্প তার কাছে আপত্তিকর মনে হওয়া তথ্য বা উপাদান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন। আমেরিকার বর্ণবাদের ইতিহাস সংক্রান্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলোর বিবরণযুক্ত ফলক ও অন্যান্য উপাদান জাতীয় ঐতিহাসিক স্থানগুলো থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এমনকি ট্রাম্পের নিজের ধারণার সাথে মেলে না এমন তথ্য মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে স্মিথসোনিয়ান প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাপকভিত্তিক নিরীক্ষার নির্দেশও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট
মন্তব্য করুন