যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিরা দেশটির ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। রোববার পাওয়েল নিজেই তার বিরুদ্ধে এ তদন্তের খবর দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
তদন্তের খবর জানানো ভিডিওতে পাওয়েল বলেন, মার্কিন বিচার বিভাগ তার সংস্থাকে হাজিরার নোটিস পাঠিয়েছে এবং ফেডারেল রিজার্ভ ভবনের সংস্কার নিয়ে সেনেট কমিটিতে তার দেওয়া সাক্ষ্য বিষয়ে ফৌজদারি অভিযোগ আনার হুমকি দিয়েছে এই তদন্তকে ‘নজিরবিহীন’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, সুদের হার কমাতে প্রেসিডেন্টের বারবার দেওয়া প্রকাশ্য চাপ অগ্রাহ্য করার কারণে ডনাল্ড ট্রাম্প রুষ্ট হওয়ায় এ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে তার ধারণা। পাওয়েলের আগেও ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর পর অনেককে মার্কিন বিচার বিভাগের তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
ফেড চেয়ারম্যানের ভাষ্য নিয়ে বিবিসি মার্কিন বিচার বিভাগ ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পায়নি। “এটা এমন একটা বিষয় যা ঠিক করবে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক তথ্যপ্রমাণ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সুদের হার ঠিক করা অব্যাহত রাখতে পারবে নাকি মুদ্রনীতি ঠিক হবে রাজনৈতিক চাপ বা হস্তক্ষেপের মাধ্যমে। “আমাদের গণতন্ত্রে যে জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন রয়েছে তার ওপর আমার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের চেয়ার তো বটেই, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু এই নজিরবিহীন পদক্ষেপকে এই প্রশাসনের হুমকি ও চলমান চাপের বিস্তৃত প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত,” বলেছেন পাওয়েল।
রোববার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ব্যাপারে বিচার বিভাগের তদন্ত সম্বন্ধে কিছুই জানেন না তিনি। “আমি এ সম্বন্ধে কিছুই জানি না, তবে তিনি (পাওয়েল) অবশ্যই ফেডে তার কাজে ভালো নন, তিনি ভবন নির্মাণেও খুব একটা ভালো নন,” বলেছেন ট্রাম্প। মার্কিন ফেডারেল কৌঁসুলিরা এখন পর্যন্ত পাওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের খবর নিশ্চিত করেননি। ২০১৭ সালে পাওয়েল ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে ট্রাম্পের মনোনয়নই পেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের দুজনের মধ্যকার বিরোধ যে এখন তুঙ্গে তা এ তদন্তের খবরে স্পষ্ট হয়েছে।
ট্রাম্প এর আগে একাধিকাবার তার চাহিদা মতো দ্রুত সুদের হার না কমানোয় পাওয়েলকে ফেড চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। গত বছরের দ্বিতীয় ভাগে মার্কিন এ ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক তিন দফা সুদের হার কমিয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পেছনে ট্রাম্প বারবারই সুদের হার ও তার পূর্বসূরী জো বাইডেনকে দায় দিয়ে আসছেন। সমালোচকরা বলছেন, ফেড চেয়ারম্যানকে উৎখাতে ট্রাম্পের অব্যাহত চাপ সুদের হার নির্ধারণে প্রতিষ্ঠানটির যে স্বতন্ত্র অবস্থান, তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
নর্থ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সেনেটর, সেনেট ব্যাংকিং কমিটির সদস্য থম তিলিস বলেছেন, ফেড চেয়ারম্যান সংক্রান্ত ‘আইনি ব্যাপার পুরোপুরি নিষ্পত্তি’ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বোর্ডে ট্রাম্পের নতুন মনোনয়ন কিংবা পাওয়েলের বদলি হিসেবে ট্রাম্পের যে কোনো পছন্দের বিরোধিতা করবেন। “ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিশ্চিহ্নে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরকার পরামর্শকরা সক্রিয় চাপ দিচ্ছেন কিনা তা নিয়ে আগে সন্দেহ থাকলেও, এখন আর সন্দেহের অবকাশ নেই।
“এখন মার্কিন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে,” বিবৃতিতে বলেছেন সেনেটর তিলিস। ডেমোক্র্যাট সেনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন বলেছেন, ট্রাম্প পাওয়েলকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বোর্ড থেকে সরিয়ে দেবেন এমন সম্ভাবনাই প্রকট এবং ‘মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর তার (ট্রাম্প) দুর্নীতিপূর্ণ দখল নিশ্চিত করতে তিনি সেখানে আরেক পুতুল তাঁবেদার বসাবেন’ বলেই তার ধারণা। “এই (সেনেট ব্যাংকিং) কমিটি এবং সেনেটের উচিত হবে না চেয়ারম্যানসহ ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে ট্রাম্প মনোনীত কোনো সদস্যকে জায়গা করে দেওয়া,” বলেছেন তিনি। নিউ ইয়র্ক টাইমসই প্রথম পাওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের খবর প্রকাশ করেছে। ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার মার্কিন অ্যাটর্নি কার্যালয়ই এই তদন্ত কাজ তদারক করবে, বলেছে তারা।
মন্তব্য করুন