যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা গেল। এক দল পেলিক্যান উড়ে যাচ্ছে মাছের ঝাঁকের দিকে। তীব্র গতিতে পানিকে আলোড়িত করে ডুব দিচ্ছে। তারা নর্দার্ন অ্যাঙ্কোভিস, প্যাসিফিক সার্ডিন এবং ম্যাকরেল মাছ শিকার করছে। এই দৃশ্যকে প্রাণিবিজ্ঞানীরা বলছেন ভোজ উৎসব।
অস্তিত্ব সংকটে পড়া পেলিক্যানদের জন্য এই ঘটনা আশা জাগাচ্ছে। পেলিক্যান হলো বিশাল আকারের সামুদ্রিক পাখি। ভূমিতে তাদের কিছুটা আনাড়ি মনে হলেও আকাশে বেশ সাবলীল। প্রাপ্তবয়স্ক একটি পেলিক্যানের ওজন প্রায় চার কেজি। এদের ডানার বিস্তার প্রায় সাত ফুট। ঠোঁটের নিচের থলিটি একবারে প্রায় ১২ লিটার পর্যন্ত পানি ধরে রাখতে পারে।
এটা পৃথিবীর অন্য যে কোনো পাখির থলির চেয়ে বড়। এত বড় দেহের কারণে এদের প্রতিদিন প্রায় দেড় কেজি মাছ প্রয়োজন। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সামুদ্রিক পাখিবিশারদ ট্যামি রাসেল বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ‘এই পাখির সংখ্যা বাড়ছে না।
কিছু ঘটনা আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে।’ সেই জায়গায় পেলিক্যানদের এই ভোজ উৎসব সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য ভালো লক্ষণ। মাছের প্রাচুর্যই এই পাখিদের উপকূলে টেনে এনেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার পাথুরে উপকূলে বাদামি পেলিক্যান পাথরের চূড়ায় ভিড় করে থাকে। তারা ব্যস্ত যাত্রীদের মতো গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে থাকে। এরপর উপকূল থেকে সামান্য দূরে মাছের বিশাল ঝাঁকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য উড়াল দেয়। যখন বড় ঠোঁটযুক্ত পাখি মাছের সন্ধানে পানিতে ডুব দেয়, তখন সাদা ফেনা আলোড়িত হতে থাকে। এই ভোজ উৎসব দেখে ট্যামি রাসেল বলেন, ‘এটা আশা-জাগানিয়া দৃশ্য। কারণ যখন তারা খাবার পায় না, তখন দুর্বল হয়ে পড়ে।’
সম্প্রতি খাদ্যের টানে হাজার হাজার পাখি আশপাশের সৈকত ও পাথরের খাঁজে যাচ্ছে। পানকৌড়ি, গাংচিলও পেলিক্যানের সঙ্গে মিশে আছে। উপকূলের এই খাঁজে কেবল ঢেউয়ের অবিরাম গর্জন আর পাখির চিৎকার শোনা যায়। একসময় ক্যালিফোর্নিয়ার বাদামি পেলিক্যান অনেক সংকটে ছিল। ডিডিটি কীটনাশকের কারণে এদের ডিমের খোসা পাতলা হয়ে যাচ্ছিল। ফলে পাখিসংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করে। এ কারণে পাখিটিকে বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় রাখা হয়েছিল।
২০০৯ সালে সে সংখ্যা পুনরুদ্ধার হলে এ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে পেলিক্যান একাধিক সংকটের মুখোমুখি। এর মধ্যে প্রধান হলো উষ্ণ হতে থাকা সমুদ্র। গরম পরিবেশ পেলে মাছ গভীর ও ঠান্ডা পানির দিকে সরে যায়। তখন পাখির খাবার খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া বিষাক্ত শৈবাল ব্লুম বড় হুমকি। শৈবালের বিষক্রিয়ায় গত বছর বহু অসুস্থ ও ক্ষুধার্ত পেলিক্যান পাওয়া গিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা পাখির পায়ে ইলেকট্রনিক ব্যান্ড ব্যবহার করে গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন। ট্যামি রাসেল বলেন, প্রজনন মৌসুমের আগে পেলিক্যানের দলকে আগ্রাসী ভোজ উৎসবে দেখা ইতিবাচক বার্তা। এটি ভবিষ্যতে পাখির সংখ্যা বাড়ার আশা জোগাচ্ছে।
মন্তব্য করুন