প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক প্যারেড এবং তাঁর ৭৯তম জন্মদিন উপলক্ষে ১৪ জুন “No Kings Day” নামক প্রতিবাদ সমাবেশে ডেট্রয়েটের ক্লার্ক পার্কে হাজারো মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে জড়ো হয়। এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল “50501 Movement” ও “No Kings” সংগঠনের আহ্বান, একটি মোট জনসচেতনতামূলক প্রচেষ্টা, যা রাষ্ট্রের মূল কাঠামো ও নাগরিক অধিকারের ওপর মনোনিবেশ করে।
প্রতিবাদ সভাটি ছিল রাস্তা থেকে পার্ক পর্যন্ত বিস্তৃত, চাপা শ্লোগান আর হৃদ্য যোগদান করেছে ডেট্রয়েটের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। ইউ.এস. কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তারা’ব (Rashida Tlaib) বক্তব্য দেন, “সব ধরনের অসাংবিধানিক ও নিষ্ঠুর কর্মকাণ্ডের মুখে আমাদের প্রতিবাদ প্রকাশ করতে হবে; কারণ মার্কিন নাগরিকেরা মানব মর্যাদা পাওয়ার অধিকার রাখে” । তবে প্রতিবাদই ছিল সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ? না, পার্কের পাশেই দাঁড়ানো মোটরসাইকেল চালকদের একটি ছোট সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ এবং সহিংসতা বিরোধীর উপস্থিতির ফলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, আর এনিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই সমাবেশ অব্যাহত থাকে ।
এই প্রতিবাদের কেন্দ্র ছিল ট্রাম্পের অভিযুক্ত “রাজতন্ত্রসুলভ” অবস্থান এবং সামরিক বাহিনীর অপব্যবহারকে জনমত জানিয়ে প্রতিবাদ করা। আরও উল্লেখযোগ্য, এই কর্মসূচির সময় প্রায় দুই হাজার জায়গায় একযোগে প্রতিবাদ সংগঠিত হয় জুনের ১৪ তারিখে যে সময়টিই সামরিক প্যারেড পর্ব হিসেবে পালন করা হয়েছিল । মিশিগানে শুধু ডেট্রয়েট নয়, ল্যানসিং, ফার্নডেল, অ্যান অ্যারবর প্রভৃতি শহরেও এই আন্দোলন চিত্তাকর্ষক মাত্রায় বিস্তৃত হয় । সংগঠকরা জানিয়েছেন, মোটামুটি ৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ যুক্ত হয় এই প্রতিবাদে।
প্রতিবাদের মূল বার্তা ছিলো, সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করে গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষায় সংহতি। নিরত্তর অহংকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে স্বর উপস্থিতি। রাষ্ট্রীয় পারস্পরিক সংহতি, রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকা স্বত্ত্বেও নাগরিক অধিকার ও মানব মর্যাদায় একাত্মতা।
ডেট্রয়েটের ক্লার্ক পার্কে অনুষ্ঠিত “No Kings” প্রতিবাদ হবে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বর্ণময় এবং জোরালো রাজনৈতিক প্রতিবাদের এক নিদর্শন। হাজারো অর্থনৈতিক, সামাজিক, জাতিগত ও রাজনৈতিক স্তরের মানুষ একত্রে দাঁড়িয়ে জানান, “আমাদের সমাজে কোনো একক ব্যক্তিকে ‘রাজা’ বা ‘সম্রাট’ বানিয়ে রাখা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।” শান্তিপূর্ণ অবস্থাতেই তারা বিশ্বজনীন থেকে রাষ্ট্রীয় স্তরে গণতন্ত্র ও সংবিধানের প্রতি বদ্ধপরিকর নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে।
মন্তব্য করুন