পর্যাপ্ত ঘুম মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার ও মানসিক চাপের কারণে অনেকেই নিয়মিত ঘুমের ঘাটতিতে ভুগছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ঘুমের অভাব মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রয়োজনের তুলনায় কম ঘুম হলে মানুষের মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না। এর ফলে উদ্বেগ, হতাশা, অস্থিরতা ও বিষণ্নতার মতো মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। ঘুমের অভাবে মনোযোগ কমে যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয় এবং স্মৃতিশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন অনিদ্রায় ভুগলে ডিপ্রেশন ও অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডারের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাগ, আচরণগত পরিবর্তন এবং সামাজিক সম্পর্কের অবনতিও লক্ষ্য করা যায়।
বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে রাত জেগে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে ঘুমের সমস্যা বাড়ছে। এর ফলে পড়াশোনায় মনোযোগের ঘাটতি, মানসিক চাপ এবং আত্মবিশ্বাস হ্রাস পাচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা সুস্থ মানসিক জীবনের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহার কমানো, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
সচেতনতা ও সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলেই ঘুমের অভাবজনিত মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন