যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের জনপ্রিয় এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের অতিরিক্ত ফি আরোপের প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ফি’র বাইরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলার দিতে হতে পারে নিয়োগদাতাদের।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) গত ২৫ আগস্ট এ বিষয়ে প্রস্তাবিত নিয়ম ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করেছে। তবে প্রস্তাবিত এই ফি এখনো কার্যকর হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়া হবে। প্রস্তাবটি মূলত cap-subject H-১বি petition-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক এইচ-১বি ভিসার জন্য যে আবেদন প্রক্রিয়া ও লটারির ব্যবস্থা রয়েছে, সেই সীমার আওতাভুক্ত নতুন আবেদনগুলোতে এই অতিরিক্ত ফি আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে সব ধরনের এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে এই ফি প্রযোজ্য হবে না। নির্দিষ্ট উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতো cap-exempt নিয়োগদাতাদের আবেদন প্রস্তাবিত নতুন ফি থেকে বাদ থাকার কথা রয়েছে। DHS-এর হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ৮৫ হাজার আবেদন এই প্রস্তাবিত ফি’র আওতায় আসতে পারে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সরকারের আয় হতে পারে কয়েক বিলিয়ন ডলার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই অর্থ অভিবাসন ব্যবস্থার বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম, আবেদন যাচাই, জালিয়াতি শনাক্তকরণ এবং নিরাপত্তা যাচাইয়ের মতো কাজে ব্যয় করা হতে পারে।
এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ করে থাকে। প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা ও অন্যান্য উচ্চদক্ষতার পেশায় এই ভিসার ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। ফলে অতিরিক্ত বড় অঙ্কের ফি চালু হলে বিদেশি কর্মী নিয়োগে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ফি কার্যকর হলে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে সক্ষম হলেও ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগ কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এতে নতুন করে এইচ-১বি স্পনসরশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ভারতের প্রযুক্তি শিল্পের সংগঠন ন্যাসকম প্রস্তাবিত ফি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও অন্যান্য খাতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণে এইচ-১বি কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অতিরিক্ত বড় অঙ্কের ফি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ তৈরি করতে পারে। তবে প্রস্তাবিত ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের ফি নিয়ে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। এটি বর্তমানে কোনো এইচ-১বি আবেদনকারীর জন্য কার্যকর বাধ্যতামূলক ফি নয়। DHS-এর প্রস্তাব এখনো নিয়ম প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। জনমত গ্রহণের পর সরকার প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করবে কি না, করলে কী ধরনের পরিবর্তন আনবে এবং কখন তা কার্যকর হবে—এসব বিষয় পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত হবে।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত অর্থ মূলত নিয়োগদাতা বা petitioner-এর ওপর আরোপিত হবে; এটি কোনো বিদেশি কর্মীর ব্যক্তিগত ভিসা ফি হিসেবে সরাসরি নির্ধারণ করা হয়নি। তবে নিয়োগদাতার ব্যয় বেড়ে গেলে তার পরোক্ষ প্রভাব কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ এইচ-১বি স্পনসরশিপের ওপর পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে পড়াশোনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং ভবিষ্যতে এইচ-১বি ভিসায় যাওয়ার পরিকল্পনা করা বিদেশি কর্মীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগে অতিরিক্ত বড় ব্যয়ের মুখে পড়লে ভবিষ্যৎ স্পনসরশিপের সিদ্ধান্তেও পরিবর্তন আসতে পারে।
বর্তমানে তাই এইচ-১বি আবেদনকারী ও নিয়োগদাতাদের জন্য নতুন এই ফি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ পরিশোধের কোনো প্রয়োজন নেই। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হওয়ার পরই এর প্রকৃত প্রভাব ও কার্যকর হওয়ার সময়সীমা স্পষ্ট হবে।
মন্তব্য করুন