
মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রামিক সিটির বাংলা টাউনে হ্যামট্রামিক ডাইভারসিটি ফেস্টিভ্যালের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ২১তম পথমেলা। জুলাই মাসের শেষ তিন দিন এই পথমেলাকে কেন্দ্র করে নাচ-গান-আড্ডায় মুখরিত হয়ে ওঠে হ্যামট্রামিকের বাংলাদেশ এভিনিউ। এই আয়োজনের উদ্যোক্তা নাজেল হুদা তাঁর ব্যতিক্রমী চিন্তা-ভাবনায় মিশিগানবাসীকে চমকে দেন। সকল শ্রেণী পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আয়োজন মিশিগানে বাংলাদেশির মিলনমেলায় পরিণত হয়।

পথমেলার সাংস্কৃতিক আয়োজনে সংগীতপ্রেমী দর্শক শ্রোতাদের সুরের মুর্চ্ছনায় বিমোহিত করেন বাউল কালা মিয়া। তিনি মেলার দ্বিতীয় ও শেষ দিনে সন্ধ্যায় মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন। স্বভাব-সুলভ ভঙ্গিতে বাউল কালা মিয়া সিলেটের বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের গান সহ বেশকিছু লোকগান পরিবেশন করেন। কালজয়ী মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনকালে বাদ্যযন্ত্রে সহায়তা করেন শফিকুর রহমান, জিল্লুর রহমান, অভিষেক চৌধুরী। পথমেলায় বাউল কালা মিয়া ছাড়াও সংগীত পরিবেশন করেন অতিথিশিল্পী লাবনী, স্থানীয় শিল্পী শর্মিলা দেব ও জিল্লুর রহমান। তিনদিনব্যাপী এ মহামিলনমেলার প্রধান সমন্বয়ক নাজেল হুদা বলেন, বাঙালি কৃষ্টি-কালচার নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছর আমাদের এ আয়োজন। মিশিগানে বসবাসরত বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে গত দুই দশক ধরে চলমান এই পথমেলা এখন বাঙালির প্রাণেরমেলায় পরিণত হয়েছে। নাজেল হুদা মেলায় আগত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মেলায় অসংখ্য মানুষের উপস্থিতি আমাদের উজ্জীবিত করেছে। আগামীতে আরও বড় পরিসরে মেলার আয়োজন করা হবে।

পথমেলায় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি-পেশার লোকজনের সরব উপস্থিতি এ মেলাতে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। এবারের মেলায় ৪০টিরও বেশি স্টল ছিল তারমধ্যে অধিকাংশই ছিলো বাংলাদেশি বিভিন্ন পণ্যে ভরপুর। চাকরি প্রত্যাশীদের জন্যও কয়েকটি এজেন্সি স্টল দিয়েছে এবারের পথ মেলায়। মেলায় সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় ফুসকা, চানাচুর, আইসক্রিম, বরিশালের আমড়া, মুখরোচক বিভিন্ন রকমের আচার ও মিষ্টি পানসহ দেশীয় হরেক রকম খাবারের স্টলগুলোতে। মেলাতে সবার নজর কেড়েছে শুটকি ভর্তার স্টল। বিভিন্ন স্টলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জানান, মেলার প্রথম দিন তেমন না জমলেও দ্বিতীয় দিন হতে জমে ওঠে মেলা। আমরা এই প্রাণের মেলায় অংশ নিতে পেরে আনন্দিত। কেবল বাংলাদেশি লোকজন নয়, বিভিন্ন দেশের মানুষজনও বেশ আগ্রহ নিয়ে আমাদের পণ্য দেখছেন, ক্রয় করছেন এটা খুবই গর্বের।
মেলায় এপিআই’র পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্য দেওয়া হয় স্কুল ব্যাগ, নোট প্যাড ও পেন্সিল। এছাড়াও কুপনের মাধ্যমে মেলায় আগত দর্শনার্থীদেরও দেওয়া হয় গাড়িসহ অনেক আকর্ষণীয় পুরস্কার।
মন্তব্য করুন