যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বোস্টন ডায়নামিকসের তৈরি চার পায়ের রোবট ‘স্পট’ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এ জন্য ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত অর্থ ব্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) একটি ক্রয়সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, আইসিই বোস্টন ডায়নামিকসের তৈরি উন্নত প্রযুক্তির এই রোবট কুকুর কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সংকীর্ণ, দুর্গম, অস্থিতিশীল কিংবা বিপজ্জনক এলাকায় যেখানে মানুষের প্রবেশ ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে রোবটগুলো পাঠিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ ও ঝুঁকি মূল্যায়নের কাজে ব্যবহার করা হবে।
ডিএইচএস জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই এই প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সন্দেহজনক বস্তু পরীক্ষা, বিষাক্ত গ্যাস বা বিপজ্জনক রাসায়নিক শনাক্তকরণ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের মতো কাজে রোবট কুকুরগুলো সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আইসিই কতটি রোবট সংগ্রহ করবে এবং কবে থেকে এগুলো মাঠপর্যায়ে ব্যবহৃত হবে, সে বিষয়ে ক্রয়সংক্রান্ত নথিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
বোস্টন ডায়নামিকস জানিয়েছে, সরকারি সংস্থা ও জননিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তারা নিয়মিতভাবে কাজ করে আসছে। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে মানুষের ঝুঁকি কমানোই তাদের তৈরি রোবটগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের রোবট কোনো ধরনের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি নেই।
বোস্টন ডায়নামিকসের ‘স্পট রোবট এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, ইনক্লোডিং সিক্রেট সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন এবং তথ্য সংগ্রহের মতো কাজে এর ব্যবহার রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর অভিবাসনবিরোধী অভিযান সাম্প্রতিক সময়ে আরও জোরদার হয়েছে। রোবট ব্যবহারের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের জন্য বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম বিশেষ গ্লাভস কেনার পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। এসব প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নিরাপত্তা ও মানবাধিকার-দুই দিক থেকেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন