প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি ভুলে শেকড়ের টানে একত্রিত হলেন নিউইয়র্কে বসবাসরত বড়লেখাবাসী| বড়লেখা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতি ইউএসএ ইনক-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক বনভোজন-২০২৬| গত ২৬ জুলাই (রবিবার) নিউইয়র্ক সিটির অ্যাস্টোরিয়া পার্কে দিনব্যাপী এ আয়োজনে অংশ নেন শতাধিক প্রবাসী বড়লেখাবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা|
সকাল থেকেই অ্যাস্টোরিয়া পার্কে জমতে থাকে উৎসবের আমেজ| শিশু-কিশোর, তরুণ ও প্রবীণদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল| দীর্ঘদিন পর পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা, আড্ডা, স্মৃতিচারণ ও পারিবারিক মিলনে প্রবাসের মাটিতে যেন ˆতরি হয় এক টুকরো বড়লেখার আবহ|
বনভোজনে ছিল শিশু, নারী ও পুরুষদের জন্য বিভিন্ন খেলাধুলা, বিনোদনমূলক প্রতিযোগিতা, র্যাফেল ড্র এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান| পাশাপাশি পরিবেশন করা হয় দেশীয় নানা খাবার| একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ ও আনন্দঘন সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে প্রবাসী পরিবারগুলো উপভোগ করেন এক অনন্য মিলনমেলা|
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল জব্বার| আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউইয়র্ক-এর সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম, মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলুর রহমান, অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল খালিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ|
বক্তারা বলেন, প্রবাসে বসবাস করলেও মাতৃভূমির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে| বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে বড়লেখার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এসব উদ্যোগ কার্যকর|
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আজাদ হোসেন বলেন, “এ আয়োজন শুধু বিনোদনের জন্য নয়, এটি প্রবাসী বড়লেখাবাসীর মধ্যে ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধন আরও দৃঢ় করার একটি প্রয়াস| নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য|”
দিনশেষে র্যাফেল ড্র ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বড়লেখা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতির বার্ষিক বনভোজন-২০২৬| অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে সামাজিক বন্ধন জোরদার করার পাশাপাশি নিজেদের সংস্কৃতি ও পরিচয় ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে|
মন্তব্য করুন