কোনো কোনো থ্রিলার সিনেমায় গল্পের শুরুটা সাদামাটাও হয়। হয়তো ভেতরে ভেতরে একটু চাপা উত্তেজনা, কিছু একটা ঠিক নেই! তারপর, শেষে এসে একদম জমে যায়।
স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনালের প্রথম আধা ঘন্টায় খুব রোমাঞ্চকর কিছু ঘটেনি। তবে সবার ভেতরেই একটা চাপা প্রশ্ন বা উত্তেজনা ছিল। এ কোন রিয়াল মাদ্রিদ! মৌসুমের প্রথম ফাইনাল, তারওপর প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা, সেখানে আক্রমণে রিয়ালের তেমন গরজ নেই। একটু ডিফেন্সিভ, খেলার বেশি জায়গা দিচ্ছে, বল রাখতে পারছে না, নির্ভর করছে প্রতি আক্রমণের ওপর। রবার্ট লেভানডফস্কি, রাফিনিয়া, লামিনে ইয়ামালদের সামনে জাবি আলোনসোর এই কৌশল বেশিক্ষণ টেকার কথা ছিল না। হলোও ঠিক তাই।
৩৪ মিনিটে রাফিনিয়া নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে পরের মিনিটেই ঠিক আগেরটির ‘কার্ন কপি’ সুযোগে গোল করলেন। জেদ্দার কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে তখনো সবকিছু ঠিক জমে ওঠেনি। গোলটা তো আর অপ্রত্যাশিত নয়। তবে বিশ্বাসের সব বাঁধ ভেঙে যেতে শুরু করল দশ বা এগারো মিনিট পরই। যোগ করা সময় দেওয়া হলো তিন মিনিট। গোল হলো তিনটি! এমন কিছু প্রতিদিন যে দেখা যায় না, সেটা বলে দিল ইতিহাস; ‘এল ক্লাসিকো’র ইতিহাসে যে কোনো এক অর্ধে যোগ করা সময়ে আগে কখনো এত গোল দেখা যায়নি। মাত্র কয়েক মুহূর্তের মহিমায় অসাধারণ কিছু মুভে ম্যাচ ততক্ষণে জমে ক্ষীর। তবু বিরতির সময় কেউ এগিয়ে নেই। যেন কোনো থ্রিলার সিনেমার ‘ইন্টারভাল’—শুরুর মতো সেই ড্র-ই, তবে পাঞ্চ ও পাল্টা পাঞ্চে পাল্টেছে স্কোরলাইন। ২-২।
৪৭ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ৪৯ মিনিটে লেভানডফস্কি ও ৪৬ মিনিটে গঞ্জালো গার্সিয়ার গোলে ম্যাচ নামের এই প্লটে মোচড়ের পর মোচড়। দ্বিতীয়ার্ধটা তাই হয়ে উঠেছিল প্রবল আকাঙ্খিত। গোল হবে আরও সেটা জানা কথাই ছিল। প্রশ্ন হলো কয়টি। শেষ বাঁশি বাজার পর উত্তর মেলাতে গিয়ে কেউ কেউ হতাশ হতে পারেন। মাত্র এক গোল! আসলে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তের উত্তেজনার পারদ যতটা চড়েছিল, তাতে বিরতির পর কাউকে না কাউকে গোল করতেই হতো। বেশ কিছু আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের মধ্যে সেই গোলদাতাটা হলেন ম্যাচে গোলের ঘরে তালা যিনি ভেঙেছিলেন, রাফিনিয়া!
৭৩ মিনিটে বক্সের মাথা থেকে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে শট নেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। রিয়ালের ডিফেন্ডার রাউল আসেনসিওর পায়ে লেগে বলের দিক পাল্টে যায়। পোস্টে গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া তাতে ‘রং ফুটেড’ এব গোল। এই গোলটাই বার্সাকে শেষ পর্যন্ত এনে দিয়েছে ৩-২ গোলের দারুণ এক জয়। তাতে মৌসুমের প্রথম শিরোপা জয়ের সঙ্গে বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিকের ফাইনালে জয়রথ এক ধাপ এগোল। এটা তাঁর ১৫ তম ফাইনাল, ট্রফি হাতছাড়া হয়নি একবারও। আর সর্বশেষ এই জয়ের ‘বোনাস’ হিসেবে কি প্রতিশোধটাও নেওয়া হলো না? গত অক্টোবরেই লা লিগায় রিয়ালের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল বার্সা।
দ্বিতীয়ার্ধে যোগ করা সময়ে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়াংয়ের লাল কার্ড দেখা বার্সার আনন্দকে মাটি করতে পারেনি। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে শেষ ১৫ মিনিটে রিয়ালকে সেভাবে আক্রমণের সুযোগই দেয়নি বার্সা। বদলি নেমে কিলিয়ান এমবাপ্পেও রিয়ালের হার ঠেকাতে পারেননি।
মন্তব্য করুন