রাতের চাঁদের আলোয় আলোকিত সর্দার বাড়ি। আকাশে মেঘের উঁকিঝুঁকি। পুরো উঠোনজুড়ে গ্রামের বিশিষ্টজন, সাধারণ জনগণ। সবার সামনে বসে আছেন হাজী মুহাম্মদ মামদু মিয়া সরদার। তার ঠিক ডান দিকে ৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। বাম দিকে ৬ জন সাধারণ জনগণ। সকলেই এই গায়ের। অর্থাৎ সরদার সাহেবসহ সবমিলিয়ে ১৩ জন।
সীমান্তবর্তী এলাকা শরীফপুর। এই চেয়ারম্যান মেম্বার থাকলেও ৯টি মৌজা বা গ্রাম নিয়ে গঠিত এলাকার সকল সুবিধা-অসুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে এই উঠোন বৈঠকেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কদিন আগে বন্যার প্রকোপ পড়ে এই গ্রামে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় অনেকেই। শহরের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম নেই। নদীর উপরে নৌকা বেয়ে প্রবাসী অধ্যুষিত গ্রামের লোকজন যাতায়াত করে থাকেন।
হঠাৎ করে হাঁচি দিয়ে উঠলেন সরদার সাহেব। গল্পগুজব ছেড়ে উপস্থিত সকলেই নেড়েচেড়ে উঠলেন। তামাকদানি থেকে আগুন নিভে গেল। ডাকলেন কাজের লোক সইদকে। সে তামাক জ্বালাতে নিয়ে গেল ঘরের ভেতরে।
সরদার : রইছ মিয়া কি হলো কিছু বলেন? এই সপ্তাহে গ্রামের কি সমস্যা ?
রইছ : জি চাচা। এ সপ্তাহে আমাদের গ্রামে পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান চাষের উপকরণ এসেছে। তবে . . .
সরদার : তবে কি ?
রইছ : তবে কদিন আগে বন্যা বয়ে যাওয়ায়, উৎপাদন কম হওয়ায় এবং আমদানি পর্যাপ্ত না থাকায় গ্রামে দিয়াশলাইয়ের সংকট দেখা দিয়েছে।
জমির উদ্দিন : এই সমস্যার সমাধান কি সরদার সাহেব ?
ইদ্রিস আলী : ঘরে ঠিক মত রান্না করার জন্য দিয়াশলাই খুব হিসেব করে খরচ করতে হয়।
মদরিছ : গ্রামের বিয়েশাদিতেও ঠিক মত দিয়াশলাই সার্ভিস পাওয়া যায় না।
জয়নুল : সমাধান কি হতে পারে ?
এরই মধ্যে কাজের লোক সইদ এসে হাজির। তামাক ফুঁ দিতে দিতে আসে আর বলতে থাকে, জনাব আপনার তামাক জ্বালাইতে ১৩ টি দিয়াশলাই কাঠি লাগছে। নেন এই তামাকদানি।
তার কথায় উপস্থিত গ্রামের সবাই। একজন আরেকজনের দিকে তাকাতে থাকেন।
সরদার : আমি বুঝতে পারছি এই সমস্যা জটিল। দিয়াশলাইয়ের সংকটের কারণে ঘরের চুলো ঠিক মতো জ্বালানো যাচ্ছে না, রান্না করতে অসুবিধা, হারিকেন জ্বালানো যায় না। তাই গ্রামের সকলকে বলে দিন। পুরো গ্রামের লোকজন যেন ধূমপান আর তামাক থেকে বিরত থাকে। দেখুন আমার তামাক জ্বালাতে যদি ১৩ টি কাঠি জ্বলে। তাহলে গ্রামের অনেকের বাড়ি, আর যারা ধূমপান করে সবাই যদি আমরা ধুমপান আর তামাক খাওয়া বাদ দিয়ে দিই। তাহলে আমাদের স্বাস্থ্য যেমন ভালো থাকবে। দিয়াশলাইয়ের অপব্যবহার রোধ হবে। আর আমি এখন থেকে আর তামাকদানি স্পর্শ করবো না।
পুরো উঠোনের সকলেই সরদার সাহেবের সিদ্ধান্তটি জেনে বেকায়দায় পড়ে গেলেন। সকলেই কতক্ষণ চুপ থেকে একসঙ্গে বলে উঠলেন।
ইনশা আল্লাহ সরদার সাহেব আমরা চেষ্টা করছি, আপনি মুরব্বির কথাগুলো সবাইকে পৌঁছে দিতে। ধূমপানমুক্ত গ্রাম করতে আমরা এখন প্রচারে নামছি।
লেখক : সাংবাদিক- প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, রোটারেক্ট ক্লাব অব সিলেট নিউ সিটি এবং রোটারেক্ট ক্লাব অব নিউইয়র্ক কুইন্স
মন্তব্য করুন