ফিলিস্তিন প্রশ্নটি কয়েক দশক ধরে বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের কারণে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, সমগ্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুদ্ধ, রক্তপাত ও দীর্ঘদিনের অবরোধে নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যূনতম রাষ্ট্রের অধিকার আজও অনিশ্চিত। এ প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশ সম্প্রতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে বিশ্ব রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
একটি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ দ্বারা স্বীকৃত। ফিলিস্তিনিদের জন্যও এর ব্যতিক্রম হওয়া উচিত নয়। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং আন্তর্জাতিক মহলের সহানুভূতির পরেও তাদের রাষ্ট্রের স্বীকৃতি বিলম্বিত হওয়া কেবল অন্যায় নয়, মানবাধিকারের মৌলিক চেতনার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। আজ যখন বহু দেশ এই স্বীকৃতির পথে অগ্রসর হচ্ছে, তখন এটি কেবল একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং ন্যায় ও মানবতার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন।
ইসরায়েলি দমননীতি, অবৈধ বসতি স্থাপন এবং গাজায় বারবার মানবিক বিপর্যয়ের কারণে পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির। এ অবস্থায় ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া কেবল রাজনৈতিক সমাধানের পথ সুগম করবে না, বরং শান্তি আলোচনার জন্যও একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে। বিশ্বশক্তিগুলোর জন্য এটি দায়িত্বশীলতারও পরীক্ষা-তারা কি সত্যিই ন্যায়বিচার ও টেকসই শান্তির পক্ষে, নাকি কেবল ভৌগোলিক স্বার্থের রাজনীতি চালাবে!
বাংলাদেশসহ যেসব দেশ ইতোমধ্যেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তারা এক মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। আরও বেশি দেশ এগিয়ে এলে ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অগ্রাহ্য করা অসম্ভব হয়ে উঠবে।
এখনই সময়, বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো দ্বিধা ঝেড়ে ফেলুক। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, গোটা বিশ্বেই শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের এ যাত্রায় বিশ্বকে আরও সাহসী ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বিশ্ব রাজনীতিতে এখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ঢেউ উঠেছে। যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, পর্তুগাল, ফ্রান্সসহ একাধিক দেশ সাম্প্রতিক সময়ে এ পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে ১৯৩টি জাতিসংঘ সদস্যের মধ্যে প্রায় ১৫৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের দাবিকে সামনে আনার পাশাপাশি শান্তি আলোচনার নতুন ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তবে এর ফলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনার ঝুঁকিও রয়েছে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান করছে; এখন সময় এসেছে বিশ্বকে দেখিয়ে দেওয়ার যে ন্যায় ও স্বাধীনতার ভিত্তিতেই টেকসই শান্তি সম্ভব।
তবুও শক্তিধর কিছু রাষ্ট্রের দ্বিধা, নিরাপত্তা পরিষদে ভেটোর রাজনীতি এবং ইসরায়েলি আগ্রাসন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী, কোনো জাতির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা চিরকাল দমিয়ে রাখা যায় না।
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর দ্বিধা ও ভেটোর রাজনীতি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলকে অন্ধভাবে সমর্থন করে আসছে। ফলে ফিলিস্তিনের জাতিসংঘে পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়া এখনও অনিশ্চিত।
ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা শুধু একটি ভূখণ্ডের প্রশ্ন নয়, এটি মানবিক ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক শান্তির প্রশ্ন। পৃথিবীর শান্তি, মানবাধিকার ও সভ্যতার মূল্যবোধ তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের নিজস্ব রাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে নিশ্বাস নিতে পারবে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের উপেক্ষা বিশ্বব্যাপী সৃষ্টি করছে সংঘাত সুতরাং বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায়, সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অনতিবিলম্বে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়া।
মন্তব্য করুন