হ্যামট্রামিক, মিশিগানের একটি ক্ষুদ্র শহর হলেও বহুজাতিক সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক চেতনার দিক দিয়ে এটি যুক্তরাষ্ট্রে এক ব্যতিক্রমী স্থান দখল করে আছে। আর সেই বৈচিত্র্যের মাঝেই উদিত হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নতুন নেতৃত্ব। আসন্ন হ্যামট্রামিক সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একাধিক প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন, যা নিঃসন্দেহে প্রবাসী সমাজে রাজনৈতিক জাগরণের ইঙ্গিত বহন করে।
বাংলাদেশিরা এতদিন শুধুই শ্রমনির্ভর জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত থাকলেও, এখন তারা নেতৃত্বের আসনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করেছে। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার এডাম আলহারবি, খন্দকার শওকত হোসেন, মুহিত মাহমুদ এবং “মিস্টার বাংলাদেশ” নামে পরিচিত আরেক প্রার্থী। অন্যদিকে ৩টি কাউন্সিলর পদের জন্য লড়ছেন আবু মুসা (বর্তমান সদস্য), প্রাক্তন কাউন্সিলর নাঈম চৌধুরী, রেজাউল করিম চৌধুরী, মাহফুজুর রহমানসহ আরও কয়েকজন। এই প্রার্থীরা শুধু জাতিগত পরিচয়ের মুখপাত্র নন, তারা প্রত্যেকেই হ্যামট্রামিকের নাগরিক সমস্যা, শিক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
আগামী ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে সিটি প্রাইমারি নির্বাচন, যেখানে মেয়র পদের জন্য ২ জন এবং কাউন্সিলর পদের জন্য ৬ জন প্রার্থী চূড়ান্ত হবেন। এরপর ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সিটি জেনারেল নির্বাচনে ১ জন মেয়র এবং ৩ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন। এ নির্বাচন শুধু হ্যামট্রামিকের ভবিষ্যৎ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্তর্ভুক্তির একটি বড় সুযোগ।
এই নির্বাচন আমাদের সামনে নতুন এক দায়িত্বের বার্তা বহন করে। প্রার্থীদের ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের ভাবতে হবে নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও জনগণের সেবায় সত্যিকারভাবে প্রস্তুত যিনি আমরা তাকেই নির্বাচিত করবো। ব্যক্তি নয়, নীতি এবং কমিউনিটির কল্যাণ হবে আমাদের নির্বাচনের মাপকাঠি। সিটি কাউন্সিলরদের ভূমিকা সিটি বাজেট, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সেবা, এমনকি ধর্মীয় স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্তগ্রহণে মুখ্য।
তাই বাংলাদেশিদের এই পদক্ষেপকে বিলাসিতা নয়, বরং প্রবাসে টিকে থাকার, জেগে ওঠার ও নেতৃত্বে আসার প্রয়োজনীয় অংশ হিসেবে দেখতে হবে। এই নির্বাচন শুধু একটি শহরের নির্বাচনী লড়াই নয়-এটি হচ্ছে একটি জাতির মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পথ। প্রবাসে থেকেও আমরা যে বাংলাদেশের প্রতিনিধি, সে বার্তা দিচ্ছে হ্যামট্রামিক। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বাঙালিরা নিজগুণে এগিয়ে যাক এটাই প্রত্যাশা।
মন্তব্য করুন