১০ জুলাই ২০২৫, ১২:১৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মিশিগানে প্রথমবারের মতো শনাক্ত হলো এশিয়ান লম্বা শিংওয়ালা টিক্স

মিশিগানে সম্প্রতি টিকবাহিত রোগসংক্রান্ত সতর্কতা আরও এক ধাপ বেড়েছে। ক্যালভিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রথমবারের মতো রাজ্যে শনাক্ত করেছেন এশিয়ান লম্বা শিংওয়ালা টিক্স নামক একটি প্রজাতি, যা মানুষ, পোষা প্রাণী ও গবাদি পশুর মধ্যে রোগ ছড়াতে সক্ষম।

 

গত মে মাসে বেরিয়েন কাউন্টির গ্র্যান্ড মেরে স্টেট পার্কে চলমান নজরদারি অভিযানে এই টিক্স প্রজাতিটি প্রথম ধরা পড়ে। গবেষণার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা পার্কের হাইকিং ট্রেইলে একটি সাদা চাদর টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তাদের লক্ষ্য ছিল মূলত কালো পায়ের হরিণ টিক্স পর্যবেক্ষণ করা, যা ‘লাইম ডিজিজ’ এর মূল বাহক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সে সময় হঠাৎ করেই নজরে আসে এই নতুন এবং উদ্বেগজনক প্রজাতি।
ক্যালভিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উইলিয়াম মিলার, যিনি প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, বলেন, “এটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। আমাদের লক্ষ্য ছিল ভিন্ন কিছু, কিন্তু যখন এটি ধরা পড়ে, তখন পুরো প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা দ্রুত সক্রিয় হয়। এটি নিঃসন্দেহে এক অদ্ভুত আবিষ্কার।”
এই টিক প্রজাতিটি মূলত এশিয়ার কিছু অঞ্চলে সাধারণ, তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি ছড়িয়ে পড়েছে। এটি মানুষ, পোষা প্রাণী, এমনকি গবাদি পশুর মধ্যেও সংক্রমণ ঘটাতে পারে, এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী সংক্রমণের ঝুঁকিও বহন করে।

 

প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘোরাফেরার সময় টিক কামড়ের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। অধ্যাপক মিলার সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন: বাইরে যাওয়ার সময় মোজার ভিতরে লম্বা প্যান্ট গুঁজে পরুন, DEET বা permethrin যুক্ত টিক-বিরোধী স্প্রে ব্যবহার করুন, ঘরে ফিরে গোসল করে নিন এবং টিক পরীক্ষা করুন।
মিশিগানের প্রধান চিকিৎসা নির্বাহী ডাঃ নাতাশা বাগদাসারিয়ান বলেন, “যদি আপনার শরীরে কোনও টিক ধরা পড়ে, তবে দ্রুত সেটি সরিয়ে ফেলুন। এরপর স্বাস্থ্যগত কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ যেমন জ্বর, ফুসকুড়ি, পেশী বা জয়েন্টে ব্যথা দেখা দিলে, কিংবা যদি টিক ২৪ ঘণ্টার বেশি শরীরে ছিল বলে সন্দেহ হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।”

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিক মিশিগানে নতুন নয়, তবে নতুন প্রজাতির উপস্থিতি ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্ক বার্তা। টিক প্রাকৃতিক পরিবেশে সাধারণ, তাই ঘোরাফেরার সময় সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই হতে পারে এই ঝুঁকি মোকাবিলার সর্বোত্তম উপায়।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এপস্টিন নথি ইস্যুতে পাম বন্ডিকে বরখাস্তের পথে ট্রাম্প

মার্কিন ডলারে থাকবে ট্রাম্পের স্বাক্ষর কোনো প্রেসিডেন্ট আগে কি এমনটা করেছেন?

একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

জলবায়ু ক্ষতির তিন দশক ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে লাখো মানুষ ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্প

ফ্লোরিডায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী-২০২৬ অনুষ্ঠিত

মিশিগানে কুলাউড়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতির পিঠা উৎসব ও ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত

কর্নেল ওসমানী যেভাবে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হয়ে উঠলেন

ইরান কি আমেরিকার জন্য দ্বিতীয় ভিয়েতনাম

১০

আস্থা, অগ্রযাত্রা ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে “বাংলা সংবাদ” আটটি সফল বছর পেরিয়ে নবম বর্ষে পদার্পণ

১১

ডানকিন ডোনাটসের ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দেড় মিলিয়ন ডলার জরিমানা

১২

নিউইয়র্কে “হোপ নেভার ডাইস” প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী

১৩

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রচারিত হবে রাজীদ সিজনের ‘কাদিশ’

১৪

নিউইয়র্কে ৩০ লাখের বেশি অভিবাসী সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ

১৫

মার্কিন ফার্স্ট লেডির আমন্ত্রণে ওয়াশিংটনে গ্লোবাল সামিটে ভাষণ দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান

১৬

নতুন আইআরএস নিয়মে কর ফেরত পেতে দেরি, অনেকের অর্থ ‘ফ্রিজ’

১৭

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের অধিকার সীমিত করতে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প প্রশাসন

১৮

যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্স রিফান্ড জালিয়াতি মামলায় ৩ ব্যক্তির কারাদণ্ড

১৯

নতুন বই নিয়ে মিশিগানে আসছেন জিলবাইডেন

২০