১৬ জুন ২০২৫, ১২:১২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ইসরাইলি বিশেষজ্ঞ বললেন, শেষ পর্যন্ত আমাদেরকে ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতি ভিক্ষা চাওয়া লাগতে পারে

একজন ইসরাইলি নিরাপত্তা ও সামরিক বিশেষজ্ঞ ইসরাইলি নেতাদের সতর্ক করে বলেছেন যে তারা যেন ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতি ভিক্ষা চাওয়ার আগে এই উন্মাদনা বন্ধ করে।

 

 

শুক্রবার তেহরান এবং ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে ইসরাইলি হামলায় বেশ কয়েকজন সামরিক কমান্ডার, বিজ্ঞানী এবং বেসামরিক নাগরিক শহীদ হন। এই আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায়, ইরান শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় আক্রমণ শুরু করেছে। মেহর নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইসরাইলি নিরাপত্তা ও সামরিক বিশেষজ্ঞ ইয়োসি মেলম্যান ইসরাইলি নেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন যে তারা যেন তেহরানের কাছে যুদ্ধবিরতি ভিক্ষা চাওয়ার আগে এই উন্মাদনা বন্ধ করে। মেলম্যান বলেন, “যদি পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকে, অবশেষে ইসরাইল ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতি ভিক্ষা চাইতে বাধ্য হবে।”

 

 

তিনি আরো লিখেছেন যে এই আনন্দ উচ্ছ্বাস ক্ষণস্থায়ী ছিল। শুক্রবার সকালে আমি নিজেকেই জিজ্ঞাসা করলাম, ‘যুদ্ধে যাওয়া কি সত্যিই প্রয়োজনীয় ছিল, বিশেষ করে ইরানিদের বিরুদ্ধে?’ ইসরাইলি এই বিশেষজ্ঞ জোর দিয়ে বলেন: “শিয়ারা ঐতিহাসিকভাবে কষ্ট সহ্য করতে প্রস্তুত। আমি তাদের ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতার বিষয়টি স্মরণ করি, যেমনটি তারা ইরাকের সাথে আট বছরের যুদ্ধে নজিরবিহীন ত্যাগের প্রমাণ দেখিয়েছিল। তাই আমি অনুরোধ করছি যে হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনুন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাহায্যে চুক্তির মাধ্যমে এই যুদ্ধ উন্মাদনা বন্ধ করুন; অন্যথায়, শেষ পর্যন্ত আমাদেরকে যুদ্ধবিরতির জন্য ভিক্ষা চাইতে হবে এবং ইরান তা প্রত্যাখ্যান করবে।

 

 

এদিকে, কায়রো স্কুল অফ পলিটিক্যাল সায়েন্সের প্রাক্তন ডিন “আলিয়া আল-মাহদি”ও ইরানের উপর ইসরাইলের আক্রমণের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: “ইরান একটি বৃহৎ দেশ এবং এ দেশটির নাগরিকরা বৈজ্ঞানিক সকল ক্ষেত্রে পারদর্শী।” তিনি আরও বলেন: “ইসরাইল সরকারকে এই অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা, ফেতনা, দাঙ্গা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সৃষ্টি করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ব্রিটেন ও পশ্চিমারা এই অঞ্চলে ইসরাইল নামক অবৈধ রাষ্ট্র তৈরি করেছিল যার উদ্দশ্যে ছিল তেল ও গ্যাস সমৃদ্ধ এ অঞ্চলের ওপর আধিপত্য বিস্তারের জন্য।”

 

 

আরেকজন মিশরীয় বিশ্লেষক কামাল হাবিব বলেছেন: ইরানের জন্য বড় সুযোগ এসেছে ইসরাইলের উপর মারাত্মক আঘাত হানার, যারা মনে করে যে তাদের শর্ত আরোপ করার এবং এই অঞ্চলে দখলদার হিসেবে উপস্থিত থাকার ক্ষমতা একমাত্র তাদেরই রয়েছে। যদি ইসরাইল এবারের মতো বেঁচে যায়, তাহলে আমরা আমাদের দেশে থাকতে পারব না। আমাদের শান্তি ও মর্যাদার একমাত্র শর্ত হলো ইসরাইলের পরাজয় ও ধ্বংস।এই বিশ্লেষক, ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাথে বর্তমান যুদ্ধে ইরানের প্রতি আরব বিশ্বের পূর্ণ সমর্থনের আহ্বান জানিয়ে বলেন: আমাদের প্রধান শত্রু হলো ইসরাইল। আরেকজন মিশরীয় বিশ্লেষক, আবদেল নবী ফারাজও বলেন: আমরা বর্তমানে ইসরাইলি ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছি।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বারহাম সালিহ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসী তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

মেডিকেইডের ওষুধের দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন নীতি ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মী ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি আরও এক বছর

তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে আবার বাড়ল সুদের হার

১৮ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রিনকার্ডে নতুন পাবলিক চার্জ নিয়ম

গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবসায় লাগাম, মার্কিন নজরদারিতে প্রতিষ্ঠানটি

বিজিবির অভিযানে মাদক-অস্ত্রসহ ৯১৩ কোটি টাকার পণ্য জব্দ, আটক ২৮১

১০

ডেট্রয়েট থেকে আটলান্টিক সিটি, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তৃত উপস্থিতি

১১

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমাতে ডলারের বিকল্প খুঁজছে বিভিন্ন দেশ

১২

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সঙ্গে বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র

১৩

গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে নতুন নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রে, যাচাই হবে স্পনসরের ক্রেডিট তথ্য

১৪

সৌদি আরবে ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

১৫

ডাকযোগে ভোটের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের উদ্যোগে বাধা

১৬

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ভোটের অভিযোগে ৭ গ্রিন কার্ডধারী গ্রেপ্তার

১৭

ছয় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ার হার সর্বোচ্চ

১৮

প্রথমবার প্রকাশ্যে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

১৯

নবীনদের বরণ, গ্র্যাজুয়েটদের বিদায়: ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বিজিএসএ’র যাত্রা শুরু

২০