আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচে ‘ব্যাক টু ব্যাক’ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন বাংলাদেশি ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত।
প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান শান্তর সঙ্গে এবার দ্বিতীয় ইনিংসে যোগ দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হকও। টাইগার ব্যাটারদের এমন অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে জয়ের সুবাস নিয়েই তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে টাইগাররা।
শুক্রবার (১৬ জুন) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে চা বিরতির পর ৪ উইকেটে ৪২৫ রান সংগ্রহের পর দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ দল। এরপর ৬৬২ প্রায় অসম্ভব লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ উইকেটের বিনিময়ে ৪৫ রানে দিন শেষ করেছে আফগানরা। জয়ের জন্য এখনও আফগানিস্তানের দরকার ৬১৭ রান, হাতে আছে ৮ উইকেট আর ২ দিন।
নাজমুল শান্তর অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে ভর করেই প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষকে ছয়শ রানের অধিক টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ দল। তাই তো দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসেও শান্তকে নিয়েই প্রশংসার স্তুতি গেয়েছেন মুমিনুল। একই সাথে শান্তর মতো ব্যাটিংয়ের ইচ্ছার কথাও জানান ২৬ মাস পর সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া বাঁহাতি এই ব্যাটার।
মুমিনুল বলেন, ‘শান্তর ইনিংস দেখলে মনে হয় খেলাটা অনেক ইজি, সবদিক দিয়ে খেলে। আমারও মনে হয় এভাবে খেলি। কিন্তু আমি যেরকম ব্যাটার ওইরকম খেলা একটু কঠিন। দেখতে খুব ভালো লাগে, শান্ত-লিটন দুজনের ব্যাটিংই সুন্দর লাগে। শান্ত খারাপ বলটা বাউন্ডারি না মেরে ছাড়ে না। দুই ইনিংসে সে যেভাবে খেলেছে, আউটস্ট্যান্ডিং। এরকম গরম কন্ডিশনে দুই ইনিংসে একশ করাটা অনেক বড় অ্যাচিভমেন্ট।’
ক্যারিয়ারের শুরুতে ব্যাট হাতে রানের দেখা পাচ্ছিলেন না শান্ত। যে কারণে অনেক সমালোচনা ও ট্রলের শিকার হতে হয় তাকে। তবে শান্তকে তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার টোটকাও দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক এই টেস্ট অধিনায়ক, ‘শান্ত ধৈর্য ধরেছে, প্রসেসটা ঠিক রেখেছে নিজের। যেটা করার দরকার ও তা-ই করেছে। এভাবে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করতে থাকলে সে বড় প্লেয়ার হতে পারবে। ওর এখন রেগুলার পারফর্ম করা দরকার।’
টেস্ট ফরম্যাট নিয়ে নিজের স্বপ্নের প্রসঙ্গ টেনে মুমিনুল বলেন, ‘যখন অধিনায়ক ছিলাম, আমিও স্বপ্ন দেখতাম। আমার স্বপ্ন ছিল টেস্ট ক্রিকেটটাতে উন্নতি করব। আমার কাছে মনে হয় নতুন যারা শিখতেছে, এটা তাদের সবার ভেতর ছড়িয়ে যাচ্ছে। দীপু (শাহাদাত হোসেন দীপু) ঢুকলো, অন্য যারা আছে, নাইন্টিনে খেলছে তাদের সবার ভেতরে ইচ্ছে আছে লাল বলে খেলার। তাদের কেউ শুধুমাত্র সাদা বল খেলতে চায় না। লাল বলে খেলতে হলে প্যাশন ও ড্রিম দেখাতে হবে যে আগামী ৩-৪ বছর পর আপনার টিমকে কোথায় দেখতে চান। নইলে কিন্তু আমাদের টেস্ট দলের বোলিংটা এত ভালো হয় না।’
আরও পড়ুন: শান্তর ১৪৬ রানে স্বস্তিতেই ১ম দিন শেষ করল বাংলাদেশ
মন্তব্য করুন