আবুল কাসেম
১৬ মে ২০২৩, ৬:০২ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সমাজের কল্যাণে সদা ঝলমল রাজনীতিবিদ শাহিন আজমল

শাহিন আজমল জন্মগ্রহণ করেন মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার সুজানগর গ্রামে। পাথারিয়া পাহাড়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য, সুবিশাল পাহাড়ের পাদদেশ ঘেসে রয়েছে সবুজ মাঠ ও নদী। আবার পাশেই রয়েছে হাকালুকি হাওর, যেখানে পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে।

১৯৭৮ সালে শাহিন আজমল সিলেট দক্ষিণভাগ এন.সি.এম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর ১৯৭৯ সালে তিনি এমসি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন।

রাজনীতি নিয়ে তিনি জীবনের শুরু থেকেই ভেবেছিলেন। সেজন্য শিক্ষা জীবন থেকেই তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়। এক সময়ের সিলেট জেলার ছাত্র অধিকার নির্বাচনে কাদের চুন্নু পরিষদ থেকে ছাত্রলীগের হয়ে ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। তখন থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ১৯৮০-৮১ শিক্ষা বর্ষে সিলেট এমসি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করেন। পরে চট্রগাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করেন।

এমসি কলেজে থাকাকালীন সময়ে তিনি ১৯৮২ সালে জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনের পতনের কিছু আগের দিকে তৎকালীন সময়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক সিলেট এমসি কলেজে আসেন। পরে সিলেট এমসি কলেজের কমিটি গঠন করেন আজমলকে সাধারণ সম্পাদক এবং গোলাম রব্বানিকে সভাপতি করেন।

পরবর্তী সময়েও আজমল এমসি কলেজে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সে সময়ে শাহিন আজমলকে সিলেট জেলা থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে তিনি সক্রিয়ভাবে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পরেন।

১৯৯১ সালে আজমল যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। এরপরে আবারও তিনি আওয়ামীলীগ রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের যে কমিটিতে খালেদ হাসান সভাপতি এবং এম এ সালাম শামিম সাধারণ সম্পাদক সেই কমিটিতে আজমল দীর্ঘ ৯ বছর কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন।

২০১১ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামীলীগের ৭৬ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন।

সেই কমিটিতে নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আজমল। বর্তমানেও তিনি নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সব সময় মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য বুক ভরা আশা আর চোখে স্বপ্ন নিয়ে রাজনীতিতে পা রাখেন আজমল। নিজের এলাকাকে স্বপ্নের মতো গড়বেন এটাই তার ইচ্ছা। মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাগব করে একটি সুন্দর এলাকা উপহার দিতে চান আজমল। আর সেই স্বপ্নকে লালন করছিলেন শৈশব থেকেই।

মানুষের জন্য নিজের সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে চান নির্বাচনের মাধ্যমে। আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

আজমল বলেন মানুষের জন্য কাজ করার প্রয়াস তার অনেক আগে থেকেই। তিনি মানুষের জন্য শৈশব থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচিত হলে তার এলাকার জন্য কাজ করার অনেক সুযোগ থাকে। আর তিনি মনে করেন কেউ যদি মন থেকে এলাকার উন্নয়ন চান, তাহলে তিনি এলাকার অনেক উন্নয়ন করতে পারবেন।

তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী এলাকা মৌলভীবাজার-১, বড়লেখা-জুড়ী। এ অঞ্চলটি আসলে প্রবাসী এলাকা। এই এলাকার অনেক মানুষ প্রবাসে থাকে। আর সেই প্রবাসীদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে একটি দক্ষ মানব সম্পদে তৈরি করতে কাজ করবেন তিনি। কেননা এ খাত থেকে বাংলাদেশে প্রচুর অর্থ আসে। এতে করে দেশ এবং এলাকার অর্থনীতির উন্নতি হবে।

তিনি আরও বলেন একটি দেশ তথা এলাকা উন্নত করতে হলে প্রথমে নজর দিতে হবে তৃণমূলে। আসলে তৃণমূল থেকেই কাজ করতে হবে আমাদের, তাহলেই দেশ তথা এলাকা উন্নত হবে। এই এলাকায় কারিগরি কলেজ থাকলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা অনেক দক্ষ হয়ে উঠবে। কেননা এই এলাকা প্রবাসী এলাকা । প্রবাসীরা দক্ষ হলে প্রবাসে অর্থ উপার্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

আর তিনি নির্বাচিত হলে তার এলাকায় কারিগরিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন। বিশেষ করে তিনি কারিগরি শিক্ষার প্রতি বেশি জোর দিবেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের এলাকার মানুষ খেলাধুলা প্রিয় মানুষ। আমাদের এলাকার মানুষ বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলেছেন। এই খেলা প্রিয় মানুষের খেলাধুলাতে আমাদের একটা ঐহিত্য রয়েছে। খেলাধুলাতে আমাদের একটা ঐতিহ্য রয়েছে। আর আজমল নির্বাচিত হলে আগের সেই খেলার ঐতিহ্য ফিরে আনতে চেষ্টা করবেন।

তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে আসা আজমল মনে করেন, ৪৩ বছর ধরে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সংঙ্গে নিজের সর্বস্ব দিয়ে আছেন। আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অসময়ে তিনি দলের পাশেই ছিলেন। এমনকি বর্তমানেও তিনি দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপশক্তিকে রুখতে দেশে বিদেশে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এছাড়াও আজমলকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছেন। এমনকি দলের প্রতি আজমলের যে একনিষ্ঠতা এ থেকে আজমল শতভাগ আশাবাদি জননেত্রী শেখ হাসিনা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকেই মনোনীত করবেন। এর সঠিক মূল্যায়ন তিনিই পাবেন বলে মনে করেন আজমল।

৪৩ বছর ধরে রাজনীতিতে যুক্ত থাকা এই প্রবীন রাজনীতিবীদ অনেক দিন ধরে রাজনীতির বিভিন্ন ঘাত- প্রতিঘাত পেরিয়ে এসেছেন। তাই অভিজ্ঞতারও কমতি নেই। তিনি তার দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে পারবেন। আর তিনি নির্বাচিত হলে তার এলাকার প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করবেন। মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চান।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লেখক ইশতিয়াক রুপু’র স্মৃতিচারনমূলক গদ্যের বই ‘জলজোছনার জীবনপত্র’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে ফ্যাশন ও উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে পণ্য তৈরিতে জোর হুয়াওয়ের

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের জন্য অনুশীলন শুরু করেছে বাংলাদেশ দল

প্রবাসে দলাদলি, মারামারি, রক্তারক্তি আর কত? এতে বাঙালি কমিউনিটির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ বিশ্বব্যাংকের (এমডি) অ্যানা বেজার্ড এর

বিপিএল এর কিছু প্লেয়ার এর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কোচ হাথুরু

বসে বসে কাজ, ডেকে আনে সর্বনাশ

বড়লেখায় ভাষা শহীদদের প্রতি নিসচা’র শ্রদ্ধা নিবেদন: নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ

প্রতিদিন শ্যাম্পু করা ও হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার কি চুলের ক্ষতি করে?

রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণ কী?

১০

যেসকল দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়া উমরাহ পালন করতে পারবেন

১১

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলো আর্জেন্টিনা

১২

হার্ট সতেজ রাখতে প্রয়োজন খাদ্যভ্যাসে ৫টি পরিবর্তন

১৩

মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর উপায়

১৪

টং টং: বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিশু

১৫

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: ২ বাংলাদেশি যুবক নিহত

১৬

রাশিয়ায় কারাবন্দী বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির মৃত্যু

১৭

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড: নতুন চুক্তিতে সাকিব-শান্তদের বেতন

১৮

পাকিস্তানের নির্বাচনে যেভাবে ভূমিকা বদল হল ইমরান খান ও নওয়াজ শরিফের

১৯

মিয়ানমার সংকট: চীন-ভারতের স্বার্থ আর বাংলাদেশের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ

২০