বহু বছরের সেবামূলক অভিজ্ঞতা, পারিবারিক দায়িত্বশীলতা, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা আর মানুষের পাশে থাকার নিষ্ঠা-এই সবকিছু মিলিয়ে একজন মানুষ ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন একটি জনভিত্তিক রাজনৈতিক স্বপ্ন। হ্যামট্রামিক শহরের সেই স্বপ্ন দেখা মানুষটি এখন একজন প্রার্থী, যিনি কাউন্সিলম্যান পদে দাঁড়িয়েছেন শুধুমাত্র নেতৃত্বের জন্য নয়, বরং সেবার হাত আরও প্রসারিত করতে। নাঈম এল. চৌধুরী, এই নামটি হয়তো সব বাড়িতে এখনও পৌঁছায়নি, কিন্তু যেসব ঘরে তিনি গিয়েছেন, সেখানেই রেখে এসেছেন আন্তরিকতার ছাপ।
জনসেবাই যার রাজনৈতিক ভিত্তি
তার রাজনীতির শুরু হয়েছিল কোন ব্যানার বা র্যালি দিয়ে নয়, বরং মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই।
“আমার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় সমাজ ও জনসেবার প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে,”-বলছিলেন নাঈম এল. চৌধুরী।
গত ২০ বছর ধরে তিনি হ্যামট্রামিকের মানুষের পাশে আছেন। ইনকাম ট্যাক্স আর ইন্স্যুরেন্স ব্যবসার মাধ্যমে বাসিন্দাদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। পাশাপাশি সিলেট দক্ষিণ সুরমা অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি এবং পরে ইঅউঈ-এর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সহ-সভাপতির মতো দায়িত্বও পালন করেছেন। এই কমিউনিটি রোলগুলোর মাধ্যমেই তিনি ধীরে ধীরে প্রবেশ করেছেন রাজনীতির জগতে বলে নেওয়া যায়, এটি কোনো পরিকল্পিত ক্যারিয়ার ছিল না, বরং মানুষের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার প্রতিদান।
নির্বাচিত হলে যেসব বিষয়ে আগে কাজ করতে চান
নাঈম এল. চৌধুরী জানান, তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে ন্যায্য প্রপার্টি ট্যাক্স, বেশি গ্রান্ট সুবিধা, এবং নিরাপদ আশপাশ গড়ে তোলা। “অনেক বাসিন্দা অতিরিক্ত ট্যাক্স দিচ্ছেন আমি এই ব্যবস্থাকে আরও ন্যায্য ও স্বচ্ছ করতে চাই। পাশাপাশি আমি হোমওনার, ছোট ব্যবসা এবং স্থানীয় প্রকল্পগুলোকে সহায়তা করার জন্য আরও বেশি গ্রান্ট নিয়ে আসতে চাই,”-বলছিলেন তিনি।
শুধু তাই নয়, নিরাপত্তার বিষয়েও তিনি বেশ সোচ্চার।
“আমি চাই রাস্তাগুলো পরিষ্কার, আলোযুক্ত হোক। পুলিশ যেন জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে। তবেই আস্থা গড়ে উঠবে, অপরাধ কমবে।”
উন্নয়ন মানে সবার জন্য, এককেন্দ্রিক নয়
নাঈম এল. চৌধুরী মনে করেন, উন্নয়ন শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট এলাকার জন্য হওয়া উচিত নয়। “আমি পুরো হ্যামট্রামিক শহরের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করতে চাই। বহুদিনের পুরনো রাস্তাগুলো মেরামত, গর্ত ভরাট, পরিচ্ছন্ন পাবলিক স্পেস তৈরিই আমার অগ্রাধিকার।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “প্রতিটি বাসিন্দারই উন্নত রাস্তা, পরিচ্ছন্ন পার্ক এবং নিরাপদ আশপাশে থাকার অধিকার আছে।”
তরুণদের জন্য আলাদা ভাবনা
তরুণ প্রজন্মকে ঘিরে তার পরিকল্পনা স্পষ্ট: খেলার মাঠ, শেখার সুযোগ এবং সৃজনশীল পরিবেশ।
“আমি চাচ্ছি কমিউনিটি স্পোর্টস যেমন ফুটবল, ক্রিকেটসহ খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে। পাশাপাশি এমন জায়গা গড়ে তুলতে চাই যেখানে তারা শিখতে পারে, নিজেদের প্রকাশ করতে পারে।”
তার ভাষায়,
“আমার লক্ষ্য হলো তারা যেন নিজেদের দৃশ্যমান, গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত মনে করে।”
বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতি বার্তা: ‘আমি একজন সহযোদ্ধা’
“হ্যামট্রামিকের প্রিয় বাংলাদেশি ভাই-বোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।”
নাঈম এল. চৌধুরী বলেন, “আমি শুধু একজন প্রার্থী নই, আপনাদের পাশে দাঁড়ানো একজন সহযোদ্ধা। আমি সবসময় কমিউনিটির পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।”
তার মতে, কমিউনিটির ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। ভিন্ন মত, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন পথ সব এক হলে বদলে যাবে ভবিষ্যৎ।
মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছানোই তার প্রচারণার কৌশল
এই প্রার্থী বিজ্ঞাপন বা শোডাউন নয়, বরং বাস্তব মানুষের সঙ্গে বসেই প্রচারণা চালাচ্ছেন।
“আমি ঘরে ঘরে যাচ্ছি, সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। আমি চাই আমার প্রচারণা হোক ব্যক্তিগত, আন্তরিক এবং সৎ।”
তার সঙ্গে রয়েছে একটি স্বেচ্ছাসেবক দল, যারা বিশ্বাস করে নাঈম এল. চৌধুরী কথা রাখবেন।
কাউন্সিলে ঐক্যের সংস্কৃতি গড়তে চান
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, সব কাউন্সিল সদস্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারেন। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু লক্ষ্য এক হ্যামট্রামিকের কল্যাণ।”
তিনি টিমওয়ার্ক, খোলামেলা আলোচনা এবং সমাধানমুখী চিন্তার ওপর জোর দেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
“প্রথমে আমি চাই অন্ধকার এলাকাগুলো আলোকিত হোক। রাস্তায় আলো থাকলে মানুষ নিরাপদ বোধ করে, অপরাধও কমে।”
পাশাপাশি তিনি চান সিসিটিভি স্থাপন এবং পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হোক পার্ক, রাস্তার মোড় ও ব্যবসার এলাকায়।
কাউন্সিলে গঠনমূলক সংস্কার চান
নাঈম এল. চৌধুরী চান একটি ছোট কিন্তু কার্যকর কাউন্সিল গঠিত হোক, যেটা নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধানে সক্ষম হবে।
“প্রতি সপ্তাহে একবার ছোট পরিসরের বৈঠক হলে জনগণের সঙ্গে সংযোগ বাড়ে, সমস্যার সমাধানও সহজ হয়।”
নাঈম এল. চৌধুরী জোরে বলছেন না, কিন্তু প্রতিটি কথায় শোনা যাচ্ছে আত্মবিশ্বাস, আন্তরিকতা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। তিনি চান না মানুষ তাকে ভোট দিক শুধু পরিচিতির কারণে বরং কাজের ভিত্তিতে, মূল্যবোধের ভিত্তিতে, এবং সত্যিকারের পরিবর্তনের জন্য।
মন্তব্য করুন