সৌরভ আহমেদ
১ জুলাই ২০২৫, ২:০৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সিটি কাউন্সিল নির্বাচন ২০২৫: হ্যামট্রামিকবাসীর আস্থার প্রতীক হতে চান রেজাউল করিম চৌধুরী

হ্যামট্রামিক শহরের এক নিঃশব্দ পথিক, যিনি বছরের পর বছর নিজের মতো করে কাজ করে গেছেন এই শহরের মানুষের জন্য তিনি রেজাউল করিম চৌধুরী। অনেকেই তাকে চেনেন, আবার অনেকেই জানেন না, এই মানুষটিই হয়তো হতে যাচ্ছেন সিটি কাউন্সিলের পরবর্তী সাহসী কণ্ঠস্বর।
এ বছর প্রথমবারের মতো হ্যামট্রামিক সিটি কাউন্সিলম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন রেজাউল করিম। তবে তার রাজনীতির স্বপ্নটা কিন্তু হঠাৎ করে আসেনি। বরং ২৫ বছরের প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, অভিবাসী কমিউনিটির প্রতি দায়িত্ববোধ, এবং একটা ভালো শহর গড়ার নিরবচ্ছিন্ন ভাবনা থেকেই গড়ে উঠেছে এই সিদ্ধান্ত।

 

 

আপনার সম্পর্কে সংক্ষেপে বলুন।

আমি রেজাউল চৌধুরী, হ্যামট্রামিক সিটির বাসিন্দা ও দীর্ঘদিন ধরে এই শহরের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। আমি এম.সি কলেজ, বাংলাদেশ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করি। এরপর আমি ডেট্রয়েটের বিল্ড ইনস্টিটিউট থেকে উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ নেই। বর্তমানে আমি হ্যামট্রামিক সিটির Board of Review, Beautification Commission এবং Citiæen’s Patrol-এর সদস্য হিসেবে কাজ করছি। এছাড়া আমি Hamtramck Resident’s Forum (HRF), Chittagong University Alumni Association, Golapgonj Helping Hands USA এবং Global Detroit USA- সঙ্গেও যুক্ত আছি।
আমার জনসেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে আমি Hamtramck Community Initiative, হ্যামট্রামিক সিটি, স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং Wayne County Commissioner-এর দপ্তর থেকে সম্মাননা পেয়েছি।

“আমি কাউন্সিলম্যান হতে চাই, কারণ আমি এই শহরটাকে ভালোবাসি”

এই সহজ কথা দিয়েই শুরু করলেন রেজাউল করিম তার কথোপকথন। “আমি ১১ বছর ধরে হ্যামট্রামিকে আছি। এই শহরের প্রতিটি রাস্তায়, প্রতিটি পার্কে, মানুষের চোখে মুখে আমি আশার আলো দেখি। আমি চাই সেই আশাগুলো বাস্তব হোক। আমি এই শহরের নাগরিকদের জীবনমান আরও উন্নত করতে চাই,”-বলছিলেন তিনি।

 

 

প্রথম রাজনীতির স্বাদ প্রেসিডেন্ট আল গোরের প্রচারে

আমেরিকায় পা রাখার পরপরই রাজনীতির প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয় রেজাউলের। “ডেমোক্রেটিক পার্টির কর্মকাণ্ড আমাকে অনুপ্রাণিত করেছিল। বিশেষ করে তারা যেভাবে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করছিল, সেটা আমাকে ছুঁয়ে যায়। আমি সদস্য হই এবং প্রেসিডেন্ট প্রার্থী আল গোরের প্রচারণায় যুক্ত হই।” এই ছিল তার রাজনৈতিক যাত্রার শুরু।

 

নির্বাচিত হলে কী হবে তার প্রথম কাজ?

“আমি চাই সবার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হোক। হ্যামট্রামিক হচ্ছে একটা মিশ্র সংস্কৃতির শহর। এখানে ইয়েমেনি আছে, বাংলাদেশি আছে, আফ্রিকান-আমেরিকান আছে। কিন্তু অনেক সময় তারা একে অপরের সঙ্গে জড়িত থাকে না। আমি চাই সবাই যেন মনে করে, আমরা সবাই এই শহরের সমান মালিক। এটা আমাদের শহর।”

 

চ্যালেঞ্জ আছে, কিন্তু সমাধানও সম্ভব

“হ্যামট্রামিকের সবচেয়ে বড় সমস্যা অবকাঠামো ও পানি নিষ্কাশনের। বৃষ্টির পর রাস্তায় পানি জমে থাকে, মানুষ কষ্ট পায়। আমি চাই এসব সমস্যা আর থাকুক না। আধুনিক পরিকল্পনায় এগুলো সমাধান সম্ভব,” বলেন রেজাউল করিম।

 

‘নির্দিষ্ট এলাকা নয়, পুরো শহরই আমার দায়িত্ব’
তিনি মনে করেন, কাউন্সিলম্যান হিসেবে তার দায়িত্ব শুধু একটি ওয়ার্ড বা ব্লকের জন্য নয়, বরং পুরো হ্যামট্রামিকের জন্য।
“আমি নির্দিষ্ট এলাকার পক্ষে না। যেখানে সমস্যা, সেখানে কাজ করতে চাই।”

 

নির্দলীয় নির্বাচন, কিন্তু নীতির প্রশ্নে আপসহীন
রেজাউল করিম নিজেকে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেন। বলেন,
“এই নির্বাচন নির্দলীয়, তাই আমি কোনো পার্টির হয়ে দাঁড়াইনি। তবে আমি বিশ্বাস করি ন্যায়, স্বচ্ছতা, আর মানুষের অংশগ্রহণে পরিচালিত শাসনে।”

বাংলাদেশিদের জন্যও রয়েছে তার বিশেষ ভাবনা
“আমি চাই, বাংলাদেশি কমিউনিটি আরও সচেতন হোক। তারা যেন ভোট দেয়, মত প্রকাশ করে, নিজের অধিকার জানে। আমি বাংলাদেশের মানুষদের বলবো-এই শহর শুধু থাকার জায়গা নয়, এটা আমাদের ভবিষ্যতের জায়গা। তাই আমাদের সম্পৃক্ত হতে হবে।”

 

‘বিল্ডিং ব্রিজ’ থেকে শুরু, এখন শহর গড়ার স্বপ্ন

তিনি হ্যামট্রামিকে ‘ব্রিজ বিল্ডার’ হিসেবে পরিচিত। “আমি আগে থেকেই ‘বিল্ডিং ব্রিজ’ ও ‘সোশ্যাল কোহিশন’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে কাজ করে আসছি। এখন আমি চাই সেটা আরও বড় পরিসরে, সিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে করবো।”

 

মানুষের প্রতিনিধি হতে চান, নেতা নয়

রেজাউল করিম চৌধুরীর কথায় বারবার উঠে আসে একটি বিষয় “আমি নেতা হতে চাই না, আমি জনগণের কণ্ঠস্বর হতে চাই।”
তিনি চান, শহরের সবাই যেন নিজের কথা বলার অধিকার পায়। তার মতে, কাউন্সিলম্যানদের কাজ কেবল বাজেট পাশ করা নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের আশা ও সমস্যার কথা শুনে তার সমাধানে অংশ নেওয়া।
এই শহর রেজাউল করিমকে দিয়েছে নিরাপত্তা, সম্মান ও পরিচয়। এবার তিনি চান সেই শহরের জন্য কিছু ফিরিয়ে দিতে।
হ্যামট্রামিকের মানুষ যদি তার ওপর আস্থা রাখে, তিনি কথা দিয়েছেন—“আমি কাউকে বিভক্ত করবো না, বরং সবাইকে এক করার কাজ করবো।”

 

-বাংলা সংবাদ-এর পক্ষ থেকে তাকে জানাই শুভকামনা।
এই শহরকে আরও সুন্দর ও মানবিক করে গড়ে তোলার স্বপ্ন যেন বাস্তবে রূপ নেয়।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মার্কিন ডলারে থাকবে ট্রাম্পের স্বাক্ষর কোনো প্রেসিডেন্ট আগে কি এমনটা করেছেন?

একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

জলবায়ু ক্ষতির তিন দশক ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে লাখো মানুষ ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্প

ফ্লোরিডায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী-২০২৬ অনুষ্ঠিত

মিশিগানে কুলাউড়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতির পিঠা উৎসব ও ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত

কর্নেল ওসমানী যেভাবে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হয়ে উঠলেন

ইরান কি আমেরিকার জন্য দ্বিতীয় ভিয়েতনাম

আস্থা, অগ্রযাত্রা ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে “বাংলা সংবাদ” আটটি সফল বছর পেরিয়ে নবম বর্ষে পদার্পণ

১০

ডানকিন ডোনাটসের ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দেড় মিলিয়ন ডলার জরিমানা

১১

নিউইয়র্কে “হোপ নেভার ডাইস” প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী

১২

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রচারিত হবে রাজীদ সিজনের ‘কাদিশ’

১৩

নিউইয়র্কে ৩০ লাখের বেশি অভিবাসী সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ

১৪

মার্কিন ফার্স্ট লেডির আমন্ত্রণে ওয়াশিংটনে গ্লোবাল সামিটে ভাষণ দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান

১৫

নতুন আইআরএস নিয়মে কর ফেরত পেতে দেরি, অনেকের অর্থ ‘ফ্রিজ’

১৬

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের অধিকার সীমিত করতে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প প্রশাসন

১৭

যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্স রিফান্ড জালিয়াতি মামলায় ৩ ব্যক্তির কারাদণ্ড

১৮

নতুন বই নিয়ে মিশিগানে আসছেন জিলবাইডেন

১৯

প্রবীণদের একাকিত্ব ভাঙছে কমিউনিটি উদ্যোগ ডেট্রয়েটের ব্রাইটমোর পাড়ায় নতুন করে গড়ে উঠছে সামাজিক সংযোগ

২০