কয়েক দশক আগে ফেলে দেওয়া কোনো জিনিস নিশ্চয়ই ফিরে পাওয়ার আশা কেউ করেন না, আর তা যদিও হয় সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার চিঠি। তাহলে সেটিতো অনেকটা অসম্ভবই। তবে, সেই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি ঘটেছে মার্কিন নাগরিক ট্রয় হেলারের জীবনে। না চাইতেই তিনি ফিরে পেয়েছেন ৩৭ বছর আগে সাগরে ফেলে দেওয়া একটি চিঠি।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৫ সালে ফ্লোরিডার ভেরো সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিলেন ট্রয় হেলার। তখন তার বয়স মাত্র ১০ বছর। সে সময় ওই বোতল সাগরের পানিতে ছুড়ে দিয়েছিলেন তিনি।
চিঠি ফেরত পাওয়ার এ ঘটনা ঘটে গত নভেম্বর মাসের ১৩ তারিখে। সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সেবাস্তিয়ান শহরের সৈকত দিয়ে হাঁটছিলেন কেটি কারম্যাক্স ও অ্যানি কারম্যাক্স। এর আগে ওই অঞ্চলে হারিকেন নিকোল আঘাত হেনেছিল। হারিকেনের কারণে সৈকতে জমে থাকা আবর্জনা সেদিন পরিষ্কার করছিলেন কয়েকজন শিক্ষক। তারা কেটি ও অ্যানির হাতে একটি বোতল তুলে দেন। ওই বোতলের মধ্যে ছিল একটি চিঠি।
চিঠিতে লেখা ছিল ট্রয় হেলারের নাম আর একটি ঠিকানা ও ফোন নম্বর। সেই তথ্য ব্যবহার করে অনলাইনে ট্রয়ের খোঁজ শুরু করেন কেটি ও অ্যানি। পরে খোঁজ পান, কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের মাউন্ট ওয়াশিংটনে একই নামে একজন থাকেন।এরপর ওই ঠিকানায় ফোন দেন দুজন। ট্রয় প্রথমে অপরিচিত নম্বর দেখে ফোন ধরেননি। পরে একটি খুদে বার্তা দেখে চমকে ওঠেন।তিনি বলেন, ‘আমি যখনই বার্তাটি দেখলাম, ওই বোতলে চিঠি ভরে ফেলে দেওয়ার ঘটনাটি আমার মনে পড়ল।’
ট্রয়ের সন্ধান পাওয়ার পর চিঠিটি তার কাছে পাঠিয়ে দেন কেটি ও অ্যানি। বর্তমানে ট্রয় সেটি তার ছবির সঙ্গে ফ্রেমে বাঁধিয়ে রেখেছেন।স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে ট্রয় জানান, প্রায় চার দশক পরও সেটি ঠিকঠাক থাকবে, এমন আশা করেননি।
ট্রয় বলেন, ‘এটা এমন একটা ঘটনা, যা আপনি কখনো ভাবতে পারবেন না। আমি ভেবেছিলাম, বোতলটা পানিতে ছুড়ে দেব আর সেটি কত দূর যায় দেখব। তবে শেষ পর্যন্ত বোতলটা আমার কাছে ফিরে আসাটা অসাধারণ।’
মন্তব্য করুন