বাংলাদেশ এক গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশ একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে তত কঠিন হয়ে উঠছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা। একের পর এক দাবি পূরণ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্বজনীন নানামুখী চাপও সামলাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এইসব চাপের ভিতর দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ নাজুক অবস্থানে। “অপারেশন ডেভিল হান্ট” অভিযানে হাজার হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
দেশের অর্থনীতি রয়েছে চাপের মুখে। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২৫ অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেতে পারে। দিন দিন বাড়ছে বেকারত্ব যা উদ্বেগজনক। এছাড়াও খাদ্যে মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গণমাধ্যমের ওপর প্রচুর চাপ ছিল, এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে কিছুটা স্বাধীনতা ফিরে এসেছে। তবে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা এখনও ঘটছে, যা উদ্বেগের বিষয়। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের রেশ বাংলাদেশেও পড়েছে। বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কে যা আমরা কখনো প্রত্যাশা করিনা।
জাতিসংঘের মহাসচিব বাংলাদেশ ঘুরে গেলেও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভালো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বরং মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কে কিছুটা অবনতি ঘটেছে। কবে এই সংকট কাটিয়ে উঠবে বাংলাদেশ তা বলা মুশকিল!
এদিকে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচনের তাগিদ দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধানও একই সুরে জানালেন “ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত।” সুতরাং ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পেয়েছে।
রাজপথ ঘেরাও করে প্রায় প্রতিদিন চলছে বিভিন্ন সংগঠন সংস্থার হরেক রকমের আন্দোলন। কখনও কখনও দাবি আদায়ও হচ্ছে। নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের হিড়িক দেখা যাচ্ছে।
এককথায় চরম অস্থিরতা আমরা লক্ষ্য করছি বিভিন্ন অঙ্গনে যা কাম্য নয়। আমাদের প্রত্যাশা পরিপূর্ণ গণতন্ত্রের আলোয় উদ্ভাসিত হবে আমাদের স্বদেশ।
অথচ বাংলাদেশ এখন সংকটময় সময় পার করছে যা করার কথা ছিলনা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক সংহতি নিশ্চিত করা জরুরি। সবার অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করাও দরকার।
আমরা মনে করি এই সংকটময় সময় দ্রুত কেটে যাবে এবং সকল রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।
মন্তব্য করুন