নিউইয়র্ক শহরের ব্যস্ত সড়ক টাইমস স্কয়ার ব্রডওয়ে । সেভেনথ এভিনিউ-এর এলাকায় হাঁটতে হাঁটতে জুতোর দিকে তাকাচ্ছে সুশান্ত । স্টুডেন্ট ভিসায় আমেরিকায় আসার আগে সে ভাবেনি , এই শহরের পথে পথে হেঁটে হেঁটে চাকুরির সন্ধানের জন্য ৫ হাজার বাংলাদেশি টাকার জুতোর নিচ ক্ষয়ে যাবে । খাবারের জন্য হা-হুতাশ করতে হবে । কোটিপতি বাবার হোটেলে যখন দেশে ছিল বা ভার্সিটিতে দামি পারফিউম মেখে যেত তখন সে কি ভেবেছিল, আমেরিকায় এসে তাকে এরকম না খেয়ে থাকতে হবে । পথে পথে মানুষের দ্বারে দ্বারে চাকুরির জন্য ঘুরঘুর করতে হবে !
স্প্রিং সেশনের এই সময়ে অর্থাৎ শীতের পরপরই চলে আসা । এই তো সবে মাত্র তিন সপ্তাহ হল । ১ম দু সপ্তাহ ভালো কেটেছে । জ্যাকসন হাইটসের মেরিট কাবাব রেস্টুরেন্টের বিরিয়ানী, ইত্যাদি চিকেন এন্ড গ্রিলের নানা রকম ভর্তা, কাচ্চি বিরিয়ানী, হাট বাজার রেস্টুরেন্টের হালিম, ফুচকা-চটপটি খেয়ে নিউইয়র্কের বন্ধুদের সাথে আড্ডা মেরে কেটে গেছে । বন্ধুরা সবাই ভাবছে, ঢাকার গুলশানের বাসিন্দা দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর ছেলে হয়তো অনেক টাকা দেশ থেকে নিয়ে এসেছে, খেতে থাকো । রুজভেলটের নিচের পার্টি মাস্তি আড্ডায় সাথে থাকা ১২৫০০ ডলার শেষ দুই সপ্তাহে ।
আর নীতিবান বাবা বলে দিয়েছেন, ১২৫০০ ডলার তোমাকে ৬ মাসের জন্য দিয়েছি । এ টাকা দিয়ে তুমি খাবে, থাকবে । বাকি পড়ার টাকা ডাইরেক্ট কলেজে পাঠিয়ে দিব, তুমার কাজিন গার্ডিয়ান সুনীলের কাছে ।
সময়ের গ্যাঁড়াকলে পড়ে সুশান্তর আজ মাথায় হাত, চাকুরি না করলে খাবে কি । এ দেশে সবাই কাজ করে, খেটে খেয়ে থাকে । সে দেশের যত বড় ধনাঢ্য হোক না কেন । কাজের কোন লজ্জা নাই, কাজ কাজই । তাইতো সারাদিন থেকে ম্যানহাটানে কাজের জন্য ঘুরছে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে । তবে এখানে রেফারেল ছাড়া কাজ মেলে না । গার্ডিয়ান যিনি আছেন, তিনি বলে দিয়েছেন, নিজে নিজে কাজ খুঁজো এ দেশে সবাই নিজে নিজে কাজ খুঁজে কাজ করে । পড়ন্ত দুপুর ।
সেভেনথ এভিনিউ থেকে এইটথ এভিনিউ আসতেই সুশান্তর চোখে পড়ে একটি দামি ভ্যানিটি ব্যাগ
রাস্তায় পড়ে আছে । লুকিয়ে হাতে নিল । পকেটে একটা ডলারও নেই । ব্যাগ টা দেখে ভাবছে হয়তো টাকা থাকতে পারে । একটু আড়ালে গিয়ে হাত ঢুকিয়ে দেখে ও মা । দুই বান্ডিল ১০০ ডলারের নোট । আর কিছু মেকআপ পণ্য । তরিঘরি করে ব্যাগ থেকে ডলার বের করে মাটিতে ফেলে দিয়ে । খুবই বুদ্ধিমত্ত্বার সাথে চলে গেল । নিম্নে হলেও বিশ হাজার ডলার হবে এ কথা ভেবে ভেবে সেভেন ট্রেনে সোজা উডসাইড ৬১ স্ট্রীট । বাসায় এসে সে ভাবে, হায় অভাবে আমার স্বভাব নষ্ট হয়ে গেল । কার টাকা আজ আমার হাতে !
লেখক : সম্পাদক, ছোট কাগজ প্রবাল ।
মন্তব্য করুন