পূর্বাচলে আয়োজিত বাণিজ্য মেলায় আলোচনায় এসছে ১৬ পরির রাজকীয় পালঙ্ক খাট ।খাটের চার কোণে ডানা মেলে দাঁড়ানো অবস্থায় রয়েছে চারটি কাঠের তৈরি পরি। পরিদের ডান হাতে রয়েছে প্রজাপতি। জলম এবং বক্সের অংশে রয়েছে ছোট বড় আরও ১২টি পরি।
হাতে খুদাই করা এ খাটে রয়েছে নানা রকমের নকশা যা মেলায় আগত দর্শনাথীদের নজর কাড়ছে । সেগুন কাঠ দিয়ে সম্পূর্ণ হাতে খোদা করা ১৬টি পরি ছাড়াও নানা রকমের নকশায় ফুটে উঠেছে খাটটি।
খাগড়াছড়ির গুইমারা ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি মো. আবু বক্করের (৩৫) তৈরি খাটটির ছবি সামাজিক যোগোযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও পরি পালঙ্কের সংবাদ প্রচার করা হয়। অনেকে আবার সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করছেন।
জানা গেছে, শখের বসে খাটটি বানিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলা গুইমারা ইউনিয়নের ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী মো. নুরন্নবী। শখের বশে বানালেও তিনি খাটটি বিক্রি করতে নিয়ে এসেছেন ঢাকা বাণিজ্য মেলায়।
২০১৭ সালে নুরুন্নবীর বাড়িতে পরি পালঙ্ক খাটের কাজ শুরু হয়। খাটের কাজ শেষ হয় গত বছরের ১৬ মার্চ। কোনো সহযোগী ছাড়া এককভাবে ৩ বছর ২ মাসে এটি তৈরি করেছেন আবু বক্কর। কাঠমিস্ত্রি তার কাজের পারিশ্রমিক নিয়েছেন ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এটি তৈরি করতে কাঠ লেগেছে প্রায় ৮৫ ঘনফুট। খাটটির বার্নিশের পেছনে খরচ হয়েছে লাখ টাকারও বেশি। এতে মোট ব্যয় হয়েছে ৪০ লাখ টাকা।
এক কোটি টাকা হলে খাটটি বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন নুরুন্নবী। এরই মধ্যে ৫০ লাখ টাকা দাম উঠেছে । তবে এক কোটি টাকা চাইলেও কিছুটা কমে বিক্রি করবেন বলেও জানিয়েছেন নুরুন্নবী।
তিনি জানান, এই খাটটি যে কিনবে খাটের সঙ্গে উপহার হিসেবে তাকে ইয়ামাহা ব্যান্ডের একটি এফ জেড মোটরসাইকেল এবং ১ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার দেওয়া হবে।
কাঠমিস্ত্রি মো. আবু বক্কর জানান, বহুদিন আমার স্বপ্ন ছিল এমন একটি পরি খাট বানাবো; অবশেষে বানাতে পেরেছি। এ রকম আরও কিছু জিনিস বানানোর করার ইচ্ছা আছে। অত্যাধুনিক কারুকাজের খাটটি তৈরিতে কোনো ক্যাটালগ ব্যবহার করা হয়নি; যা কিছু করেছি আমার আবেগ থেকে। খাটটিতে ১৬টি পরি, ৪টি প্রজাপতি ও ৪টি চাঁদ রয়েছে।
মন্তব্য করুন