ভ্রমণ মানেই কি শুধু ছবি তোলা আর ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলা? স্মার্ট অভিভাবকদের কাছে ভ্রমণ এখন তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু। এটি শিশুদের জন্য এক ধরনের নীরব পাঠশালা যেখানে বই নেই, পরীক্ষা নেই, কিন্তু শেখার অভিজ্ঞতা সারাজীবনের।
শিশুরা যখন পাহাড়ের ঢালে দাঁড়িয়ে মেঘ ছুঁতে চায়, কিংবা সমুদ্রের ঢেউয়ে পা ভিজিয়ে বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে, তখন তাদের চোখে জন্ম নেয় নতুন প্রশ্ন। সেই প্রশ্ন থেকেই শুরু হয় শেখা। প্রকৃতি, ইতিহাস, মানুষ আর সংস্কৃতির সঙ্গে সরাসরি পরিচয় শিশুদের কল্পনাশক্তি ও বোধকে করে তোলে আরও বিস্তৃত।
ভ্রমণের পথে শিশুরা শেখে অপেক্ষা করতে, নিয়ম মানতে এবং ভিন্ন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে। ট্রেন ধরার তাড়া, হোটেলের নতুন ঘর, অপরিচিত খাবারের স্বাদ সবকিছুই তাদের জীবনের ছোট ছোট প্রশিক্ষণ। এই অভিজ্ঞতাগুলো ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও দায়িত্ব পালনের ভিত্তি গড়ে দেয়।
পরিবারের সঙ্গে কাটানো ভ্রমণের সময়গুলো শিশুদের মনে নিরাপত্তা ও ভালোবাসার অনুভূতি জাগায়। ব্যস্ত জীবনে যেখানে অভিভাবক ও সন্তানের কথোপকথন প্রায়ই সীমিত হয়ে পড়ে, সেখানে একসঙ্গে পথচলা সম্পর্ককে করে তোলে আরও গভীর ও দৃঢ়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট বয়সে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং তাদের মধ্যে সহমর্মিতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে। ভিন্ন মানুষ, ভিন্ন জীবনযাপন দেখে শিশুরা বুঝতে শেখে পৃথিবী শুধু নিজের চারপাশেই সীমাবদ্ধ নয়।
এই কারণেই স্মার্ট অভিভাবকেরা ভ্রমণকে বিলাসিতা নয়, বরং সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি সচেতন প্রয়াস হিসেবে দেখছেন। কারণ পথচলার মাঝেই শিশুরা শেখে জীবনকে চিনতে আর সেই শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
মন্তব্য করুন