বিশ্ব আজ অস্থির, উত্তাল। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, ভৌগোলিক আধিপত্য আর ধর্মীয় বিভাজন-সব মিলিয়ে মানবসভ্যতা যেন আবার যুদ্ধের অন্ধকারে ঢুকে পড়েছে। একদিকে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে জ্বলে উঠেছে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের স্ফুলিঙ্গ। তার সাথে চলছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনের দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। প্রশ্ন ওঠে-এ কেমন সভ্যতা, যেখানে শিশুদের কান্না থেমে নেই, যেখানে মানুষের জীবনের চেয়ে রাজনীতি বড়?
ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত শুধু ইউক্রেনে সীমাবদ্ধ নয়-এর প্রভাব পড়েছে খাদ্য সরবরাহ, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। অন্যদিকে গাজায় প্রতিনিয়ত বোমা পড়ছে, শিশুরা ঘুমাতে গিয়ে জেগে ওঠে ধ্বংসস্তূপে। একদিকে হামাসের রকেট, অন্যদিকে ইসরায়েলের বিমান হামলা-এই চক্রবদ্ধ সহিংসতা একটি জেনারেশনকেই ধ্বংস করে দিচ্ছে। এর মাঝখানে হারিয়ে যাচ্ছে শান্তির স্বপ্ন, ন্যায়ের দাবি।
আর এখন নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ইরান-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক উত্তেজনা।এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন একটাই-আমরা কি এমন এক পৃথিবী চেয়েছিলাম যেখানে অস্ত্রের গর্জনে ঢাকা পড়ে শিশুর কান্না? যেখানে রাজনৈতিক স্বার্থ মানবিকতা ও শান্তির চেয়ে বড় হয়ে ওঠে? যেখানে সংবাদপত্রের প্রতিটি পাতায় লাশের সংখ্যা বাড়ে, অথচ মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না? বিশ্ব এখন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। যুদ্ধ কখনো কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না-ইতিহাসই তার সাক্ষী। প্রয়োজন ন্যায়ভিত্তিক শান্তির উদ্যোগ। সংলাপ, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহসী ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।
সব ধর্ম, জাতি ও মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে পৃথিবী হোক সহমর্মিতা, সংলাপ ও মানবিক মূল্যবোধে গঠিত এক আশ্রয়। শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে পড়ুক ঘরে ঘরে।
মন্তব্য করুন