আকাশ তার অপার ভালোবাসায়, উজ্জ্বল নক্ষত্রের আড়ালে মেঘ কে হৃদয়ের গহিনে লুকিয়ে রাখে-
বেশ আবেগময় আকাশ! একদিন তার এই ঘন আবেগ হালকা হয়ে দম্ভে সপ্তর্ষি মন্ডলে ফিরে যায়। খুঁজে পায় পরিজনের অমৃত্বের স্বাদ; ঠিক তখনি কেটে যায় তার সমস্ত মোহমায়া।
বিতাড়িত করে মেঘ কে,,। আর মেঘ অজস্র ব্যথায় পেজার মতো স্তুপীকৃত হয়ে আকাশের আনাচে কানাচে ঘুরতে থাকে।
ঠাঁই হয়নি কোথাও, অবশেষে চটপট করতে করতে ব্জ্রীকন্ঠে অঝোর কান্নায় ঝরে পড়ে পৃথিবীর পেলব বুকে।
নির্বাসন নেয় পিতৃ-মাতৃতূল্য অর্ণব ও মৃত্তিকার বুকে।
–ভীষণ ভালোবাসি তোমায় মেঘ,আমি তোমার মাঝে বেঁচে থাকার প্রেরণা পাই।
_ তাই বুঝি! কিন্তু তুমি যদি আমায় ছেড়ে চলে যাও?
_দূর পাগলী,আমি শুধু তোমার।
তোমার কাছ থেকে আমাকে পৃথিবীর কোন শক্তি আলাদা করতে পারবেনা।
_সত্যি বলছো তো আকাশ?
_ মেঘ! সত্যি, সত্যি, সত্যি।
_তোমার হাত ধরে যাওয়ার পর কিন্তু আমার আর কোথাও জায়গা থাকবে না। সবাই পরিত্যাগ করবে। তুমি যদি কভুও তোমার পরিবারের আদেশে আমার হাত ছেড়ে দাও তখন আমার আর কোনো উপায় থাকবেনা।
_ তুমি নিশ্চিন্তে আমায় ভরসা করতে পার মেঘ।
আমি আমার সর্ব শক্তি দিয়ে তোমায় আঁকড়ে ধরবো।
উফ্ফ !চল আমরা বিয়ে করে নিই।
_ওকে, চল।
_ মেঘ, আজ থেকে তুমি আমার স্ত্রী।
_ আকাশ, আজ আমি তোমাকে পেয়ে ভীষণ সুখী
সারাজীবন আমায় এভাবে আঁকড়ে থেকো।
_ হুম, সোনা বউ আমার।
_ এই তুমি আমায় তোমার বাড়ি নিবে কবে?
_ একটু সময় দাও, জান আমার।
_ আমি খুব শীগ্রই তোমার বাড়ি যেতে চাই।বাবার স্নেহ পাইনি কতোদিন, তোমার বাবা আমায় মেনে নিবে তো আকাশ?
_ কি বল তুমি! আমার বাবা বন্ধুর মতো। কখনো আমার কোনো সিদ্ধান্তে দ্বিমত পোষণ করেনি।
_ তাহলে তো বেশ ভালোই হলো, এবার ঈদ তোমার বাড়িতে কাটাবো।।
_ জান, আমি তো এবার ঈদে বাড়ি যাবনা, ছুটি পাব না।
_ কি বল? তোমার পরিবার আছে বাড়িতে, না গেলে মানুষ খারাপ ভাববে।
অবশেষে আমাকে দোষারোপ করবে সবাই।
_ এই শুনো, আমি ঈদে এখানে থাকলে বাড়তি একটা ইনকাম আসবে। এই সুযোগ কি সব সময় পাবো বল?
_ আচ্ছা,তুমি যা ভালো মনে কর।
_ মেঘ! আমি ইমার্জেন্সি বাড়ি যাচ্ছি, আব্বা নাকি খুব অসুস্থ।
_ আচ্ছা। তুমি ফিরবা কবে?
_ এই ধরো ২/৩ দিন থাকবো।
_ ঠিক আছে যাও।
_ হাসপাতালে আজ ২/৩ দিন হলো। আব্বা এখন একটু ভালো আছে। আজ রিলিজ নিয়ে বাড়ি যাব।
_ আজ এক সপ্তাহ হয়ে গেল, তুমি ফিরবা কবে আকাশ?
_ হ্যাঁ গো, এখানে সমস্যা হয়ে গেছে। আব্বা তো আমায় আর যেতে দিবেনা।
_ কি বল তুমি! আমি তোমায় ছাড়া কিভাবে থাকবো? তুমি আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন, আমার যে তুমি ছাড়া কেউ নেই।
_ আমি আব্বাকে কথা দিয়েছি, বাহিরে যাবনা আর।
আমি চাকরিতে গেলে আমার আব্বা মারা যাবে।
_ লক্ষীটি আমার,এমন করোনা প্লিজ। তোমার আব্বা এখন আর ছোট না। চাকরিস্থলে ফেরায় কারো পিতা সন্তানের জন্য মরেনি।
এটা উনার জেদ শুধু ।
তোমাকে আমার কাছ থেকে আলাদা করার চক্রান্ত মাত্র।
_ এই শুনো, আমার বাপ ছাড়া আমার আর কেউ নেই। প্যাঁছাল পাইড়ো না আমার সাথে।
_ আকাশ আমি আর পারছিনা, বিশ্বাস কর আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। হাসপাতালে ভর্তি আছি আজ ৩ দিন। তুমি ফিরে আসো।
_ আমার চাকরি চলে গেছে, গিয়ে কি করবো!
_ আমি চাকরিস্থলে কথা বলেছি, তুমি ফিরে আসো প্লিজ।
_ আমি আর যাব না, গ্রামে ব্যবসা করবো।
_ তাহলে আমাকে কেন জড়ালে, তোমার জীবনের সাথে বল?
তুমি তো আমার সম্পর্কে সব যানতে।
_ এই শুনো, আবেগ দিয়ে জীবন চলেনা।
_ কি বলো এইসব! আমি কি তোমার সাথে প্রেম করতেছি?আমি তোমার বিয়ে করা বউ। আমায় যদি স্ত্রীর অধিকার না দিতে পার, তাহলে বিয়ে নামে পবিত্র সম্পর্কের সাথে নাটক করলে ক্যান?
কেন আমায় ব্যবহার করলে??
– এই শুনো, আমি তোমাকে কখনো ব্যবহার করিনি আর করবোও না। তুমি আমাকে ছেড়ে দাও।
_ কিভাবে ছেড়ে দে আমি তো যানি না। আমায় না চাইলে তুমি ছেড়ে দিও, কখনো দাবী নিয়ে তোমার সামনে যাবনা।
কথা দিলাম তোমায়।
_ কউ, হ্যালো,হ্যালো,হ্যালো মেঘ!
কি হলো আজ ৩ দিন বুঝতে পারছি না। লাইনেও নেই, কল ও ধরছো না।
_ বেঁচে আছি। অসুস্থ, হাসপাতালে ছিলাম।
– ডাক্তার কি বললো?
কথা বলতে পারছিনা এখনো, পরে জানাবো।
ভালো আছো নিশ্চয়ই, পরিবার নিয়ে।
_ বাজে কথা বলোনা।
_ টাকা নেই, মেডিসিন কিনতে পারছিনা, অন্যদিকে আমার মাস্টার্স ভর্তির ডেট শেষ হয়ে যাচ্ছে কিছু টাকা দাও।
_ আমি কোথায় পাব টাকা? টাকা নেই আমার কাছে।
_ তুমি তোমার পরিবার চালাচ্ছো না! শুধু আমার জন্য বুঝি থাকেনা?
_ আচ্ছা পাঠাচ্ছি, তোমার বেতন হলে আমায় দিয়ে দিও।
_ দেখা যাক।
_ কোথায় তুমি? আমার পার্টনারের সাথে ঝামেলা হয়েছে। তোমাকে টাকা দিছি আব্বাকে বলে দিছে।
_ আমি তোমার বউ, আমাকে টাকা দিছ তোমার আব্বার সমস্যা কি?
_ এই চুতমারানি, আমার আব্বা বাড়িতে ঝামেলা করতেছে। তাড়াতাড়ি টাকা পাঠা।
_ ৩ দিন পর টাকার জন্য গালি শুনবো তো জানা ছিল না। আমার কাছে তো এখন কোনো টাকা নেই।
গলার সোনা বিক্রি করে হলেও পাঠিয়ে দিব কালকে।
তুমি বেড়াতে গেছ বলতে পারতে! পার্টনারের সাথে ঝামেলা হয়েছে বলে মিথ্যে বললা ক্যান?
_ এই চুতমারানি আমি মিথ্যা বলতেছি না,,,? টাকা পাঠা।
_ টাকা পাঠালাম।
তুমি কবে আসবা? অনেকদিন দিল আমার কাছে আসোনি।
_ টাকা নেই, ১০ হাজার টাকা ম্যানেজ কর, তারপর যাবো।
_ তুমি কি তোমার পরিবার চালাচ্ছো না?
শুধু আমার কাছে আসতে বললে টাকা থাকেনা।।
_ চারিদিকে বন্যা হচ্ছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক।
_ এখন তো পানি নেমে গেছে,গাড়ি ও চলতেছে,কখন আসবা?
_ তোমার বেতন হলো?
_ হ্যাঁ।
_ ঠিক আছে, আগামী সপ্তাহে আসবো।
_ কি কর? এই শুনোনা টিবিতে নাকি দেখাচ্ছে এখানে পানি উঠে ৯০% এলাকা ডুবে গেছে। আমাকে আজ ৩ দিন লাইনে না পেয়ে মা,বোন কান্নাকাটি শুরু করতেছে।
_ আদিখ্যেতার জায়গা নেই, ৩ বছর কথা বলোনি যে তখন কোথায় ছিলো?
_ উনারা কল দিত, আমি ধরতাম না রাগ করে।
_ তাহলে তো এখন তোমার মা,ভাই,বোন সব হয়েছে। আমি না থাকলেও চলবে। আমার জন্য যদি ওরা আবার তোমায় পর করে দেয়।
_ ওরা পর করে দিলে কি আমাকে রাখার ক্ষমতা তোমার নেই?
_ যদি বলি নেই।
_ তাহলে তো আর বলার কিছু থাকেনা। তুমি কি চাও?
আমি আমার মা,বোন এর সাথে যোগাযোগ না রাখি।
_ তা হবে কেন! ওরা তোমার আপনজন বলে কথা। আমার প্রতি তোমার ভালোবাসা আর অধিকার তো কিছুই দেখলাম না।
_ কি বলছো তুমি এইসব? ওরা আমার মা,বোন আর তুমি আমার স্বামী। তুমি আমার জীবন। তোমার স্থান কি কেউ নিতে পারবে?
_ তা নিতে পারবেনা কেউ।
_ আমাকে এভাবে কষ্ট দেবার মানে কি? আর সামান্য একটা কথায় মনের ভিতর নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা আসে কেন?
_ আমি মজা করে বললাম। এই পাগলি!
_ এই কেমন মজা? কথায় কথায় আমাকে বাদ দিয়ে দাও,ছেড়ে দাও, ভবিষ্যতেও তোমাকে ব্যবহার করবোনা। পৃথিবীতে কোন স্বামী স্ত্রীর মাঝে এই ধরনের আলাপচারিতা হয়?
_ হ্যালো,কউ তুমি? হ্যালো এই মেঘ! তুমি কাঁদছো ক্যান?
_ ভালো লাগছেনা কিছু আমার, ভালো থেকো, রাখলাম।
রাত যতো গভীর হয়, বুকের যন্ত্রণা ততোই বাড়ে। তীব্র যন্ত্রণায় সারারাত ছটফট করে মেঘ। বিধি এই কোন পরিক্ষায় ফেললে, মেঘের আর্তনাদ। ভালোবেসে আকাশের বুকে আশ্রয় নেয়, কিন্তু আকাশ আনমনে পরিবারের অমৃত স্বাদ নিয়ে মেঘের আড়ালে ঘুরে বেড়ায়। একাকীত্বের চাদরে নির্জন কায়মনে বিনিদ্র রজনী অকালে অঝোরে অশ্রু ঝরায়। আকাশের রাগ,জেদ,দম্ভে মেঘের অকাল বর্ষণ। হয়তো মেঘের নির্বাসন না হয় বর্শ হবে একদিন।
মন্তব্য করুন