যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিরোধী আন্দোলন। ‘নো কিংস’ স্লোগানে দেশটির বড় বড় শহরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে গত ২৮ মার্চ লাখো মানুষ রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এটি চলমান আন্দোলনের তৃতীয় দফা, যেখানে আগের দুই দফাতেই মিলিয়ন মানুষের অংশগ্রহণ ঘটেছিল।
বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি, কঠোর অভিবাসন আইন এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। আন্দোলনকারীদের ভাষায়, “আমেরিকায় ক্ষমতার মালিক জনগণ-কোনো রাজা নয়।” তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন রাষ্ট্রক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করে স্বৈরশাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক সিটি এবং লস অ্যাঞ্জেলেস, মিশিগানসহ দেশের প্রায় সব বড় শহরেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওয়াশিংটনে লিঙ্কন মেমোরিয়াল-এর সিঁড়ি ও ্যাশনাল মল এলাকায় জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়। নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারেও হাজারো মানুষ সমবেত হন, যার ফলে ব্যস্ত সড়কগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।
এবারের আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে মিনেসোটা। সেন্ট পল-এর স্টেট ক্যাপিটল ভবনের সামনে আয়োজিত সমাবেশে রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন বিক্ষোভকারীদের সংহতি জানিয়ে গান পরিবেশন করেন। তবে কিছু এলাকায় সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেসে একদল বিক্ষোভকারী ফেডারেল ভবন ঘেরাও করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হন এবং একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ডালাসসহ কিছু শহরে পাল্টা-বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
বিক্ষোভ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রশাসনের মুখপাত্র আন্দোলনকে ‘ট্রাম্প ডের্যাঞ্জমেন্ট থেরাপি সেশন’ বলে আখ্যা দিয়ে একে গুরুত্বহীন বলে দাবি করেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চাপ বাড়াবে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে। ২০২৫ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এনেছেন। অঙ্গরাজ্যের আপত্তি উপেক্ষা করে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনসহ নানা পদক্ষেপ তার ক্ষমতার বিস্তার ঘটিয়েছে বলে সমালোচকদের দাবি। যদিও ট্রাম্প নিজেকে ‘রাজা’ হিসেবে অভিহিত করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, তিনি কেবল একটি সংকটাপন্ন রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এই আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বমঞ্চেও। প্যারিস, লন্ডন ও লিসবনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শহরে প্রবাসী মার্কিনিরা বিক্ষোভ করে ট্রাম্পের অভিশংসনের দাবি জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে ‘নো কিংস’ আন্দোলন এখন শুধু একটি স্লোগান নয় বরং এটি পরিণত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক শক্তিশালী গণআন্দোলনে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন