জুলাইুআগস্ট ২০২৪-এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে সিলেটের ছাত্র-জনতার অগ্রণী ভূমিকা দলিলবদ্ধ করে প্রকাশিত হয়েছে প্রামাণ্য গ্রন্থ ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান (সিলেট পর্ব : জুলাইুআগস্ট ২০২৪)’। এক উত্তাল সময়ের সংগ্রাম, স্বপ্ন, আত্মত্যাগ ও নাগরিক চেতনার জীবন্ত সাক্ষ্য হয়ে বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান রূপ নেয় স্মৃতি, শ্রদ্ধা ও দায়বদ্ধতার এক আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজনে।
৩১ জানুয়ারি (শনিবার) সকাল ১১টায় সিলেট প্রেসক্লাবে হরপ্পা পাবলিকেশন্স (লন্ডন-ঢাকা)-এর উদ্যোগে এ প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাইুআগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সিলেটের ছাত্র-জনতার ভূমিকা নিয়ে রচিত এ গ্রন্থটি কেবল একটি বই নয়, বরং একটি সময়ের প্রামাণ্য ইতিহাস সংরক্ষণের সুসংগঠিত প্রয়াস।
সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূরুএর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হরপ্পা পাবলিকেশন্সের পরিচালক ও সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন, গ্রন্থটির সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন, শিক্ষাবিদ কর্নেল (অব.) সৈয়দ আলী আহমদ, গ্লোবাল জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব, দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সিলেট ব্যুরো প্রধান আবদুল কাদের তাপাদার, যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা শেখ ফারুক আহমদ, প্রবাসী আবুল কালাম ছোটন, শামীম আহমদসহ বিশিষ্ট সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, প্রবাসী প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের ব্যক্তিত্বরা।
অনুষ্ঠানে জাতীয় ব্যক্তিত্ব, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, সাংবাদিক এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি আয়োজনটিকে আরও অর্থবহ করে তোলে। বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর সিলেটের দেয়ালে দেয়ালে ছড়িয়ে পড়া গ্রাফিতিগুলো ছিল নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন, প্রতিবাদ ও আকাঙ্ক্ষার শক্তিশালী ভাষা। দেয়াললিখনে ফুটে উঠেছিল বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক এক নতুন বাংলাদেশের কল্পচিত্র। সেই স্বপ্ন বুকে ধারণ করেই আত্মদান করেছিলেন সিলেটের সাহসী সাংবাদিক শহীদ এটিএম তুরাবসহ অনেকে।
হরপ্পা পাবলিকেশন্সের পরিচালক শামসুল আলম লিটন তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ইতিহাস কখনো নিজে নিজে সংরক্ষিত হয় না; ইতিহাসকে সংরক্ষণ করতে হয় দায়িত্ববোধ, সততা ও সাহস দিয়ে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল প্রজন্মের জাগরণের সময়। সিলেটের তরুণরা যেভাবে রাজপথ, দেয়াললিখন ও সাংস্কৃতিক প্রতিবাদের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে, তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চরিত্র গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।
এই বইয়ের মাধ্যমে আমরা আবেগ নয়, প্রমাণ ও দলিলভিত্তিক ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে চাই।” গ্রন্থটির সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন বলেন, “এটি কোনো স্মৃতিচারণমূলক সংকলনমাত্র নয়; আমরা চেষ্টা করেছি প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনা, দলিল, ছবি, গ্রাফিতির ভাষা, সংবাদসূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ঘটনাপ্রবাহকে প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপন করতে। ইতিহাস যেন বিকৃত না হয়- এই দায় থেকেই আমাদের কাজ।” তিনি জানান, বইটি ভবিষ্যতে গবেষক, শিক্ষার্থী ও ইতিহাস-অন্বেষীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
মন্তব্য করুন