পার্থ সারথী দেব, মিশিগান ব্যুরো
২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার নামে রাস্তার নামকরণ অনুমোদন ও পরবর্তীতে বাতিল এবং আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিরা

মিশিগান অঙ্গরাজ্যের হ্যামট্রাম্যাক শহরে দুটি রাস্তার নাম বাংলাদেশের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার নামে নামকরণ অনুমোদন এবং পরবর্তীতে তা বাতিলের মধ্য দিয়ে মিশিগান প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যে বিবাদ, হিংসা, পরশ্রীকাতরতা, দলবাজীর বিষয়টি আবারো ন্যাক্কারজনক ভাবে জনসম্মুখে প্রকাশিত হলো। এতে অন্যান্য কমুউনিটির লোকজন দেখলো আমরা কত সাধারণ একটা বিষয় নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়ে নিজেদেরই ক্ষতি করছি।

 

 

 

সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে জানা যায়, গত ৬ জানুয়ারি কাউন্সিল সদস্য মোহাম্মদ হাসানের প্রস্তাবে কার্পেন্টার স্ট্রিটের নাম বেগম খালেদা জিয়ার নামে রাখার সিদ্ধান্ত ৪–২ ভোটে অনুমোদিত হয়েছিল। অন্যদিকে ১৩ জানুয়ারির সভায় কাউন্সিল সদস্য আবু আহমেদ মুসা ক্যানিফ স্ট্রিটের নাম শেখ হাসিনার নামে রাখার প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা ৩–২ ভোটে অনুমোদন পায়। সভায় উপস্থিত হ্যামট্রাম্যাক শহরের অধিবাসীরা ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও রাস্তার নামকরণের পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। কেউ কেউ এসব আলোচনায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার নামে তাদের করা ভাল কাজ, মন্দ কাজসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডের ফিরিস্থি দেন বলে জানা গেছে।

 

 

 

সভায় উপস্থিত একজন সংবাদ কর্মী জানান, বাংলাদেশের রাজনীতি, রাজনিতিক নিয়ে এমন আলোচনায় বিরক্ত হয়ে কাউকে বিরুপ মন্তব্য করতে শুনা যায়। এরপর ১৩ জানুয়ারি রাতে মেয়র অ্যাডাম আলহারাবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিটি কাউন্সিল ৩–২ ভোটের ব্যবধানে বিদেশি রাজনৈতিক নেতাদের নামে রাস্তার নামকরণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়। হ্যামট্রাম্যাক শহরে রাস্তা বা স্থাপনার নাম বিদেশি কোনো রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রীর নামে রাখা যাবে না। শুধু মাত্র যারা হ্যামট্রাম্যাক শহরের জন্য নিবেদিত বা শহরের উন্নয়নে, যে কোন কল্যাণ মূলক কাজে ভূমিকা রাখবেন তাদের নামে রাখা যাবে।

 

 

 

এমনই একটি সিদ্ধান্ত নিলেন হ্যামট্রাম্যাক সিটি কাউন্সিল। মেয়র অ্যাডাম আলহারাবীর ও হ্যামট্রাম্যাক সিটি কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্ত হ্যামট্রাম্যাকবাসীর অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই বিষয়টি নিয়ে এখনো আলোচনা, সমালোচনা বিদ্যমান। এই বিষয়টি একটু খতিয়ে দেখলে বুঝতে কষ্ট হয় না যে একদল যখন একজনের নামে রাস্তার নামকরণের প্রস্তাব করেছেন তখন অন্যদলও আরেকজনের নামে রাস্তার নাম প্রস্তাব করেছেন এবং এ নিয়ে তর্ক, বিতর্কে লিপ্ত হয়েছেন। ফলাফল কারো জন্যই ভাল বা সুখকর হয়নি এবং এতে বাংলাদেশের রাজনীতির যে ধারা বা সংস্কৃতি চলমান তা এখানেও প্রচলনের একটা প্রচেষ্টা কেউ কেউ যে করছেন তা ঘটনা প্রবাহে কিন্তু প্রতীয়মান হচ্ছে যা আমাদের বাংলাদেশিদের জন্য সুখকর নয়। এসব খবর স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম, পত্রিকা ও টিভিতে ছাঁপানো ও দেখানো হচ্ছে যা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।

 

 

 

এসব খবরে কে আওয়ামী লীগ করেন আর কে বিএনপি করেন তার খবর আসে না, এখানে খবর হয় বাংলাদেশের মানুষের অর্থাৎ আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের (বাংলাদেশি আমেরিকান)। আমরা প্রবাসে যে যেখানে দাড়িয়ে আছি না কেন প্রতিটি বাঙালিই বাংলাদেশের একেকজন প্রতিনিধি। আমরা এখানে কোন ভাল কাজ করলে, উদ্ভাবন করলে তাতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জল হয়, আবার খারাপ কিছু করলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ নিয়ে আমি এর আগেও লিখেছি কিন্তু মিশিগানে একের পর এক এধরণের ঘটনা ঘটে চলেছে যা অনভিপ্রেত। মিশিগানে এর আগেও এধরণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ২১শে ফেব্রুয়ারির শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে পুষ্পস্তবক দেয়া নিয়ে ঘটনার সুত্রপাত হয় পরে গালাগালি, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এতে একজনের মাথা ফেটে যায় এবং তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে এবং পরিস্থিতি শান্ত করে।

 

 

 

পুলিশ এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করে। সেই রক্তাক্ত ছবি, পুলিশ যে একজনকে গ্রেফতার করেছে, গালাগালির ভিডিও ও ছবি তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছিল। খেলা, মেলা, কনসুলেট অফিসের অস্থায়ী কার্যালয়ের কার্যক্রম নিয়ে মারামারি, মামলা, গ্রেফতারের ঘটনা এখানে অতীতে ঘটেছে। একের পর এক এমন ঘটনায় মিশিগান প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মিশিগানে প্রায় অর্ধ লক্ষ বাঙালির বাস। এখানে বাঙালি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের সংখ্যা তিন শতাধিক। কিন্তু একটি শক্তিশালী বাঙালি কমিউনিটি বিনির্মাণে এসব সংগঠন সঠিক ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। আমি এখানের (প্রবাসী বাংলাদেশিদের) বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সংগঠনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেলে একটা জিনিষ খুব মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করি এসব অনুষ্ঠানে এখানে জন্ম নেয়া বা বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি খুবই কম।

 

 

 

আলাপকালে তারা জানায়, এসব অনুষ্ঠানে মূলত বক্তৃতা, আলোচনা, খাওয়া দাওয়া হয়ে থাকে, কোন ভাল পরিকল্পনা, ভবিষ্যত দিকনির্দেশনা, কমুউনিটির উন্নয়ন চিন্তা, চেতনা বেশীরভাগ সংগঠনের নেই বললেই চলে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে একটি সুন্দর কমুউনিটি উপহার দেয়া, তাদেরে বাংলা, বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষার ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানোর জন্য কমুউনিটির নের্তৃবৃন্দকে দলাদলি ভূলে এক হয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের পরিচয় আমরা বাঙালি, আমরা বাংলদেশি, আমরা সুন্দর একটি জীবন ও জীবিকার জন্য বাংলাদেশ থেকে উন্নত বিশ্বে এসেছি, এখানের সুযোগ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আমরাও যে ভাল কিছু করতে পারি তা বহির্বিশ্বেকে দেখিয়ে দিতে হবে, তাতেই হবে আমাদের স্বার্থকতা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডেট্রয়েটে মা গ্রোসারী এন্ড সুপার মার্কেট–এর গ্র্যান্ড ওপেনিং, রমজান উপলক্ষে বিগ সেল

কারাগারে গণতন্ত্রের অংশগ্রহণ: শুরু হলো কারাবন্দীদের ভোটগ্রহণ

মিশিগানে সিলেট-৪ আসনের মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হকের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত

এপস্টেইন ফাইল: কেন হঠাৎ বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রে?

শেষ মুহূর্তে অর্থায়ন মিললেও আংশিকভাবে শাটডাউনে যুক্তরাষ্ট্র সরকার

যাত্রা শুরু করল ‘সারা ব্রাইডাল’, জমকালো আয়োজনে উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রে ঘরোয়া ফ্লাইটে রিয়েল আইডি বাধ্যতামূলক, ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর

যুক্তরাজ্যের চীন চুক্তিকে ‘বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত’ বললেন ট্রাম্প

পাকিস্তান ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি

জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি প্রেস হিসেবে যোগদান করলেন মেধাবী কর্মকর্তা মো: সালাহ উদ্দিন

১০

মার্কিন ভিসানীতিতে পরিবর্তন: সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয়রা

১১

কমলগঞ্জে খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী জনসভা – প্রধান অতিথি মাওলানা মামুনুল হক

১২

মুক্তহাতে দুঃসাহসিক আরোহণ, নতুন রেকর্ড গড়লেন অ্যালেক্স হনল্ড

১৩

কী এই ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম, কেন চালু হচ্ছে?

১৪

খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার নামে রাস্তার নামকরণ অনুমোদন ও পরবর্তীতে বাতিল এবং আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিরা

১৫

সহনশীল পাড়া-মহল্লা: ডিপলি রুটেড গার্ডেনস কৃষ্ণাঙ্গ কৃষকদের জন্য বাধা কমাচ্ছে

১৬

বরফের চাদরে নিউইয়র্ক–মিশিগানসহ বহু অঙ্গরাজ্য, গৃহবন্দি কোটি মানুষ

১৭

নীরবে শরীর ধ্বংস করছে ডায়াবেটিস: লক্ষণ বুঝলেই বিপদ এড়ানো সম্ভব

১৮

শীতে বিপর্যয়: যুক্তরাষ্ট্রে তুষারঝড়ে ১১ জনের প্রাণহানি

১৯

নিলামে ইতিহাস: ৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় বিক্রি ডন ব্র্যাডম্যানের ব্যাগি গ্রিন

২০