মার্কিন ভিসা বন্ডের তালিকায় বাংলাদেশসহ ৩৮ দেশকে যুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। নতুন এই নীতির আওতায় এসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা আবেদনের সময় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’ দিতে হতে পারে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে—ভিসা বন্ড কি কিংবা পাইলট প্রোগ্রাম কীভাবে কাজ করে?
প্রথমত, ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত। কোনো দেশের সরকার নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের অস্থায়ী ভিসা দেওয়ার আগে এ ধরনের বন্ড বা জামানত নিতে পারে। উদ্দেশ্য একটাই—ভিসাধারীরা যেন ভিসার শর্ত মেনে চলেন। সেই সাথে, নির্ধারিত সময় শেষ হলে ভ্রমণকারীরা যাতে দেশটি ত্যাগ করেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্ট করা হয়েছে। পোস্টে ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম কীভাবে কাজ করে, সেই প্রক্রিয়াটি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
পোস্টে লেখা হয়েছে, ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর যোগ্য হলে কনসুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীকে pay.gov–এর সরাসরি লিংকসহ পরিশোধের নির্দেশনা দেবে।
আবেদনের ৩০ দিনের মধ্যে বন্ড পরিশোধ করতে হবে। তবে, সর্বোচ্চ ৩ মাস মেয়াদি, একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা দেওয়া হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কিছু ‘পোর্ট অব এন্ট্রি’ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে। বাংলাদেশি যাত্রীরা যে ৩টি এয়ারপোর্ট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন সেগুলো হলো—বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট ও ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট।
এই নির্ধারিত এয়ারপোর্টগুলো ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা বের হলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হবে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ওয়েবসাইটে জানানো হয়। দেশে ফিরে আসার পর ভিসার সব শর্ত পূরণ হলে বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তবে ‘ভিসা বন্ড’ শর্তের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরা।
উল্লেখ্য, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা ‘বি-১’ বা ‘বি-২’ ভিসা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন করতে পারবেন। তবে, সেক্ষেত্রে আবেদনকারী ব্যক্তিকে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড জমা দিতে হবে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় এই জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
মন্তব্য করুন