৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ছিলেন সৃজনশীল কাজের প্রেরণাদাতা

কবি ফজলুল হক আমাদের বলে গেলেন জীবন খরচ করে জেনেছি দুঃখের তপস্যাই জীবন।

ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন আমার বড় আপনজন। যাঁর কাছ থেকে শিখেছি কীভাবে সৎ জীবন-যাপন করতে হয়, কীভাবে ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে জয় করতে হয়, এই মহান মানুষটির হাত ধরে আমি কলম ধরা শিখেছি। আমার জীবনে প্রথম যে বইটি লিখেছিলাম কবির হাতে প্রচ্ছদ করা ছিলো।

বিয়ানীবাজারে আমার ঠিকানা ছিলো ফজলু ভাইয়ের আল-আমিন প্রেস আর পেপার এজেন্সী, আর শেষ আড্ডা হতো বকুলদার হোটেল। আমার জীবনের দীর্ঘ ১৫ বছর ফজলু ভাইর সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম, আজ ফজলু ভাই নেই, বকুলদার হোটেল আছে কিন্ত হোটেলের সেই গৌরা নেই যাকে বলতেন গৌরা দুইটা চা আর দুইটা জুলাফি দে! আজ হৃদয়টা দুমড়ে-মুচড়ে খানখান হয়ে যাচ্ছে কত শত স্মৃতি আমায় নীরবে পোড়াচ্ছে। তিনি ছিলেন আমার ভরসার জায়গা। সাহিত্য-সংস্কৃতি-রাজনীতি থেকে শুরু করে জগৎ সংসারের সবই শেয়ার করার মতো একজন। ছিলেন আমার সব সৃজনশীল কাজের প্রেরণাদাতা। রোদ বৃষ্টিতে তিনি ছিলেন ছাতার মতো। জীবনে প্রথম যে দিন আমি কবিতা লিখি সে দিন ফজলু ভাইকে দেখালাম তিনি কবিতাটি পড়ে মুচকি হেসে বললেন তোর কবিতায় প্রাণ আছে তুই একদিন মাটির কবি হবে। একটি কথা বলি তুই যেখানে যাবি কখনো লেখা ছাড়বিনা। আজও কবিকে দেয়া কথা রেখে চলছি, জানিনা কতোটুকু লিখতে পারি তারপরেও চেষ্টা করে যাই।

মনীষাদীপ্ত পঞ্চখণ্ডের উজ্জ্বলতম ব্যক্তিত্ব, আশির দশকের কবি, বড় অভিমান নিয়ে চলে গেলেন পরপারে কিন্ত আমরা কবিকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছি, দিতে পারিনি তার যোগ্য সম্মান। গত বছর দেশে গিয়েছিলাম কিন্তু বিয়ানীবাজারে যাওয়ার তাড়না খুব একটা অনুভব করিনি। কারণ বিয়ানীবাজারে যে ফজলুল হক নেই। সন্তান‌দের লেখাপড়ার প্রয়োজ‌নে তিনি সিলেট শহরে বসবাস শুরু করেছিলেন। শত ব্যস্ততার পরেও একদিন ফজলু ভাইর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম উনার সিলেটের বাসায়, বুকে জড়িয়ে নিয়ে বললেন অনেক দিন পরে তরে পেয়ে আমি অনেক কষ্ট মুহূর্তে ভুলে গেছি। ঘন্টা চার এক ছিলাম, এ দেখাই শেষ দেখা!

আমি ঘুম থেকে উঠে ফেসবুক খুলে যখন সেই দুঃসংবাদটা শোনলাম মুহূর্তে আমার পৃথিবীটা তছনছ হয়ে যায়। নিজেকে কোনভাবে বুঝাতে পারিনি, নিজের অজান্তে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলি। কবি ছিলেন আমার বড় ভাই, বন্ধু, সেই সাথে ছিলেন আমার গুরু। ছিলেন আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি এক আপনজন। ফজলু ভাই, বিয়ানীবাজা‌রে যখনই কোনো সৃজনশীল কর্মকাণ্ড প‌রিচা‌লিত হ‌বে তখনই আপনার প্রয়োজনীয়তা অনিবার্যভা‌বে অনুভূত হ‌বে। আপনি থাকবেন আমাদের অস্থিত্বজুড়ে। আমাদের যা কিছু অর্জন তা অনায়াসে স্বীকার করবে আপনার স্বতন্ত্র উপস্থিতি। আপনাকে বিদায় বলবো না। আপনি থাকবেন আমাদের সঙ্গেই। বেঁচে থাকবেন সৃষ্টি আর সৃজনশীলতার মাঝে। আপনি পরপারে অনেক ভালো থাকবেন আমার বিশ্বাস, আমি কথা দিচ্ছি আপনার সন্তানদের মাথার উপর আপনার মতো ছায়া হয়ে থাকবো আজীবন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বারহাম সালিহ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসী তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

মেডিকেইডের ওষুধের দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন নীতি ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মী ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি আরও এক বছর

তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে আবার বাড়ল সুদের হার

১৮ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রিনকার্ডে নতুন পাবলিক চার্জ নিয়ম

গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবসায় লাগাম, মার্কিন নজরদারিতে প্রতিষ্ঠানটি

বিজিবির অভিযানে মাদক-অস্ত্রসহ ৯১৩ কোটি টাকার পণ্য জব্দ, আটক ২৮১

১০

ডেট্রয়েট থেকে আটলান্টিক সিটি, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তৃত উপস্থিতি

১১

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমাতে ডলারের বিকল্প খুঁজছে বিভিন্ন দেশ

১২

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সঙ্গে বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র

১৩

গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে নতুন নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রে, যাচাই হবে স্পনসরের ক্রেডিট তথ্য

১৪

সৌদি আরবে ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

১৫

ডাকযোগে ভোটের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের উদ্যোগে বাধা

১৬

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ভোটের অভিযোগে ৭ গ্রিন কার্ডধারী গ্রেপ্তার

১৭

ছয় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ার হার সর্বোচ্চ

১৮

প্রথমবার প্রকাশ্যে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

১৯

নবীনদের বরণ, গ্র্যাজুয়েটদের বিদায়: ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বিজিএসএ’র যাত্রা শুরু

২০