৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

দান নয়, আসুন দায়িত্ব পালন করি

‘বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি’ গানটি খুব প্রিয় ছিলো ফজলু ভাইয়ের। বৃষ্টির দিনে অসংখ্যবার তাকে গুনগুন করে গাইতেও দেখেছি। সেই শ্রাবন দিনেই আমাদের অগ্রজ কবি ফজলুল হক চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিয়ানীবাজারের পিতৃভূমিতে। শ্রাবণধারা যদি সব দুঃখ ধুয়ে নিয়ে যেতো তাহলে আর বলার কিছু ছিলো না।
কবি কি আগে থেকেই প্রস্থানের খবর জেনে গিয়েছিলেন? আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে নিজের একটি ছবি পাঠিয়ে লিখলেন, ‘ছবিটি রেখে দিও, হয়তোবা কাজে লাগানো যাবে, কোন একদিন।’ আর ১৩ জুলাই তার নিজহাতে দুই প্রিয়জনকে লেখা চিরকুট আসলেই আমাদেরকে ব্যথিত করে। শেষ দুই লাইনে তিনি লিখেছেন, ‘‘জীবন খরচ করে জেনে গেলাম ‘দুঃখের তপস্যা এ জীবন’’।

অবসরপ্রাপ্ত ছোট চাকরিজীবী ফজলুল হকের জীবনে সংকট ছিলো, বিশেষ করে তিন সন্তানকে পড়ালেখা করাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন। তবে একই সঙ্গে ছিলো প্রবল আত্মসম্মানও। কাউকে মুখ ফুটে কোনোদিন নিজের কষ্টের কথা জানাতে চাননি। ফলে সাম্প্রতিক অসুস্থতার খবরে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহযোগিতার আহবান জানালে সবচেয়ে বেশি বিব্রত হয়েছিলেন তিনি নিজে। সিলেটে তাকে দেখতে গেলে বাকশক্তি ক্ষীন অবস্থায় আস্তে আস্তে কানে কানে বলেছিলেন, এখনও জানি না কী হয়েছে, কত টাকা লাগবে? এই অবস্থায় ফেসবুকে হাত পেতে ফেললে আমার মান-সম্মান আর কিছু থাকে ! অবসরে গিয়ে যে টাকা পেয়েছি আমি চাই তা দিয়েই চিকিৎসা শুরু হোক। যদি একান্ত বিপদে পড়ি তখনও ফেসবুকে নয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে তোমাদেরকে জানাবো।’ আরেকটি আকুতি ছিলো ‘ টাকা চাই না, আমাকে ঢাকায় নিয়ে ভালো ডাক্তারের হাওলা করো। এই ক্ষেত্রে আমি তোমার উপরই নির্ভর করতে চাই।’

ফজলু ভাইকে ঢাকায় আনা হলো। ডাক্তার দেখানো হলো। পরীক্ষা নিরীক্ষাও শুরু হলো। প্রাথমিকভাবে ধরা পড়লো টিবি হয়েছে। ব্যবস্থাপত্র নিয়ে তিনি সিলেট গেলেন। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হচ্ছে বলেও জানলাম। কথা ছিলো আবার আসবেন ২৪ জুলাই কিন্তু জ্বরের কারণে আসতে পারেননি। আর সর্বশেষ ২৬ জুলাই মস্তিষ্কে মারাত্বক রক্তক্ষরণে তিনি চলে গেলেন সবকিছুর উর্ধ্বে। এতো তাড়াতাড়ি এভাবে যেতে হয়? চিকিৎসার যে দায়িত্ব নিয়েছিলাম সেটাতো শেষ হলো না। কবির শুভাকাঙ্খীদের আমি কি জবাব দেবো? ফজলু ভাইয়ের জন্য অনেকেই অনেক কিছু করতে চেয়েছেন। ফেসবুকেও দেখছি শোকের বন্যা। সবার উদ্দেশ্যেই বলি, দায়িত্ব পালনের আসল সময় কিন্তু এখন। কবির তিন সন্তানের একজন এখনও কলেজ পর্যায়ে, আর বড় দুজনের একজন চুয়েটে আর একজন মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। তারা অত্যন্ত মেধাবী। শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে তাদের লেখাপড়া চালানোর পথ সুগম করতে পারলে আমাদের একটা দায়িত্ব শেষ হবে। তিনটি কবিতার বই আছে ফজলু ভাইয়ের, আছে অগ্রন্থিত আরও কিছু রচনা। সব মিলে তার রচনা সমগ্র প্রকাশ করা গেলে আরেকটি দায়িত্বও শেষ হবে।

দান নয়, আমরা দায়িত্ব পালন করতে চাই। কবি ফজলুল হকের প্রিয়জন ও শুভাকাঙ্খি সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ আসুন আমরা সবাই মিলে কথা বলি, উদ্যোগ নেই, দায়িত্ব পালন করি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হোয়াইট হাউসের নেতৃত্বে পরিবর্তন, চিফ অব স্টাফ হলেন স্টিফেন মিলার

১

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে আইপ্যাকের ব্যয় ৮৪ মিলিয়ন ডলার, ৫৫ মিলিয়নই বিফলে

২

বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে বড় ধস, যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষতি ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার

৩

আটক অভিবাসীদের অবস্থান প্রকাশে বাধা, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে চার সংস্থার মামলা

৪

কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাম্প কি শুল্ক ও অভিবাসন নীতি ধরে রাখতে পারবেন?

৫

বিজয় ভাষণে জেডি ভ্যান্সকে কেন ‘হাবিবি’ বললেন আবদুল আল-সাঈদ

৬

মিশিগানে বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতির নতুন কমিটির অভিষেক ১৫ নভেম্বর

৭

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে নতুন ইতিহাস গড়লেন ১০ প্রার্থী

৮

গ্রিনকার্ড ও ওয়ার্ক পারমিটের আবেদনে কঠোর হচ্ছে ইউএসসিআইএস

৯

স্পিকার পদে কৃষ্ণাঙ্গ নেতৃত্ব, নতুন ইতিহাসের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র

১০

‘ট্রাম্পই এখনো প্রেসিডেন্ট’, সোশ্যাল মিডিয়ায় হোয়াইট হাউস

১১

মার্কিন কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ পেয়ে ডেমোক্র্যাটদের সামনে যেসব সুযোগ

১২

কমলগঞ্জে প্রবাসীর বাড়িতে চুরির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য, ক্ষতি ৩ লাখ টাকা

১৩

সহজে পালনীয় নবীজির ২০টি সুন্নত

১৪

নিত্যজীবনের ১০টি অবহেলিত সুন্নত

১৫

মার্কিনকর্মীদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

১৬

বাড়বে শীত: আগাম প্রস্তুতিই নিরাপত্তার প্রধান শর্ত

১৭

রোড ক্র্যাশ নিরসন: শুধু আইন নয়, সকলকেই দায়িত্ব নিতে হবে

১৮

মিডটার্ম ইলেকশনে ব্যালটে নেই ট্রাম্প, তবু পরীক্ষাটা তাঁরই

১৯

আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন: আইরিন খান

২০