
টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার আমলীতলা খেলার মাঠে গারো আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাংসারেক ধর্মীয় রীতিনীতির অনুষঙ্গ হিসেবে পালিত হলো আ’বিমা ওয়ানগালা উৎসব ২০২২। “ঐতিহ্য ও উচ্ছ্বাসে ঢেউ উঠুক নবজাগরণে” মূলমন্ত্রে গত ৪ নভেম্বর (শুক্রবার) দিনব্যাপী সাংসারেক কমিউনিটি বাংলাদেশ আয়োজিত ওয়ানগালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য জুয়েল আরেং।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। আ’বিমা ওয়ানগালা আয়োজনের আহবায়ক ওয়ারি নকরেক মারাক (নকমা)-এর সভাপতিত্বে এবং সতীর্থ এফ চিরান, রুথ রজেলি রেশার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু, মধুপুর পৌরসভার মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন আরিফ, মধুপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. ইয়াকুব আলী, মধুপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ আহমেদ নাসির, ঢাকার গবঃ ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের জৈষ্ঠ্য শিক্ষক ইরশাদ জাহান চৌধুরী, সাউথ এশিয়ান এসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কোঅপারেশনের (সার্ক) অর্থনীতিবিদ আবুল কাসেম, মধুপুরের মেট্টো হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল রনি, মধুপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, অরনখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম, অরনখোলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাসান ইমাম মিন্টু, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউজিন নকরেক, মধুপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান যষ্ঠিনা নকরেক, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন মধুপুর শাখার চেয়ারম্যান উইলিয়াম দাজেল, কবি ও সাহিত্যিক ফিডেল ডি সাংমা, আচিক মিচিক সোসাইটির চেয়ারপারসন সুলেখা ম্রং।

তিনটি পর্বে আয়োজিত ওয়ানগালার প্রথম পর্বে সকালবেলা দেবতার উদ্দেশ্যে ফসল উৎসর্গের (পূজা-অর্চনা) মাধ্যমে শুরু হয় দিনব্যাপী আয়োজন। এরপর ক্রমান্বয়ে গোরেরোয়া ও কামাল গ্রিকা সহ সাংসারেক ধর্মীয় পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয় পর্বে আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্য এবং ঢাকা কালচারাল গ্রুপের পরিবেশনায় নৃত্য পরিবেশন হয়। তৃতীয় পর্ব তথা সমাপনী আয়োজনে ছিল ওয়ানগালা স্পেশাল কনসার্ট। ওয়ানগালা স্পেশাল কনসার্টের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ভারতের মেঘালয় রাজ্যের জনপ্রিয় দা সুরাকা ব্যান্ডদলের অংশগ্রহণ। মধুপুরের আমলীতলা মাঠে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যরাত পর্যন্ত মাতিয়ে রাখে দা সুরাকা ব্যান্ডদল। স্পেশাল কনসার্টে অংশ নেয় বাংলাদেশের রেরে, সাক্রামেন্ট, জুমাঙ, মাদল, হিবক্লাউ, তান্ত্রিক, জাগরিং এবং রেড টোয়াইলাইট ব্যান্ডদল। এছাড়াও সংগীত পরিবেশন করেন সবুজ মাজি ও যাদু রিছিল।
গারোদের আদি এবং নিজস্ব সংস্কৃতি ও ধর্ম দুটোই বিলুপ্ত প্রায়। আদি সংস্কৃতি ও ধর্ম বাঁচিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে সাংসারেক কমিউনিটি বাংলাদেশ বয়োবৃদ্ধের সঙ্গের তারুণ্যের সম্মিলন ঘটাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এরই অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হলো আ’বিমা ওয়ানগালা।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওয়ানগালায় আসা দর্শনার্থীদের জন্য সাংসারেক কমিউনিটি বাংলাদেশ জলছত্র আমলীতলা মাঠের নিকটবর্তী শালবনের প্রাকৃতিক পরিবেশে তাঁবু স্থাপনের মাধ্যমে বিশ্রাম ও রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রথমবারের মতো সাংসারেক কমিউনিটি বাংলাদেশের আ’বিমা ওয়ানগালা আয়োজনে সকলের দৃষ্টি কাড়ে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল আমলীতলা মাঠে। প্রাকৃতিক মনোমুগ্ধকর পরিবেশে রাত্রি যাপন আগত অতিথিদের মনে আনন্দ-উচ্ছাস বাড়িয়ে দেয় বহুগুন। বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের অংশগ্রহণের ফলে আয়োজনটি রূপ পায় সার্বজনীন উৎসবে, পরিণত হয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মিলন মেলায়।

দিনব্যাপী এ আয়োজন কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের ঢল নামে মধুপুর জলছত্রের আমলীতলা মাঠে। মধুপুরের মেট্টো হসপিটালের সৌজন্যে আ’বিমা ওয়ানগালা আয়োজনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। আ’বিমা ওয়ানগালায় অস্থায়ী বিভিন্ন পণ্যের ষ্টল বসে।

আয়োজন সহযোগিতায় ছিলেন আমলীতলা গ্রামবাসী, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন মধুপুর শাখা, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠন (বাগাছাস), গারো স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (গাসু), আ’বিমা গারো ইউথ এসোসিয়েশন, আদিবাসী ইউনিয়ন মধুপুর উপজেলা শাখা।
আ’বিমা ওয়ানগালা আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার ছিলো একাত্তর টিভি, বাংলা সংবাদ, গারো নিউজ টুয়েন্টিফোর এবং আইপি নিউজ বিডি।
মন্তব্য করুন