সাধারণত অন্য মৌসুমের তুলনায় শীতকালে পিপাসা কম হওয়ায় অনেকেই পরিমিত পানিপানের বিষয়ে অবহেলা করেন। এমনকি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পানিপান করেই ঘন্টার পর ঘন্টা কাঠিয়ে দেন বেশির ভাগ মানুষ। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে অন্যন্য সময়ের তুলনায় শীতকালেও পরিমিত পানি পান গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক পুষ্টি বিশেষজ্ঞ কেরোলিন ইয়াং এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ত্বকের স্বাস্থের গুরুত্ব দেন। বলেন যে শুস্ক মৌসুমে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায় ফলে দেখা দেয় বিভিন্ন ধরনের ত্বক জনিত স্বাস্থ সমস্যা। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পানের মাধ্যমে এই সব সমস্যা সহজেই দূর করা যায়।
তাছাড়াতও শীতের মৌসুমের শুষ্ক বাতাস আমাদের শরীর থেকে অধিক পরিমান পানি শোষণ করে। জেমন, আমাদের স্বাস প্রশাসের সময় অধিক পরিমান তরল শরীর থেকে বের হয়ে যায়। যার ফলে পানি পানের বিষয়ে অবহেলার সুযোগ নেই। “ইট দিস নট দেট” নামক একটি মেগাজিনে এই সব বিষয় কথা বলেন ক্যারোলিন ইয়ং।
আরেকটি স্টাডিতে দেখা যায়, পরিমিত পানি আমাদের শরীরের মধ্যে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য স্বাভাবিক রাখে। যা শুষ্ক মৌসুমে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মধ্যে পানিশূন্যতার ধারনা ও পরিষ্কার নয় যেমন কিছু মানুষ মনেকরেন পানিশুন্যতা শুধু মাত্র গরমের সময় হয় কিন্তু আসল বাস্তবতা হল শীতকালে ও এই সমস্যা হতে পারে। স্নায়ু এবং পেশির কার্যপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে ও ইলেকট্রোলাইটের ভূমিকা রয়েছে আর একমাত্র পর্যাপ্ত পানি পানের মাধ্যমেই এর ভারসাম্য নিশ্চিত করা যায়।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঠান্ডার সময় আমাদের শরীরের রুগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। যেমন খুব সহজেই আমরা ঠান্ডা জনিত সমস্যা গুলির দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যাই এর মধ্যে সরর্দী কাশি অন্যতম। তাছাড়া চুলকানি, ত্বকে ফাটল, অস্বস্তি জ্বালাপোড়া এবং অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু প্রচুর পানি পান আমাদের চামড়ার শুস্কতা দূর করে আমাদের ত্বক এর আর্দ্রতা রক্ষা করে।
দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ও পানি পানের গুরুত্ব অপরিসীম। আর শীতের সময় পর্যাপ্ত পানি পান শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। হাইপোথারমিয়া প্রতিকারের জন্য আর্দ্রতা রক্ষা করা অনেক জরুরি যা পানি পানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়। আর্দ্র থাকা ঠাণ্ডার মাস গুলিতে উষ্ণ থাকতেও সাহায্য করে কারণ তাপমাত্রার স্ব-নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা উন্নত করে শরীরের ‘থার্মোরেগুলেশন’যা নিয়ম মাফিক পানি পানের উপর নির্ভর করে।
আজকের দিনের অত্যন্ত কমন সমস্যা হলো ওজন আর এর জন্যেও আমরা শীত কালে পানির ওপর নির্ভর হতে পারি। কারণ পর্যাপ্ত আর্দ্র থাকা শীতকালে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করা বা খাবার ইচ্ছা কমানোর মধ্য দিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় হল শীতকালে শ্বাস নিতে দেহের অনেক বেশি পানির প্রয়োজন হয় কারণ শুস্কতা শ্বাসযন্ত্রের প্রক্রিয়া কিছুটা কঠিন করে ফেলেএবং ঠান্ডা আবহাওয়ার ফলে ফুসফুসের কাজ কিছুটা কঠিন হয়ে যায়। তাই পানি পানে মাধ্যমে শ্বাসযন্ত্রের ‘মিউকাস মেমব্রেন’কে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।
মন্তব্য করুন