বিশ্ব সংবাদ

ফিলিস্তিনে ‘পরিকল্পিত গণহত্যা’ বিষয়ে ইউরোপকে পদক্ষেপ নেয়ার আহবান স্পেনের মন্ত্রীর

ফিলিস্তিনে চলমান পরিস্থিতিকে ‘পরিকল্পিত গণহত্যার’ বলেছেন স্পেনের মন্ত্রী আইয়োনে বেলারা। শুধু তাই নয় এর বিরুদ্ধে ইউরোপকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৯ অক্টোবর) মাদ্রিদে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় সাংবাদিকদের সামনে একথা বলেন বেলারা। ভারপ্রাপ্ত সামাজিক অধিকার মন্ত্রীর এ বক্তব্য সামাজিক মাধ্যম এক্স প্ল্যাটফর্মে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করেন বলে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বেলারা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ আমরা দেশের ও ইউরোপের সেসব জনগণের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছি, যাঁরা পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডের সমাপ্তি চান, ইসরায়েল রাষ্ট্র দ্বারা পরিচালিত ফিলিস্তিনি জনগণের জাতিগত নিধনের সমাপ্তি চান।’ তিনি বলেন, ‘আমরা পরিকল্পিত এ গণহত্যায় জড়াতে চাই না এবং আমরা মনে করি, ইউরোপকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, ইউরোপকে এ দ্বিচারিতার জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।’ বেলারা আরও বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান কী রকম যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থের দিকে ঝুঁকে গেছে, তা দেখে জনগণ বিস্মিত।’

ইউরোপের এ সুবিধাবাদী অবস্থান আজ পরিবর্তন করা যেতে পারে উল্লেখ করে মন্ত্রী ইউরোপের দেশগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সব কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সব রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর দৃষ্টান্তমূলক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান বেলারা।

বেলারা বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই নেতানিয়াহুকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নিয়ে যাওয়া উচিত, যেন তাঁর যুদ্ধাপরাধের বিচার করা যায়। আমি জোর দিয়ে বলছি, আমাদের নীরবতা দিয়ে নয়, এই অপরাধে সহযোগিতা করেও নয়, আমাদেরই প্রয়োজন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পদক্ষেপ।’

উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালায় গাজার স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এতে ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয় এবং দুই শতাধিককে জিম্মি করা হয়। এর জবাবে গাজায় আকাশ ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৫। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৪২টি শিশু। এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৬২ জন নারী এবং ৪৬০ জন বৃদ্ধ।

Back to top button