১১ অক্টোবর ২০২৩, ৩:০২ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

গাজায় মৃত্যুর মুখে ১০০ নবজাতক, হাজারের বেশি ডায়ালাইসিস রোগী

গাজায় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে হাসপাতালে অবস্থান করা রোগী ও শিশুরা। বর্তমানে ১০০ নবজাতক ও হাজারের বেশি ডায়ালাইসিস রোগীকে বাচিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

শহরের আল-ওয়াফা হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিচালক হাসান খালাফ জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ নেই হাসপাতালগুলোকে এখন নির্ভর করতে হচ্ছে জেনারেটরের ওপর । কিন্তু হাসপাতালে অত্যাবশ্যকীয় কিছু জরুরি সেবা রয়েছে যেগুলো জেনারেটর দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

খালাফ আরও জানান, গাজার হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে ১০০ নবজাতক রয়েছে যাদের বাঁচিয়ে রাখার সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাচ্ছে। কারণ এসব শিশুকে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য বিদ্যুৎ চালিত চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তারা খুব ছোট। খুবই দুর্বল।’

এদিকে ডায়ালাইসিস করে বেঁচে থাকা এক হাজারের বেশি রোগীও এখন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। কারণ ডায়ালাইসিস মেশিনগুলো বিদ্যুৎ ছাড়া চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

বহু বছর ধরে এই শহরে অবস্থান করছেন মালয়েশিয়াভিত্তিক একটি সাহায্য সংস্থার কর্মকর্তা জিয়াদ শেহাদা। বুধবার আল-জাজিরাকে জানান, বর্তমানে জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর সময় পাড়ি দিচ্ছেন তিনি। মর্মান্তিক পরিস্থিতির শিকার গাজার বাসিন্দাদের মধ্যে খাবার, কম্বল, বালিশসহ বিভিন্ন জিনিস বিতরণের চেষ্টা করছে শেহাদার সংস্থাটি। কিন্তু সমস্যা হলো—এসব জিনিস শহরের সীমান্ত এলাকায় মজুত করে রাখা আছে। সেখানে পৌঁছার মতো পরিস্থিতি এখন আর নেই। তাঁদের সঙ্গে থাকা মজুতও এখন শেষ হয়ে গেছে।

বিদ্যুৎ না থাকায় নিজের প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মী এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছেন না শেহাদা। তিনি বলেন, ‘এটাই এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়ংকর যুদ্ধ।’
এই অবরোধকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন শেহাদা।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জের ধরে গাজায় এবার স্থল অভিযান চালাতে যাচ্ছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। গাজায় প্রবেশ করে তারা যে কোনো পরিস্থিতিতে যে কাউকে গুলি করতে পারবে—এমন অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল সরকার। এর আগে গত মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) গাজা শহরের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় সেখানে দুর্বিষহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে ।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২০২৬ বিশ্বকাপ: ৪৮ দলের তালিকা চূড়ান্ত

এপস্টিন নথি ইস্যুতে পাম বন্ডিকে বরখাস্তের পথে ট্রাম্প

মার্কিন ডলারে থাকবে ট্রাম্পের স্বাক্ষর কোনো প্রেসিডেন্ট আগে কি এমনটা করেছেন?

একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

জলবায়ু ক্ষতির তিন দশক ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে লাখো মানুষ ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্প

ফ্লোরিডায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণাঢ্য ঈদ পুনর্মিলনী-২০২৬ অনুষ্ঠিত

মিশিগানে কুলাউড়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতির পিঠা উৎসব ও ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত

কর্নেল ওসমানী যেভাবে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হয়ে উঠলেন

১০

ইরান কি আমেরিকার জন্য দ্বিতীয় ভিয়েতনাম

১১

আস্থা, অগ্রযাত্রা ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে “বাংলা সংবাদ” আটটি সফল বছর পেরিয়ে নবম বর্ষে পদার্পণ

১২

ডানকিন ডোনাটসের ফ্র্যাঞ্চাইজিকে দেড় মিলিয়ন ডলার জরিমানা

১৩

নিউইয়র্কে “হোপ নেভার ডাইস” প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী

১৪

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রচারিত হবে রাজীদ সিজনের ‘কাদিশ’

১৫

নিউইয়র্কে ৩০ লাখের বেশি অভিবাসী সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ

১৬

মার্কিন ফার্স্ট লেডির আমন্ত্রণে ওয়াশিংটনে গ্লোবাল সামিটে ভাষণ দিলেন ডা. জুবাইদা রহমান

১৭

নতুন আইআরএস নিয়মে কর ফেরত পেতে দেরি, অনেকের অর্থ ‘ফ্রিজ’

১৮

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের অধিকার সীমিত করতে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প প্রশাসন

১৯

যুক্তরাষ্ট্রে ট্যাক্স রিফান্ড জালিয়াতি মামলায় ৩ ব্যক্তির কারাদণ্ড

২০