বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং গণতান্ত্রিক
আন্দোলনের ধারায় নতুন প্রজন্ম আজ যে
ভূমিকা রাখছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
রাজনীতিতে মেধাবী নবীনদের অংশগ্রহণ
বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সঠিক গন্তব্যে
এই বিশ্বাস রাখি।
চব্বিশের জুলাই মাসে ৩৬ দিনের সংগ্রাম
শেষে তারা যে স্বাধীনতার কথা বলছে-তা
নিয়ে সমাজে কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি
হয়েছে। অনেকে ভাবছেন, জেনারেশন জেড
কি একাত্তরের মহান স্বাধীনতাকে খাটো
করছে? তাদের এই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট- না,
নতুন প্রজন্মের স্বাধীনতার ধারণা কোনোভাবে
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে না।
বরং তারা যে গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে,
তা জনগণের স্বাধীনতার পুনরুদ্ধার, যা রাষ্ট্রীয়
স্বাধীনতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
নতুন প্রজন্মের প্রতিষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের
প্রথম দায়িত্বই ছিল একাত্তরের আত্মত্যাগকে
সম্মান জানানো। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ
ইউনূসের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বৃষ্টিভেজা শ্রদ্ধা
নিবেদন স্পষ্ট করে দিয়েছে-মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা
তাদের নৈতিকতার কেন্দ্রবিন্দুতে। সংবিধানের
মূলভিত্তিই যেহেতু মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম, সে
ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ছাড়া কোনো
সাংবিধানিক সরকারের পক্ষে অন্য কিছু ভাবার
সুযোগ নেই।
৫৩ বছরে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা অবিচল থাকলেও
জনগণের স্বাধীনতা বারবার হুমকির মুখে
পড়েছে। বিগত পৌনে ১৬ বছরে এই সংকট ছিল সবচেয়ে গভীর। ভোটাধিকারহীনতা,
নিপীড়ন, লুণ্ঠন ও পরিবারতন্ত্রের দাপটে
গণতন্ত্রের মূল্যবোধ প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
বিরোধী দলগুলো যখন অসহায়, তখন মাঠে
নামে ছাত্রসমাজ। শাসকগোষ্ঠীর তাচ্ছিল্য,
অপমান, দমন-পীড়নের দেয়াল ভেদ করে তারা
আবারও প্রমাণ করেছে-নতুন প্রজন্মই এই
দেশের বিবেক।
১৯৫২, ১৯৬৯ ও ১৯৭১-এর মতোই ২০২৪
সালের গণঅভ্যুত্থানেও ছাত্রসমাজের সাহসী
নেতৃত্বে গড়ে ওঠে জাতীয় ঐক্য। এই আন্দোলন
মানুষের মৌলিক অধিকার-কথা বলার অধিকার,
ভোটাধিকার, মর্যাদা নিয়ে বাঁচার অধিকার-পুনরুদ্ধার
করেছে। তাই ৩৬ জুলাইয়ের বিজয়কে তারা যে
“স্বাধীনতা” বলছে, তা হলো জনগণের
স্বাধীনতার প্রতীক। এটি একাত্তরের স্বাধীনতার
বিকল্প নয়; বরং তারই পরিপূরক।
আজ বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম শুধু দেশের
রাজনীতিতেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার ছাত্র
আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাদের
প্রেরণায় আন্দোলন ছড়িয়েছে পাকিস্তান কিংবা
নেপালে। এই পরিবর্তন যদি দুর্নীতি, বৈষম্যহীন
সমাজ ও সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রূপ
নেয়-তবে জনগণের স্বাধীনতার পাশাপাশি
একাত্তরের ৩০ লাখ শহীদের আত্মাও শান্তি
পাবে।
নতুন প্রজন্মের এই জাগরণ আমাদের আশ্বস্ত
করে। আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ তার সঠিক
গন্তব্যে পৌঁছাবে নতুন প্রজন্মের হাতধরে। এবার
পথ হারানোর আর সুযোগ নেই।
মন্তব্য করুন